বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভের দৃশ্য হিসেবে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি ভারতবিরোধী কোনো বিক্ষোভের নয়; এটি গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের দৃশ্য।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার একটি ভিডিও পোস্ট (আর্কাইভ) করে ক্যাপশনে লিখে, “গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ, জাপানের সহায়তাপুষ্ট একটি বন্দর প্রকল্প এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বক্তব্য জোরদার হচ্ছে।”

একই ভিডিও সংবাদমাধ্যমটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে পোস্ট করা হয় গত ৩ নভেম্বর। সেখানে ক্যাপশনে আরও বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নয়াদিল্লির হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
ভিডিওটির উৎস অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতের সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটিতে একাধিক ভিডিও রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ভিডিওর সঙ্গে টাইমস নাউয়ের পোস্ট করা ভিডিওর ১২ থেকে ৪০ সেকেন্ডের অংশ হুবহু মিলে যায়। নিউজ এইটিনের ক্যাপশনে এটিকে বাংলাদেশে চলমান গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের দৃশ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও যাচাই করতে গিয়ে বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধ খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। “পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আসলে কত হওয়া উচিত” শিরোনামে প্রকাশিত মতামতে ব্যবহৃত ছবিতে একাধিক উপাদান লক্ষ করা যায় যা টাইমস নাউয়ের ভিডিওতেও দৃশ্যমান। ছবিটির নিচে ক্যাপশনে লেখা, “মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের বাধা।” ছবির সূত্র হিসেবে প্রথম আলোর নামই উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, ভিডিওটির কোনো ভারতবিরোধী আন্দোলনের দৃশ্য নয়, বরং বাংলাদেশে চলমান গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের একটি দৃশ্য।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। আন্দোলন নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক অপতথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব (১, ২)।

