হায়দরাবাদে মসজিদ নির্মাণ করতে জমি দান করেছেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা, এমন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন নিজজ পোর্টালও ফটোকার্ডটি একই দাবিতে পোস্ট করেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।
‘হ্যালোবাংলা ডট নিউজ’ নামের একটি পেজ থেকে ফেসবুকে গত ২৭ অক্টোবর ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডে সানিয়া মির্জার সাথে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের একটি ছবিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা, “ভারতের হায়দরাবাদে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করেছেন সানিয়া মির্জা।”
‘টিউবলাইট মিডিয়া’ ও ‘চ্যানেল আই’ এর ফেসবুক পেজ থেকেও সানিয়া মির্জার ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। টিউবলাইট মিডিয়ার পোস্টে বলা হয়, “টেনিস একাডেমি গড়ার জন্য কেনা নিজের জমিতে এবার মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। শুধু জমি দান করাই নয়, এই মসজিদ তৈরির সম্পূর্ণ খরচও নিজেই বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ভারতের হায়দরাবাদে সম্প্রতি এই মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও তেলেঙ্গানার মন্ত্রী মহম্মদ আজহারউদ্দিন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বড় কোনো মসজিদ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নামাজ আদায় করতে এতদিন অনেক দূরে যেতে হতো। স্থানীয়দের সেই ভোগান্তি কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই তারকা।” ( লেখা অপরিবর্তিত)
ফেসবুকের একাধিক পেজ, ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও গ্রুপ (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

ভারতের সামাজিক মাধ্যমেও (১, ২, ৩, ৪, ৫) টেনিস অ্যাকাডেমির জন্য রাখা জমিতে সানিয়া মির্জার মসজিদ নির্মাণের দাবিতে একাধিক পোস্ট করা হয়।
দাবির সত্যতা যাচাই প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এতে ইনস্টাগ্রামে সানিয়া মির্জার বাবা ইমরান মির্জার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৯ অক্টোবর করা একটি লিখিত পোস্টের ছবি পাওয়া যায়। সেখানে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে থাকা মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত রিপোর্টগুলিকে ভুয়া বলে ঘোষণা করেন। পোস্টে তিনি জানান, টেনিস অ্যাকাডেমির জন্য রাখা জমিতে মসজিদ নির্মাণের কোনো চিন্তা নেই। প্রাক্তন ক্রিকেটার মোহম্মদ আজহারউদ্দিন ও সানিয়া মির্জার যে ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে ইমরান মির্জা উল্লেখ করেন, সানিয়া বা তার পরিবারের কেনা যে কোনো জমি নিজের পছন্দমতো ব্যবহার করার সম্পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। ইমরান মির্জার মতে, সানিয়ার সমাজসেবামূলক কাজ ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়। তার সম্মতি ছাড়া এটি জনসমক্ষে প্রকাশের অধিকার কারও নেই। এ বিষয়ে ব্যবহারকারীদের ভুয়া তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ, হায়দরাবাদে মসজিদ নির্মাণে সানিয়া মির্জার জমি দান করার ভুয়া দাবি প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

