মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check report image showing a viral video falsely claiming BJP supporters attacked Muslim homes in West Bengal after the election victory, while the actual footage is from an eviction drive in Goalpara, Assam.

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের নয়, ভিডিওটি আসামে উচ্ছেদ অভিযানের

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয় লাভের পর মুসলিমদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে, দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সময়ের কোনো ঘটনার নয়, বরং আসামের গোয়ালপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযানের একটি পুরোনো ঘটনার। 

নিজেদের সংবাদমাধ্যম দাবি করা ফেসবুক পেজ ‘প্রহরী নিউজ’ থেকে গত ৫ মে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হয়েই মুসলিমদের ঘরবাড়ি ভা’ঙ’চু’র করছে বি’জেপি হি’ন্দু’ত্ব’বা’দীরা || প্রহরী নিউজ।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১৮ হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জানানো হয়েছে যথাক্রমে ৯০ হাজার এবং ৫ হাজারের বেশি। এছাড়া ভিডিওটি অন্তত ১৮ লাখ বার দেখেছেন ব্যবহারকারীরা। ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে এবং দূরে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন নারী পুরুষ কান্না করছেন।

Fact-check report image showing a viral video falsely claiming BJP supporters attacked Muslim homes in West Bengal after the election victory, while the actual footage is from an eviction drive in Goalpara, Assam.
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ভিডিওসহ একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক (, , , , ) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ দিলে ফেসবুকে “জাস্ট গোয়ালপাড়া থিঙ্গ্‌স” নামের একটি পেজের ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বরে একটি পোস্ট সামনে আসে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “গোয়ালপাড়ার দশ সংরক্ষিত বন এলাকায় সানাপুরে নিজ বাড়ি হারিয়ে প্রাণ খুলে কাঁদছে উচ্ছেদ হওয়া লোকেরা।” ফেসবুকের একাধিক (, , , ) প্রোফাইল এবং পেজ থেকেও ভিডিওটিকে আসামের গোয়ালপাড়া দাবিতে পোস্ট হতে দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ডেকান হেরাল্ড নামের ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, “আসামের গোয়ালপাড়া জেলার দহিকাটা সংরক্ষিত বনভূমিতে গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজ্যের বন বিভাগ। এই অভিযানে অন্তত এক ডজন বুলডোজার ব্যবহার করে ৫৮০টি পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদের শিকার হওয়া এই পরিবারগুলো মূলত বাংলাভাষী মুসলিম।”

Fact-check report image showing a viral video falsely claiming BJP supporters attacked Muslim homes in West Bengal after the election victory, while the actual footage is from an eviction drive in Goalpara, Assam.
আসল ঘটনার ভিডিওসহ ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এছাড়া, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বরে ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছে, “আসাম সরকার দহিকাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে ১,১৪০ বিঘা (৩৭৬ একরের বেশি) বনভূমি থেকে কথিত জবরদখল উচ্ছেদে গোয়ালপাড়া জেলায় পুনরায় অভিযান শুরু করেছে। এর ফলে প্রায় ৬০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” 

অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয় লাভের পর মুসলিমদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২৫ সালে আসামের গোয়ালপাড়ায় উচ্ছেদ অভিযানের ঘটনার।

প্রসঙ্গত, গতকাল ৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয় লাভ করে। ভোটে বিজেপির জয়ের পর থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্তে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন জায়গাসহ, একাধিক তৃণমূল অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে। 

এর আগেও ডিসমিসল্যাব পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে জড়িয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

আরো কিছু লেখা