
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, গত ৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর ৬ মে সকাল থেকে মুসলিমদের ওপর বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দৃশ্যটি ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে গত ৪ মার্চের একটি ঘটনা। সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, যোধপুরের প্রতাপ নগরে বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল্লায় যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনার দৃশ্য এটি।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে “টেবিলটক ইউকে” নামের একটি পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর আজ সকাল থেকেই তান্ডব শুরু করেছে বিজেপির সমর্থিত নেতাকর্মীরা।” ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, লাঠি হাতে একাধিক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে, বাসার দরজায় আঘাত করছে। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর মুসলিমদের অবস্থা করুন।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৬৯ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে ২ হাজার ৫০০ বারের বেশি। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৪ হাজার ৩০০-র বেশি ব্যবহারকারী।

ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে ভিডিওটি একই দাবিতে শেয়ার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল ৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয় লাভ করে।
সত্যতা যাচাইয়ে কি-ফ্রেম ধরে সার্চ করলে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে “টাইমস অব মহারাষ্ট্র নিউজ” এর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে গত ৬ মার্চে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে সামান্য বিতর্ক থেকে রণক্ষেত্র যোধপুর! গুন্ডাবাহিনীর তাণ্ডবে ভাঙচুর একাধিক যানবাহন। যোধপুরে একটি বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে বিশাল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে একদল দুষ্কৃতকারী এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এবং বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এ ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এছাড়াও, ইনস্টাগ্রামের একাধিক অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩, ৪, ৫), ফেসবুকে এবং ইউটিউব থেকে যোধপুরের ঘটনার দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে।

অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, দিক্সিত পরিহার নামের যোধপুরের একজন সাংবাদিক নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে গত ৪ মার্চে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা, “প্রতাপ নগর এলাকায় সমাজবিরোধীদের তাণ্ডব; ভাঙচুর করা হলো একাধিক যানবাহন। হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকা জুড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে একদল দুষ্কৃতকারী। গলিতে পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলগুলো উল্টে দেওয়া হয় এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।”
অর্থাৎ, জয়ের পর মুসলিমদের ওপর বিজেপির হামলার দাবিতে রাজস্থানের পুরোনো ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে।
তবে বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্তে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন জায়গাসহ, একাধিক তৃণমূল অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে।