
চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, দুই ভারতীয় সেনাকে আটক করেছে চীনা সেনারা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
সত্য কথা সত্য ঘটনা নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ৩০ জুন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “দুই ভারতীয় সেনাকে আটক করেছে চীনা সেনারা!” (বানান অপরিবর্তিত)। ১৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে চীনের পতাকার সামনে চীনা সামরিক ইউনিফর্ম পরা কিছু সশস্ত্র সৈন্যের সামনে ভারতের পতাকাযুক্ত সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে “শেষ টিভি” নামের একটি লোগো দেখা যায়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৬১ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, পোস্টটি শেয়ার হয়েছে নয় শতাধিক বার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “এবার ঠিক আছে পার শুধু আমাদের সাথে।” আরেকজন বলেছেন, “চীনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।” “শেষ টিভি”-এর লোগোযুক্ত একই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে আরও একাধিক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও।

গণমাধ্যম দাবি করা “শেষ টিভি” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রথম পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি সাড়ে সাত লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে, পোস্টটি শেয়ার হয়েছে সাড়ে আট হাজার বারের বেশি। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “সাবাস চিনা সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ” (বানান অপরিবর্তিত)। আরেকজন বলেছেন, “ইন্ডিয়া বাংলাদেশ কে ১ মিনিট দখল করবে,পারলে চীনকে দখল করুক।”
“শেষ টিভি” নামের এই পেজটি “দেশ টিভি”-এর পুরোনো লোগো ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। এই পেজে আগেও একাধিক এআই দিয়ে বানানো ভিডিও (১, ২) প্রচার করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণে ভিডিওতে নানা অসঙ্গতি নজরে আসে ডিসমিসল্যাবের। ভিডিওতে ভারতীয় সেনা দাবিতে দৃশ্যমান দুইজনের চেহারা অভিন্ন। আশেপাশে বহু লোকের আওয়াজ শোনা গেলেও ভিডিওতে এত লোক দেখা যায় না। ডান পাশের এক চীনা সৈন্যের ইউনিফর্মে চীনের পতাকার আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বড়। দাবি করা চীনা সৈন্যদের চেহারা ঝাপসা ও অস্পষ্ট।

এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, এই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া, চীনা সেনার হাতে ভারতীয় সেনা আটকের বিষয়টি কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, চীনা সেনারা হাতে দুই ভারতীয় সেনা আটকের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাস্তব নয়, এআই দিয়ে বানানো।