সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Awami League activist found dead in Turag River fact check

মৃতদেহ উদ্ধারের দৃশ্য সাঙ্গু নদীতে, ছড়াচ্ছে “তুরাগ ট্র্যাজেডি”র দাবিতে

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নিখোঁজ হওয়া আরেফিন নামের একজনের লাশ পাওয়া গেছে তুরাগ নদে, এমন দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দৃশ্যটি বান্দরবানের সাঙ্গু নদী থেকে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের দৃশ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুন সন্ধ্যায় বান্দরবানের শৈলশোভা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সাঙ্গু নদীতে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় আরেফিন। নিখোঁজের ৫ দিন পর, গত ২৪ জুন তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম এক্সের একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৯ জুন ভিডিওটি (আর্কাইভ লিংক) পোস্ট করা হয়। ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নৌকায় একটি মরদেহ শোয়ানো। মৃতদেহটিকে ঘিরে নিজেদের মধ্যে জটলা করছে। এক ব্যক্তি সাদা কাপড় দিয়ে লাশটি ঢেকে দিচ্ছে। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “আফরিন কে পাওয়া গেছে ৬দিনের মাথায়😭” ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “তুরাগ ট্রাজেডির আরেক জনের লা*শ পাওয়া গেছে। আরেফিনের লা*শ 😭😭” ফেসবুকে সাপোর্টার্স অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামের একটি গ্রুপ থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি (আর্কাইভ লিংক) পোস্ট করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, পোস্টে ১৭৫ জন ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ৪১বার শেয়ার করা হয়েছে ভিডিওটি। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “তোমাদেরই হত্যার প্রতিশোধ বাংলার জনগন নিবে।” তবে আরেকজন দাবিটি উড়িয়ে দিয়েছেন, “হালারপুত বান্দরবান এর ভিডিও তুরাগ বলে চালাই দেস” ( ভাষা অপরিবর্তিত)।

Body of AL Activist Recovered in Turag river fact-check
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত এক্স পোস্ট (ডানে) ও ফেসবুক ভিডিওর (বামে) স্ক্রিনশট।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও থেকে প্রাপ্ত একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে চট্টগ্রাম-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক আজাদীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গত ২৪ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “নিখোঁজের ৫ দিন পর বান্দরবানের সাঙ্গু নদী থেকে শিশু আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার”। ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ১০ সেকেন্ডের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু মিল রয়েছে। তবে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃতদেহের ছবিটি ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

Awami League activist's body recovered from the Turag River fact-check
সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক আজাদী’ তে প্রকাশিত মূল প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। দেখা যায়, একাধিক সংবাদমাধ্যমে (,,,,) এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৯ জুন সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে শৈলশোভা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সাঙ্গু নদীতে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় আরেফিন(১১)। প্রায় ১১৪ ঘণ্টা পর, গত ২৪ জুন দুপুরে বান্দরবান পৌর এলাকার পাইনছড়া মুখ সংলগ্ন সাঙ্গু নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ আরেফিনের বলে শনাক্ত করেন।

Awami League activist's body recovered from the Turag River fact-check
আসল ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, “তুরাগ ট্র্যাজেডি”তে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের দৃশ্যের।

প্রসঙ্গত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের দিন, গত ২২ জুন ঢাকার আশুলিয়ার তুরাগ নদের ট্রলার ঘাটে নৌকাযোগে করে মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা পানিতে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে একাধিক স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

আরো কিছু লেখা