
রাস্তায় এক নারীকে হামলার একটি ভিডিও সম্প্রতি একাধিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি বাংলাদেশের ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে, সে সঙ্গে উদ্বেগ জানানো হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়, ভারতের মহারাষ্ট্রের।
সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দাবি করা একটি প্রোফাইল থেকে ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়।
২৫ জুন পোস্ট করা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় এক নারীকে পেছন থেকে দৌড়ে এসে হামলা চালাচ্ছে এক ব্যক্তি। উপর্যুপরি আঘাত করে ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারী।
ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “দেশটা কি থেকে কি হয়ে গেলো মাবুদ!” মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “সাজানো দেশটা ধংস করে দিলো জামায়াত বি এন পি।” আরেকজন লিখেছেন, “দেশে কোন নিরাপত্তা নাই। এই মুহুর্তে দরকার শেখ হাসিনার সরকার।”

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২৭ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে ১৬৪ বার। একই ক্যাপশনে ভিডিওটি ফেসবুক ছাড়াও ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করা হয়েছে।
গত ২৬ জুন একই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্সেও। ক্যাপশনে লেখা, “বাংলাদেশ এখন মৃত্যুর উপত্যকা। এখানে কারো কোন নিরাপত্তা নাই ; ঘরে অথবা বাইরে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে ও এত মানুষ মরে নাই ; গত দুই বছরে যত মানুষ মরছে বাংলাদেশে। এই মেয়েটির কি অপরাধ ছিলো?” এই পোস্টটি ৩২বার শেয়ার হয়েছে, ভিডিওটি দেখা হয়েছে সাত হাজারের বেশি বার।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে এ ঘটনার একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর সঙ্গে গত ১৩ ও ১৪ জুন প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়। ভারত-ভিত্তিক একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওর মূল ঘটনা ভারতের মহারাষ্ট্রের পালঘার জেলার।

এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পালঘারের গোল্ড সিনেমা এলাকায় ১২ জুন শুক্রবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় পালঘার জেলা কালেক্টর অফিসে কর্মরত নারী স্নেহাল সাওয়ান্ত (২৭) গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত কোর্টের অফিস সহকারী আমোল মুলেকে গ্রেফতার করেছে।
ইন্ডিয়া টুডে জানায়, তিনি গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং একাধিক বার আত্মহননের চেষ্টা করেছেন। পালঘারের পুলিশ সুপার যতীশ দেশমুখ এর আগে জানিয়েছিলেন যে, এই হামলার পেছনের মূল কারণ তদন্তাধীন রয়েছে। পরবর্তী তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রেমের সম্পর্কের বিরোধের জেরে ঘটে থাকতে পারে।
অর্থাৎ, রাস্তায় নারীকে হামলার এই ভিডিওটি ভারতের, বাংলাদেশের নয়।