
ভারতে ‘শুভেন্দুর নেতৃত্বে’ কলকাতার মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি মূলত কাশ্মীরের শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকার ‘জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম’ নামক একটি মাদরাসা ও মসজিদ ভবনে লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার।
‘জামায়াত বার্তা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৭ মে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “ভারতের শুভেন্দুর নেতৃত্বে মসজিদে আ’গু’ন।” আর ভিডিওর ভেতরে লেখা হয়, “শুভেন্দুর নেতৃত্বে কলকাতার মসজিদে আগুন।”

ভিডিওর অডিওতে বলা হয়, “ভারতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে কলকাতায় মসজিদে আগুন। এমন তথ্যটি হাতে পেয়েছি বাংলাদেশ সময় টিভির মাধ্যমে। আপনারা দেখছেন জামায়াত বার্তা ফেসবুক পেজ।”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১৭ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। এটি শেয়ার হয়েছে ৩৫ হাজারেরও বেশি এবং অন্তত ৯০ হাজারের অধিক ব্যবহারকারী এতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
এর আগে ‘সময় সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়, “শুভেন্দু নেতৃত্বে কলকাতার মসজিদ আগুন ধরিয়ে দিলো হিন্দুরা…….?” ফেসবুক পেজটির প্রোফাইল ছবি ও লোগো সংবাদমাধ্যম সময় টেলিভিশনের লোগোর আদলে বানানো। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভের পর এই পেজটি থেকে আরও অন্তত দুটি ভিডিও পোস্ট হয়েছে (১, ২), যেগুলো যাচাই করে ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব (১, ২)।
এছাড়াও ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে একই দাবিতে ভিডিওটি ছড়াতে দেখা গেছে।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন (১, ২, ৩) সামনে আসে, যেখানে ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায়। এছাড়া, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটেও মূল ঘটনার ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২)।
সবকটি প্রতিবেদনেই জানানো হয়, দৃশ্যটি চলতি বছরের ১০ এপ্রিল ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকায় অবস্থিত ‘জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম’ নামক একটি মাদরাসা ও মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকার জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম নামক একটি মাদরাসা ও মসজিদে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সংবাদমাধ্যম ‘কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার তলা বিশিষ্ট ওই মাদরাসা ভবনটির ওপরের তলা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
অর্থাৎ, ভারতে ‘শুভেন্দুর নেতৃত্বে’ কলকাতার মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে দাবিতে যে ভিডিওটি ছড়াচ্ছে, তা মূলত গত ১০ এপ্রিল ভারতের কাশ্মীরের একটি মসজিদ ও মাদ্রাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার।