নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check image showing a Yemen school attack video falsely shared as Hindu extremists attacking a women’s madrasa in India.

ইয়েমেনের ভিডিও ছড়াচ্ছে ভারতের মহিলা মাদ্রাসায় হিন্দু উগ্রবাদীদের হামলার দাবিতে

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওটি ভারতের একটি মহিলা মাদ্রাসাতে হিন্দু উগ্রবাদীদের হামলার দৃশ্য। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা করার দৃশ্য।

ফেসবুকে “তোফা ভাই” নামের একটি পেজ থেকে ১০মে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “মহিলা মাদ্রাসার ভিতরে প্রবেশ করে হামলা।” ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মাঠে বোরকা এবং হিজাব পরিহিত বেশ কয়েকজন নারী ছুটে বেড়াচ্ছেন। মূল ভিডিওর দৃশ্যে কোনো কথোপকথন শোনা না গেলেও পেজটি যার তাকে ধারাবিবরণী দিতে দেখা যায়।

Fact-check report image showing a Yemen girls’ school attack video falsely shared as Hindu extremists attacking a women’s madrasa in India.
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ভিডিওসহ একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

তাকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের একটি মহিলা মাদ্রাসার ভেতর প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে হিন্দু উগ্রবাদীরা। চুপ থাকলে চলবে না ভাই। সারা বিশ্বের মুসলমান এক হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২ হাজার ১০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং দেখা হয়েছে ১৪ হাজার বারের বেশি। এতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩০০ এর বেশি ব্যবহারকারী।

ভিডিওটির কমেন্ট যাচাই করলে দেখা যায়, অনেকেই দাবিটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “ভারতের মুসলমানদের একই রুখে দাড়াতে হবে, এরা কলকাতাকে গাজা বানাতে চায়।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ভারতের প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে ঘরে বেশি বেশি করে অস্ত্র রাখো।” 

ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখলে “ইয়েমেন শাবাব” নামে একটি ইয়েমেন-ভিত্তিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “হামদান এলাকার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হুতি মিলিশিয়াদের হানা; ২৬ সেপ্টেম্বরের বিপ্লব বার্ষিকী উদযাপন আয়োজন করার অজুহাতে এই হামলা (ভিডিও)।”

  • Fact-check report image showing a Yemen girls’ school attack video falsely shared as Hindu extremists attacking a women’s madrasa in India.
  • Fact-check report image showing a Yemen girls’ school attack video falsely shared as Hindu extremists attacking a women’s madrasa in India.

প্রতিবেদনে বলা হয়, “তথ্যসূত্র অনুসারে, হুতি মিলিশিয়া রাজধানী সানার উত্তরে হামদান জেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বরের বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি উদযাপন অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্দেশ্যে তারা এই হামলা চালায়। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, মিলিশিয়ারা বিদ্যালয়টিতে ঢুকে ছাত্রীদের বের করে দেয় এবং স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।” এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

এছাড়াও, “ডিসেম্বর ২ নিউজ এজেন্সি” নামের একটি ইয়েমেন-ভিত্তিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, “সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা একটি ভিডিও ক্লিপ প্রচার করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানি মদতপুষ্ট মিলিশিয়া সদস্যরা সানা গভর্নরেটের হামদান জেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালাচ্ছে এবং ছাত্রীদের লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর শুরু করেছে।”

এই প্রতিবেদনে একটি ইউটিউব শর্টসের লিংক পাওয়া যায়। শর্টসটির বিস্তারিততে বলা হয়েছে, “সানা… ইয়েমেনি বিপ্লব উদযাপন করতে বাধা দিতে ছাত্রীদের ওপর হুতি মিলিশিয়াদের হামলা।” এ ভিডিওর সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি এর আগেও ২০২৫ সালে ভারতের দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল, এবং তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচ ভিডিওটি ইয়েমেনের বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। 

অর্থাৎ, ভারতের মহিলা মাদ্রাসায় হিন্দু উগ্রবাদীদের হামলার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ২০২৪ সালে ইয়েমেনের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার দৃশ্য। 

আরো কিছু লেখা