রেললাইনের ওপর দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজন কিশোরের হাঁটার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ভিডিওগুলো শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কিশোররা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ‘শোডাউন’ এবং চাঁদাবাজি করছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এগুলো চাঁদাবাজি বা কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডের দৃশ্য নয় বরং শুটিংয়ের সময় ধারণ করা ভিডিও।
প্রথম ভিডিও
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়, ভিডিওটা ছড়িয়ে দিন, কিছু কিশোর বয়সি পোলাপান দেশীয় রাম দা ছূরি প্রকাশ্যে রেললাইনে শোডাউন দিচ্ছে, হয়তো চান্দা নিচ্ছে, যার দরুন সাধারন জনগন অতিষ্ঠ,, ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, বখাটে পোলাপান গুলা দেশিয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে কুড়াল নিয়ে রেললাইন এর পাত দিয়ে হাটতেছে কিছু কিছু মানুষ তামাশা দেখতেছে এই হয়ছে যে বর্তমান বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট কিশোর গ্যাং গুলোর উতপাত এত বেড়ে গেছে এই দেশে থাকায় কষ্টের।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ওই পোস্টটি ৩ লক্ষ ৩১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে ৮ হাজারের বেশি।
দ্বিতীয় ভিডিও
আরেকটি ভিডিও গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘বিডি রাজন অফিসিয়াল’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও প্রকাশ করা হয়। সেখানে ভিডিওটির নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “এগুলো কি সরকার দেখে না? প্রশাসন দেখে না? কিসের দেশ চালাচ্ছেন আপনারা? এই দেশে যদি দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে চাদাবাজি করতে পারে তাহলে আপনারা কিসের দেশ চালাচ্ছেন? কেন তাদের কে এখনো গ্রেফতার করা হল না নাকি আমরা নিজেরাই হাতে অস্ত্র তুলে নেব?”
ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে দ্বিতীয় ভিডিওটিকে গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনের ঘটনা বলে লেখা হয় “জামাত শিবির বিএনপি সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে আছে।”
যাচাইয়ে দেখা গেছে উভয় ঘটনায় মূলত শুটিংয়ের দৃশ্য
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওগুলোর কিফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে এসকে শাহিন (Sk Shahin) নামের একটি প্রোফাইলের একটি ভিডিও সামনে আসে। ১৬ সেপ্টেম্বরের সেই ভিডিওযুক্ত পোস্টের ক্যাপশনে লেখা আছে, “শুটিং টাইম।” ভিডিওটির সঙ্গে প্রথম ভিডিওটির হুবহু মিল দেখা যায়।
দ্বিতীয় ভিডিওটিও পাওয়া যায় একই পেজে। গত ৩১ জুলাই পেজটি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে শিরোনামে লেখা হয়, “শুটিং ভিডিও জামতৈল বাজার”।
পেজটি পর্যালোচনায় দেখা যায় পেজটি থেকে নিয়মিতই বিভিন্ন শুটিং এর দৃশ্য পোস্ট করা হয়। এর আগেও একই ধরনের একটি ভিডিওকে বাস্তব চাঁদাবাজির দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় ডিসমিসল্যাবের প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেকে যাচাই করে দেখানো হয়, ভিডিওটি বাস্তব চাঁদাবাজির ঘটনা নয়, বরং শুটিংয়ের দৃশ্য।
অর্থাৎ, রেললাইনে কিশোর গ্যাংয়ের চাঁদাবাজি বা অস্ত্রের শোডাউন হিসেবে প্রচার করা ভিডিওগুলো কোনো সত্য ঘটনার দৃশ্য নয়।



