মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
FactChecking Extortion Film shooting (2)

চাঁদাবাজির নয়, দৃশ্যটি শুটিংয়ের

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

রাস্তায় দলগতভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ওই ভিডিও একটি শুটিংয়ের দৃশ্য।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুনু মিয়া (Sunu Miah) নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও (আর্কাইভ) পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা আছে, “রাস্তায় চাঁদাবাজির পুরা টিম নিয়ে আগে কেও কি দেখছেন।” ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ব্যস্ত বাজারে একদল যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে। সামনের সারিতে থাকা লাল টি-শার্ট পরা এক যুবকের হাতে একটি বড় কুড়াল। তার পাশেই মিশ্র রঙের একটি শার্ট পরা আরেক যুবকের হাতে একটি বড় আকারের ধারালো অস্ত্র ছিল। এসময় আশেপাশের রাস্তায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল অব্যাহত ছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ওই পোস্ট ২৩ হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে। প্রতিক্রিয়া ছিল দুই হাজারের বেশি। 

চাঁদাবাজির দাবিতে হওয়া একাধিক পোস্টের স্ক্রিনশট

দেশদশ টোয়েন্টিফোর (DeshDosh24) নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজেও একই ভিডিও চাঁদাবাজির দৃশ্য দাবিতে পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা, “দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অ’স্ত্র হাতে ঘুরছে কয়েকজন, ভয়ে দেখিয়ে তুলছে চা’দা।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ওই পোস্ট শেয়ার হয় এক হাজারের বেশি বার। প্রতিক্রিয়া ছিল দুই হাজারের বেশি। 

এক্স এবং ইউটিউবেও একই দাবিতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে (, )।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে এসকে শাহিন (Sk Shahin) নামের একটি প্রোফাইলে একই দৃশ্যের ভিডিও সামনে আসে। ভিডিও পোস্টে লেখা আছে, “শুটিং ভিডিও ডাইরেক্টর শাহীন ভিলেন।” 

এই প্রোফাইলে ভিডিওটি পোস্ট করা হয় গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টা ৫৯ মিনিটে। আর চাঁদাবাজির দৃশ্য দাবিতে ভিডিও ছড়াতে দেখা গেছে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

এস কে শাহিন নামের ফেসবুক প্রোফাইলে শুটিংয়ের দৃশ্য দাবিতে পোস্ট হওয়া ভিডিওর স্ক্রিনশট

এসকে শাহিন নামের প্রোফাইলে আরও একাধিক শুটিংয়ের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায় (, , )। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্র নিয়ে মহরার দৃশ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করে ট্রেলার বানানো হয়েছে। পোস্টে লেখা, “ডাইরেক্টর আসিস  কুমার  মিলন শাহীন ❤️এ সপ্তাহে আসছি।” আরেকটি ভিডিওতে ক্যামেরাম্যানকে “অ্যাকশন” বলে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। এছাড়া প্রোফাইলে সিনেমার পোস্টারের সদৃশ্য একাধিক পোস্টারের ছবিও খুঁজে পাওয়া যায় (, )। 

অর্থাৎ, দলগতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়ার দৃশ্যটি কোনো বাস্তব চাঁদাবাজির ঘটনার নয়, বরং শুটিংয়ের দৃশ্যের।

গত আগস্টের শুরুতেও ‘এসকে শাহিন’ ফেসবুক প্রোফাইলের একটি ভিডিও “চাঁদাবাজির” দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে। যা পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার ফ্যাক্টচেক করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আরো কিছু লেখা