টাকা দিতে না পারায় নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া এক নারী রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। নেপালের এক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে রাস্তায় এক নারীর সন্তান প্রসবের দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর রাস্তার পাশে এক নারীর সন্তান প্রসবের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “নোয়াখালি সরকারি হাসপাতালথেকে একজন মা কে টাকা না দেয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পেটের ব্যাথায় রাস্তায় বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য হয়েছেন।” পোস্টে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “সেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের অধিকার, এই অধিকার বঞ্চিত করার দায় কি সরকার এভাবে এড়াতে পারে।” প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটিতে দুই হাজারের অধিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং এটি ১২০ বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘হিমালয় টিভি’তে (Himalaya TV) গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবির মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি নেপালের সপ্তরী জেলার গজেন্দ্র নারায়ণ সিং হাসপাতালের। সেখানকার এক সন্তানসম্ভবা নারী রক্তসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে হাসপাতাল ছেড়ে বাইরে আসেন। পরে প্রসববেদনা শুরু হলে তিনি রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে এই ঘটনায় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এ (The Kathmandu Post) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে নেপালের গজেন্দ্র নারায়ণ সিং হাসপাতালের বাইরে ফুটপাতে সন্তান জন্ম দেন ওই নারী।

অর্থাৎ, নেপালে রাস্তায় এক নারীর সন্তান প্রসবের ছবিকে বাংলাদেশের নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

