মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
fact check blind july fighter

‘অন্ধ সেজে অভিনয়ের’ ভুয়া দাবিতে এক চোখ হারানো আলিফের ভিডিও প্রচার

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

অন্ধ সেজে অভিনয় করে ধরা পড়েছেন কথিত এক ‘জুলাই যোদ্ধা’, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলার সংগঠক আলিফ চৌধুরী। হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনি বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি পুরোপুরি অন্ধ নন, অপর চোখে কিছুটা দেখতে পান।

ফেসবুকের “ডব্লিউএমআর নিউজ” (WMR News) নামের একটি পেজ থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “অন্ধ সেজে অভিনয় করে ধরা খেলো কথিত জুলাই যো’দ্ধা।” ভিডিওতে দেখা যায়, চোখে কালো চশমা পরিহিত এক ব্যক্তি অন্য একজনের সহযোগিতায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের মাঝে বসেন। বসার পর নিচু হয়ে একটি পানির বোতল হাতে নেন। কমেন্টে একজন মন্তব্য করেন, “ঠিকই ত কানায় কি ভাবে পানির বোতল টা দেখলো?” (বানান অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৭৫ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং আড়াই শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (, , , , , ) থেকে ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।

একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর স্ক্রিনশট

অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে যুগান্তরের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনাম, “ছাত্রশক্তির কাউন্সিলে চোখ হারানো সেই আলিফ।” ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর পাশে চোখে কালো চশমা পরিহিত আলিফ বসে আছে। ভিডিওতে থাকা দুজনের পোশাক ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।

‘যুগান্তর’-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওর স্ক্রিনশট

আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে গত ৩১ জুলাই ‘সমকাল’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। “এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আলিফের ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই” শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলার সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে চিকিৎসকের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আলিফের অপর চোখটি ভালো আছে।

এ প্রসঙ্গে ১৪ সেপ্টেম্বর ‘কালবেলা’-য় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিষয়ে আলিফ চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি কালবেলাকে জানান, তার দুটি চোখের মধ্যে বাম চোখটি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং আঘাতপ্রাপ্ত ডান চোখেও দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হয়।

‘সমকাল’ ও ‘কালবেলা’-র অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

অর্থাৎ, এক চোখ হারালেও অন্য চোখে দেখতে পাওয়া আলিফ চৌধুরী ‘অন্ধ হওয়ার অভিনয় করছেন’ বলে ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

আরো কিছু লেখা