মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি পরিহিত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও মন্দির ভাঙচুর করেছেন। কিন্তু ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওর ব্যক্তি সাতক্ষীরার এক যুবককে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। তার গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গে পূজামণ্ডপ বা মন্দির ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক নেই।
জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং (Jitendra pratap singh) নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৯ অক্টোবর ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি পরিহিত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে তাকে বলতে শোনা যায়, রাষ্ট্রের আইনে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি নিজেকে অপরাধী মনে করেন না।
ইংরেজিতে লেখা পোস্ট বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “এই মুসলিম ব্যক্তি বাংলাদেশে দুর্গাপূজা প্যান্ডেল এবং হিন্দু মন্দির ভাঙচুর করেছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লজ্জাহীনভাবে, হাসতে হাসতে, সে এক সাংবাদিককে বলে যে সে আইনের চোখে অপরাধী হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর চোখে পাপী নয়। বাস্তবে, তাদের ছোটবেলা থেকে শেখানো হয় যে, হিন্দু, খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা ‘কাফির’ (অবিশ্বাসী)। তাদের মন্দির, তাদের উপাসনালয় ধ্বংস করা আল্লাহর চোখে কোনো পাপ নয়।”
এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে আটশ বার রিপোস্ট করা হয়েছে।
এক্সের একাধিক অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকে ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রির্ভাস ইমেজ সার্চ করলে এনপিবি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। শিরোনামে লেখা, “আলোচিত শামীম হ’ত্যা’কাণ্ড; নিজের অবস্থান জানালেন প্রধান অভিযুক্ত।” ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরু থেকে ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যে থাকা একাধিক ব্যক্তি, তাদের পোশাক ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওটির মিল আছে।
যাচাইয়ে এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। “আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই: আমিনী” শিরোনামে যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই। কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা আমিনীকে ১৮ অক্টোবর সাতক্ষীরার আদালতে পাঠানো হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করেন আমিনী।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
অর্থাৎ, সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামির গ্রেফতারের ভিডিওকে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

