ফেসবুকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পালিয়ে গেছেন। ভিডিওতে ভয়েসওভারে বলা হচ্ছে, মোদি পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে শুভেন্দু অধিকারী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং এখন জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পুরোনো ঘটনার।
‘নিউ সাইফুল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৮ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। স্ক্রিনে একসঙ্গে তিনটি ফুটেজ চলতে দেখা যায়। উপরের দৃশ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যাচ্ছে। নিচে ডান দিকে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “নরেন্দ্র মোদি পালিয়ে গেছে শুনে পদত্যাগপত্র জমা দিল শুভেন্দু অধিকারী এখন সবার কাছে মাফ চাচ্ছে জনগণ কি মাফ করে দিবে? অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন, শেয়ার করে সারা বিশ্বকে জানার সুযোগ করে দিবেন।”
ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনের মিল পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১৫ মে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসন থেকেই জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করেন।
একই ঘটনা নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন এবং সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনেও শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। গত ১৫ মে এএনআইয়ের প্রকাশিত ভিডিওতেও ছড়ানো ভিডিওর দৃশ্যটি দেখা যায়।

সবগুলো প্রতিবেদনে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের কারণ হিসেবে দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি পালিয়ে যাওয়ার কারণে শুভেন্দু অধিকারী পদত্যাগ করেছেন কিংবা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এমন কোনো তথ্য এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, নরেন্দ্র মোদি পালিয়ে যাওয়ার দাবির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের ভিডিওটি সম্পর্কিত নয়। ভিডিওতে ২০২৬ সালের মে মাসে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে তাঁর পদত্যাগের ঘটনার দৃশ্য ব্যবহার করে ভয়েসওভারে ভিন্ন দাবি প্রচার করা হয়েছে।

