মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Factcheck Bangladeshis Executed In Saudi Arabia

বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের দৃশ্য দাবিতে ছড়াল মিয়ানমারের নারীর পুরোনো ভিডিও

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অপরাধে দুজন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সেই ঘটনার দৃশ্য দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দৃশ্যটি কোনো বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনার নয়। ভিডিওটি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে মিয়ানমারের এক নারীকে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করার দৃশ্য।

গত ১৭ অক্টোবর ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “সৌদিতে খারাপ কাজে লিপ্ত দুই বাংলাদেশি পুরুষ ও মহিলার শিরচ্ছেদের ভিডিও ভাইরাল। এটা কি সত্যিই ন্যায় বিচার হইছে; নাকি জুলুম ও লঘু পাপে গুরু দণ্ড?” ভিডিওতে দেখা যায়, কালো বোরকা পরিহিত এক নারীকে রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে ঘিরে আছে একই ধরনের পোশাক পরিহিত কিছু ব্যক্তি। এরপর সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে ওই নারীকে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৩০ হাজারের অধিক বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় ৮০ বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল ও পেজ (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) থেকেও ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে বসবাসকারী লায়লা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব বাসিম নামের মিয়ানমারের এক নারীকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বামীর আগের ঘরের কন্যাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা করার অপরাধে লায়লাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর অনলাইন সংস্করণ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের ফেসবুক পেজে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ঘটনাটি মিয়ানমারের এক নারীর মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য।

অর্থাৎ, সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কাজের’ অপরাধে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর দাবিটি মিথ্যা। প্রচারিত ভিডিওটি কোনো বাংলাদেশির নয়। এটি ২০১৫ সালে সৌদি আরবে সৎমেয়েকে হত্যার অপরাধে মিয়ানমারের এক নারীর শিরশ্ছেদের দৃশ্য।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

আরো কিছু লেখা