নিউইয়র্কে এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িতে ওঠার সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ময়দা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, এমন দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ভিডিওটি ফ্রান্সের রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসমানের গায়ে ময়দা ছোড়ার দৃশ্য।
গত ১৪ অক্টোবর ফেসবুকের “রাজনীতির মাঠ” নামের পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, “নিউইয়র্কে এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িতে উঠার সময় সুদখোর মহাজন জঙ্গি ডঃ ইউনুস কে ময়দা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।”
৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে একটি সড়কে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে সাদা গুঁড়াসদৃশ কিছু ছোড়া হচ্ছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, ভিডিওটি চার শতাধিকবার শেয়ার হয়েছে এবং দেখা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি বার।
একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক পেজ (১, ২, ৩) ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) থেকেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। অনুসন্ধানে ইউটিউবে ‘সিএলপ্রেস’ (CLPRESS) নামের একটি চ্যানেলে গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর শিরোনামের অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী প্রাইমারিতে জয়ের পর ময়দায় মাখামাখি গ্লুকসমান।”
এই ভিডিওর ১৩ সেকেন্ড থেকে ২১ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ভিডিওর বিবরণে লেখা ছিল, “১১ অক্টোবর প্যারিসে বামপন্থী প্রাইমারিতে জয় উদযাপনের অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে ওঠার সময় র্যাফায়েল গ্লুকসমানের গায়ে ময়দা ছোড়া হয়।”
গ্লুকসমান ফ্রান্সের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সামাজিক গণতান্ত্রিক বামপন্থীদের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারিতে তিনি ৬৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন।
ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও একই ঘটনার তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় প্যারিসের ২০তম আরোঁদিসমঁর “লা কঁতিন দ্য বেলভিল” নামের একটি বারের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তিনি প্রাইমারিতে জয় উদযাপন করছিলেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম এলসিপির (LCP) ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও বলা হয়, প্রাইমারিতে জয়ের পর রোববার রাতে গ্লুকসমানের গায়ে ময়দা ছোড়া হয়। ঘটনার পর ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফ্রান্সের একাধিক গণমাধ্যম ঘটনার ভিডিও প্রচার করেছে।
অর্থাৎ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ময়দা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দাবিটি মিথ্যা, ১১ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে ধারণ করা।

