নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক, পাকিস্তানের গভর্নর হাউজে আগুন, নেপালের পুরোনো ভিডিও

পাকিস্তানের গভর্নর হাউজ নয়, অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি নেপালের সংসদ ভবনের  

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে পিটিআই শ্রমিকরা গভর্নর হাউজ তাদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের সময়কার। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নেপালের সংসদ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য এটি। 

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১৩ অক্টোবর “পিটিআই শ্রমিকরা গভর্নর হাউসকে তাদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।” ক্যাপশনে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে, অসংখ্য ব্যক্তিকে ভবনের ছাদে এবং সংলগ্ন মাঠে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১২ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। আরেকটি প্রোফাইল থেকেও ভিডিওটি একই দাবিতে পোস্ট করতে দেখা যায়। 

ফ্যাক্টচেক, পাকিস্তানের গভর্নর হাউজে আগুন, নেপালের পুরোনো ভিডিও
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সিএনএন ইন্দোনেশিয়ার গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “ভিডিও: নেপালে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার মুহূর্ত, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সংসদ ভবনে অগ্নিসংযোগ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “নেপালে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্মত্ত জনতা প্রধানমন্ত্রী খড়্গ প্রসাদ শর্মা অলির ব্যক্তিগত বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে। এছাড়াও, সেই বিক্ষুব্ধ জনতা নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল সহ একাধিক মন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি, এক ধারাবাহিক উত্তাল বিক্ষোভের অংশ হিসেবে নেপালের সংসদ ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।” এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। 

এছাড়াও একাধিক (১, ২, ৩) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে ভিডিওটিকে নেপালের জেন-জিদের বিক্ষোভের দৃশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ফ্যাক্টচেক, পাকিস্তানের গভর্নর হাউজে আগুন, নেপালের পুরোনো ভিডিও
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পাকিস্তানের গভর্নর হাউজের কোনো ঘটনা নয়, অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যটি নেপালের সংসদ ভবনের।

আরো কিছু লেখা