বাংলাদেশের মুসলমানরা পূজা করছে, অন্যদিকে ভারতে মসজিদ ভাঙা হচ্ছে, এমন দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি ভারতের কোনো মসজিদ ভাঙচুরের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি বাংলাদেশের ঘটনা। পাবনা সদর উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুরের দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২০ অক্টোবর ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “বাংলাদেশের মুসলমান করছে পূজা আর ভারত ভাঙছে মসজিদ।” ভিডিওর ভেতরে লেখা, “মুসলমান আছে দুর্গাপূজা নিয়ে। আর ভারত আছে মুসলমান উচ্ছেদ নিয়ে ব্যস্ত।” ভিডিওর শুরুতে সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে একটি ভবন ভাঙতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে কালো পোশাক পরিহিত অন্য এক ব্যক্তি সেই ভাঙচুরে যোগ দেয়। ভবনটিতে আরবি ও বাংলা অক্ষরে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” লেখা।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৭০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং ১ হাজার ৭০০ বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকে ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম নিয়ে রির্ভাস ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর টাইমস অব বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। শিরোনামে লেখা, “পাবনায় শিশু কলি হ’ত্যাকাণ্ড: গ্রে’প্তার আসামির বাড়িতে গ্রামবাসীর ভা’ঙচুর।” ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্যের ভাঙচুরকৃত ভবনের অবকাঠামো, রং, আরবি ও বাংলা অক্ষরের লেখার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
যাচাইয়ে এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন (১, ২,৩) পাওয়া যায়। “শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল জনতা” শিরোনামে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবনা সদরে ১০ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং হাতুড়ি দিয়ে বাড়িটির দরজা-জানালা ও ছাদ ভেঙে অবকাঠামোর অনেকাংশ নষ্ট করে দেয়।

অর্থাৎ, পাবনায় এক শিশু হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হামলা ও ভাঙচুরের পুরোনো দৃশ্যকে ‘ভারতে মসজিদ ভাঙচুর করা হচ্ছে’ দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

