মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক স্রোতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে হাতির সাহায্যে উদ্ধারের ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার নয়

স্রোতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে হাতির সাহায্যে উদ্ধারের ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার নয়

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, নেপালে বন্যার তীব্র স্রোতে আটকে পড়া একজন মানুষকে একটি বন্য হাতি উদ্ধার করেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নেপালের ভূমিধ্বস ও বন্যার কোনো দৃশ্য নয়।

২৭ আগস্ট (২০২৬) ফেসবুকে “সংবাদ প্রতিদিন ২৪” নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “নেপালে বন্যার তীব্র স্রোতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করলো বন্য হাতি।” ২০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে প্রথমে দেখা যায়, পানির তীব্র স্রোতে একজন ব্যক্তি ভেসে যাচ্ছেন; পরের দৃশ্যে দেখা যায় একটি হাতি ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে আনছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি দেখা হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি বার।

ফ্যাক্টচেক স্রোতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে হাতির সাহায্যে উদ্ধারের ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার নয়
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার ভিডিও দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। তাতে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর ফেসবুক পেজে গত ৯ আগস্ট (২০২৬) আপলোড হওয়া ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, “তুমুল জলস্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করল হাতি।” ভিডিওর ওপরই একটি সতর্কবার্তায় লেখা ছিল, “ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি Ei Samay Live”।

একই দিনে (৯ আগস্ট) ভারতের আরেকটি সংবাদমাধ্যম ‘সঞ্জয় পেরা নিউজ’-এর ফেসবুক পেজ থেকেও ভিডিওটি পোস্ট করা হয়, যেখানে অবস্থান হিসেবে সরাসরি ‘আসাম’ উল্লেখ করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “আসামের বন্যায় হাতির সাহায্যে বাঁচলো মানুষ” (Elephant Helps Save Man During Assam Floods), এবং হ্যাশট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয় #AssamFloods। 

ফ্যাক্টচেক স্রোতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে হাতির সাহায্যে উদ্ধারের ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার নয়
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি একাধিক পুরোনো ফেসবুক পোস্টেও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে আসামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নাগাল্যান্ডের মন জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির সৃষ্ট ঢলে আসামের শিবসাগর, চরাইদেউ, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলা প্লাবিত হয়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায় এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয়।

অর্থাৎ, ভিডিওটি গত ৯ আগস্ট থেকেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আসামের বন্যার দৃশ্য হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে। এদিকে, আর নেপালে ভূমিধ্বস ও বন্যার ঘটনা গত ২৬ আগস্টে সূত্রপাত হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট (২০২৬) নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোতে বসতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত নেপালের বন্যায় প্রায় ৩৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ১,৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

অতীতেও বিভিন্ন দুর্যোগের সময় পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ভিডিও-ছবিকে নতুন ঘটনা বলে প্রচারের প্রবণতা নিয়ে ডিসমিসল্যাব একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আরো কিছু লেখা