
চট্টগ্রামের বন্যার দৃশ্য দাবি করে একাধিক ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ফুটেজগুলো চার থেকে পাঁচ বছর পুরোনো এবং এর কোনোটিই বাংলাদেশের নয়।
ফেসবুকে সিটিজি নিউজ টিভি নামে একটি পেজ থেকে গত ১৩ জুলাই ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। পেজটি ফেসবুকে নিজেদের সম্পর্কে লিখেছে, “চট্টগ্রাম সহ সারা বাংলাদেশ কে তুলে ধরার চ্যানেল।” ভিডিও-এর প্রথম ৮ সেকেন্ডে কাদামাটিযুক্ত পানি তীব্র বেগে ধেয়ে আসতে দেখা যায়। পরবর্তী ১১ সেকেন্ডে ভিন্ন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এই দৃশ্যে দূর থেকে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা সেতুর উপর মানুষের আতঙ্কিত চলাচল দেখা যায়, যার নিচ দিয়ে তীব্র বেগে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।

পোস্টের ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “চট্টগ্রামে এভাবে তো তলিয়ে গেছে অনেক ঘর বাড়ি (বানান অপরিবর্তিত)।” ভিডিওটি এ পর্যন্ত তিন লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। পোস্টে পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শেয়ার করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাধিক বার। মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ভিডিওটি চট্টগ্রামের বলে ধরে নিয়েছেন। কেউ জানতে চেয়েছেন ভিডিওটি চট্টগ্রামের কোন এলাকার। কেউ আবার বলছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কিংবা ভিডিওটি চীনের।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর দুটি ভিন্ন দৃশ্যের একাধিক কিফ্রেম নিয়ে ডিসমিসল্যাব রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ভিডিওগুলোর একটি ফুটেজ তুরস্কের রিজে শহরের এবং অপরটি পাকিস্তানের সোয়াত ভ্যালির।

তুরস্ক-ভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যমের (১, ২, ৩, ৪) তথ্যমতে, ২০২১ সালের ২১-২২ জুলাই তুরস্কের রিজে ও আর্টভিন প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়— ভিডিওতে তারই একটি দৃশ্য দেখা যায়। এসব প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবি ও বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে করা ভিডিও পাওয়া যায়, যা সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর স্থান ও দৃশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

অন্যদিকে গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ভিডিওর পরবর্তী অংশ ২০২২ সালের আগস্টের বন্যায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত ভ্যালি প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য। পাকিস্তান সিনেটের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির শীর্ষ নেতা শেরি রেহমানের একটি পোস্টের সূত্র ধরে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে করা ২০২২ সালের ২৭ আগস্টের সেই পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানানো হয়, এটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মাদিয়ান ব্রিজের দৃশ্য। এর সঙ্গে বর্তমানে চট্টগ্রামের বন্যার দৃশ্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য মিলে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, চট্টগ্রামে বন্যার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যগুলো আসলে পুরোনো এবং দৃশ্য দুটি তুরস্ক ও পাকিস্তানের ঘটনা, বাংলাদেশের নয়।