তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
হিন্দু নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম

হিন্দু নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের ঘটনা দাবি করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্সে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওতে যে নারীকে হামলার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নন।

গত ২৫ আগস্ট  “বিকাশ পোখারিয়াল” নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে এক বাড়িতে ভাঙচুর করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া,  এক নারীকে হামলার শিকার হতেও দেখা যায় ভিডিওটিতে। পোস্টের ইংরেজি ক্যাপশন অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশের হিন্দুদের জীবন। তাদের বেশিরভাগই দলিত।”

হিন্দু নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ৫৭,০০০ বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ১,৬০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। ভারতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের আদলে জেন-জি বিপ্লবের নেপথ্যে ভারতকে বাংলাদেশে পরিণত করার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা রয়েছে।” আরেকজন লিখেছেন, “সেই কারণেই ভারতের জন্য নরেন্দ্র মোদি গুরুত্বপূর্ণ।”

কিফ্রেম সার্চে মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন (, ) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। এসব প্রতিবেদনের ভিডিও-এর সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হুবহু মিলে যায়। প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, “লালমনিরহাটে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।”

হিন্দু নির্যাতনের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে থাকা নারী মুসলিম
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

এ ঘটনায় প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনে আজকের পত্রিকা জানায়, গত ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামে ছাগলে ঘাস খাওয়া নিয়ে ওমানপ্রবাসী মান্নানের পরিবারের সাথে শাহ আলমের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শাহ আলম ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবাসীর ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় প্রতিহত করতে গেলে হামলার শিকার হয়ে আহত হন প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনা বেগম। শাহ আলম কৃষক দলের চলবলা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। হামলার ঘটনার পরে তাকে দলটির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা দাবি করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দৃশ্যমান আক্রান্ত নারী মুসলিম এবং হামলার এই ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়। 

আরো কিছু লেখা