দাবি ও ফ্যাক্টচেকের প্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য এই প্রতিবেদনে কিছু লিংক দেওয়া হয়েছে। সেসব লিংকে থাকা ছবি ও ভিডিও সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি মেয়ের মৃতদেহের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুন কোচবিহার জেলার একটি পাটক্ষেত থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা এটি।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ১১ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি মেয়ে শিশুর মৃতদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে দৃশ্যটি দেখছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি গান জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওর বর্ণনায় পোস্টদাতা লিখেছেন, “মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মেয়ের লাশ উদ্ধার!!”

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪, ৫) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে ভিডিওর বিভিন্ন কিফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ‘নিউজএক্সনাগাল্যান্ড’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ৬ জুন পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ জুন, বুধবার সন্ধ্যায় কোচবিহারের দিনহাটার একটি পাটক্ষেত থেকে এক নাবালিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিশুটিকে মৃত্যুর আগে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। ৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে থাকা মুখ ঢাকা মৃতদেহের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মৃতদেহের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত-ভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যম ‘ভাস্কর ইংলিশ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচবিহার জেলার দিনহাটা এলাকায় এক নাবালিকাকে খুন করা হয়েছিল। ৩ জুন, বুধবার সন্ধ্যায় বামনহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার আগে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। কোচবিহার জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

অর্থাৎ, ভারতের ভিডিওকে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের ঘটনা বলে প্রচার করে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
ইতঃপূর্বে একাধিক ভারতের ঘটনা এমন ভুয়া দাবিতে ছড়ালে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

