এক ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে আরেকজন। আশপাশের সবাই তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে ইঙ্গিত করে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায় মূল ঘটনাটি ভারতের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হায়দরাবাদের সায়দাবাদ এলাকার সিঙ্গারেনি কলোনিতে গত ৪ আগস্ট এক কাপড় ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কোপানোর দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৭ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হলুদ পোশাক পরা এক লোক চাপাতি সদৃশ অস্ত্র দিয়ে আরেক ব্যক্তিকে অনবরত আঘাত করছে। পোস্টে লেখা, “২৪ এর স্বাধীনতার পর জামাত-বিএনপি মিলে এদেশের জনগণ কে স্বাধীনতার উপহার এভাবেই দিচ্ছে।”
একই দিনে ফেসবুকে ‘জাগো বাঙালি জাগো’ নামের আরেকটি আইডি থেকে একই ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়, “হায়রে দেশ বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি 🥲🥲।”

অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ভিডিওটির কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্টে গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ভিডিওর বর্ণনা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “হায়দরাবাদের সায়দাবাদ এলাকায় এক কাপড় ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি মুম্বাইয়ে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।” তবে গণমাধ্যমের ভিডিও প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তির ছবি ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট হায়দরাবাদের সায়দাবাদ থানা এলাকার সিঙ্গারেনি কলোনিতে ফাসি আহমদ নামের ৩৫ বছর বয়সী এক কাপড় ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কোপানোর দৃশ্য এটি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক ভিডিও ধারণ করেছিলেন যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অর্থাৎ, রাস্তায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্যটি বাংলাদেশে নয় বরং ভারতে ঘটেছে। প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।
ইতঃপূর্বে ভারতের একাধিক ভিডিও বাংলাদেশে ঘটনা বলে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো হলে তা নিয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিসমিসল্যাব।

