প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর আবাসিক এলাকার মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। আর কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য অপরাধ থেকে পার পেতে সেসব ক্যামেরা ভাঙচুর করছে- এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের বিহারের।
ফেসবুকে ‘শেখ আহমদ লিটন’ নামের একটি ব্যক্তিগত আইডি থেকে গত ১ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যালে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে ভেঙে ফেলছে। অডিওর প্রথম দিকে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঢাকা শহরের বড় বড় আবাসিক এলাকার প্রতিটা মোড়ে মোড়ে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়ে ওই এলাকাটাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে আর কিছু অপরাধী আছে তারা যে অপরাধ করতে পারবে না অপরাধ করলে যদি সিসি ক্যামেরায় ধরা খেয়ে যায়, এর জন্য এই কিশোর গ্যাং-এর সদস্যগুলো এই সিসি ক্যামেরাটাকে কিভাবে বাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলতাছে? আপনারা নিজের চোখেই দেখুন।”

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ ও পেজ থেকে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ইনস্টাগ্রামেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারত-ভিত্তিক গণমাধ্যম ইন্ডিয়া স্কোপ-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর শিরোনাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “পাটনায় সহিংস ছাত্র আন্দোলনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, লক্ষ্যবস্তু সরকারি সম্পত্তি |দেখুন”। পোস্টে বলা হয়েছে, ভিডিওটি বিহারের পাটনায়। বিহারজুড়ে ডাকা ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা করেছিল। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত-ভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পাওয়া যায়। ‘দৈনিক ভাস্কর’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে এবং ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৫ জুলাই বিহারজুড়ে শিক্ষার্থীরা ‘বিহার বন্ধ’ কর্মসূচি পালন করেছিল। সেই ছাত্র আন্দোলনের সময় বিহারের পাটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। সেই ঘটনার দৃশ্য এটি।

অর্থাৎ, ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের দৃশ্য বলে যে ফুটেজটি প্রচার করছে, সেটি আসলে বিহারের পাটনার ঘটনা।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৭ই মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এসব ক্যামেরা ভাঙচুরের কোনো তথ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায় নি।

