বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে বিএনপির চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত যৌথ বাহিনীর নির্বাচনী নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্য এটি।
ফেসবুকে “আমলসার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ” নামের একটি প্রোফাইল থেকে ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “বিএনপির চারজন নিহত সেনাবাহিনীর হাতে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।” ভিডিওর ভেতরে লেখা, “৩-৪ জন জায়গায় নিহত সেনাবাহিনীর হাতে।” গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি খোলা মাঠে আন্দোলনকারীদের সাথে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। এ সময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালালে কয়েকজনকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং দেড় হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে কালের কণ্ঠের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই ভিডিওর শিরোনাম ছিল, “কুমিল্লায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর মহড়া।” ভিডিওটির এক মিনিট ৫০ সেকেন্ড থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর আন্দোলনকারী ও যৌথ বাহিনীর পোশাক ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

একই ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “রাজাকার নিহত চার জন সেনাবাহিনীর হাতে ধন্যবাদ সেনাবাহিনীর চালিয়ে যাও।”
গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির ভেতরে লেখা হয়, “সেনাবাহিনীর সাথে জামাত শিবিরের ধাওয়াধাই মারামারি এবং তিনজন নিহত এই ভিডিও শেয়ার করে সারা বাংলা সরিয়ে দিন। (বানান অপরিবর্তিত)।” ভিডিওতে দেখা যায়, একটি খোলা মাঠে গাড়ি থেকে নেমে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা আন্দোলনরত মানুষদের লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৩ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং এক হাজার ৮০০ বার শেয়ার হয়েছে।
ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, কালের কণ্ঠের ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই একই ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওটির ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড পরবর্তী অংশের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর যৌথ বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের পোশাক এবং পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের মিল রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪) পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যৌথ বাহিনীর এই নির্বাচনী নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এ মহড়ায় অংশ নেয়। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মী নিহত হওয়ার দাবিতে প্রচারিত দাবিগুলো মিথ্যা। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত যৌথ বাহিনীর নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যকে বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

