মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক মহানবীর (সা.) ‘বেঁধে রাখা পাথর’ নয়, কায়রো বিমানবন্দরের ভাস্কর্য এটি

মহানবীর (সা.) ‘বেঁধে রাখা পাথর’ নয়, কায়রো বিমানবন্দরের ভাস্কর্য এটি

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাসমান পাথরের একটি ছবি দিয়ে এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় ১৪০০ বছর আগে দড়ি দিয়ে দুটি পাথর এভাবে বেঁধে রেখেছিলেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবিটি আসলে মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত একটি ভাস্কর্যের।

গত ২৭ আগস্ট (২০২৬) ফেসবুকে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ” নামের একটি গ্রুপে ‘এসো দ্বীন শিখি’ নামের পেজ ছবিটি পোস্ট করে। ছবিতে লেখা, “নবীজি ১৪০০ বছর আগে এই পাথর বেঁধে রেখেছেন! “আলহামদুলিল্লাহ”।” পোস্টে লেখা ছিল, “আলহামদুলিল্লাহ লিখে কমেন্ট করে যাবেন…”। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে এক হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, ৪০টি মন্তব্য ও সাতবার শেয়ার হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক মহানবীর (সা.) ‘বেঁধে রাখা পাথর’ নয়, কায়রো বিমানবন্দরের ভাস্কর্য এটি
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

একই দাবিতে ছবিটি বিভিন্ন সময়ে আরও বিভিন্ন পেজেও (, ,) ছড়াতে দেখা গেছে।

ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। তাতে স্টক ফটো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আলামি (Alamy)-তে একই ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। ছবির ক্যাপশনে ফরাসিতে লেখা, “অপটিক্যাল ইলিউশন ভাস্কর্য, শাবান আব্বাস, ২০০৮, টার্মিনাল থ্রি, কায়রো বিমানবন্দর, মিসর।”

মিসর সরকারের চারুকলা বিষয়ক সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শাবান মোহাম্মদ আব্বাসের শিল্পকর্ম কায়রোর আধুনিক মিসরীয় শিল্প জাদুঘর, কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গেজিরা আর্ট সেন্টারের গার্ডেন মিউজিয়ামে আছে। তিনি ২০১০ সালের ১৭ নভেম্বর ৪১ বছর বয়সে মারা যান।

আলামির ওয়েবসাইটে ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবি (বামে) এবং মিসর সরকারের চারুকলা বিষয়ক সরকারি ওয়েবসাইটে শাবান মোহাম্মদ আব্বাসের প্রোফাইল (ডানে)।

একই ধরনের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র ফ্যাক্টচেক শাখা ২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ভাসমান পাথরের শিল্পকর্মটি আব্বাসের। ভারতের ফ্যাক্টচেক সংস্থা এসএম হোক্স স্লেয়ারও ২০১৭ সালে এ নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দৃষ্টিবিভ্রম সৃষ্টিকারী শিল্পকর্মটি নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে ও ভাষায় মিথ্যে দাবি ছড়াতে দেখা গেছে।

আরো কিছু লেখা