সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, নেপালের বন্যার তিন দিন পর এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক উদ্ধার কাজের নয় বরং ভারতের পুরোনো একটি ঘটনার। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের নলকূপে পড়ে যাওয়া ৪ বছরের এক শিশুকে উদ্ধারের দৃশ্য এটি।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৩১ আগস্ট একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “নেপালে ধ্বংসের তিন দিন পর জীবিত শিশু উদ্ধার।” ২৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গর্তের ভেতর আটকে থাকা এক শিশুকে জুস খেতে দেওয়া হয়েছে। এর পরের অংশে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মী ও আশপাশের লোকজন মিলে শিশুটিকে ওই স্থান থেকে বের করে নিয়ে আসছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৩ লাখ ৩২ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং সাড়ে ৫০০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। ১৮ হাজারের অধিক ব্যবহারকারী পোস্টে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (১, ২, ৩) ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা যায়।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ২০২৬ সালের ১৭ মে ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ক্যাপশনের একটি অংশ বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় হয়, “হোশিয়ারপুরের চক সামানা গ্রামে দুর্ঘটনাবশত খোলা নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৪ বছরের এক শিশুকে ৯ ঘণ্টার এক দীর্ঘ অভিযানের পর উদ্ধার করা হয়েছে।”

ভিডিওটির সূত্র ধরে এই ঘটনার ব্যাপারে অধিকতর যাচাইয়ে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৫ মে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে খেলতে গিয়ে বাড়ির কাছে খননকৃত একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় গুরকরণ সিং নামের ৪ বছরের এক শিশু।

দীর্ঘ প্রায় ৯ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, গুরকরণের মুখ মাটিতে মাখামাখি হয়ে গেলেও সে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল।
অর্থাৎ, নেপালে ধ্বংসের পর এক শিশুকে উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত গত মে মাসে ভারতের পাঞ্জাবে একটি উদ্ধার অভিযানের দৃশ্য।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট নেপালে বন্যার ২ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬ বছরের শিশু মানিশাকে।

