ভারতে একের পর এক কবরস্থানে আগুন লাগিয়ে সেগুলো নষ্ট ও ধ্বংস করা হচ্ছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দৃশ্যগুলো ভারতের কোনো কবরস্থানের নয়। ভিডিওর একটি দৃশ্য সিরিয়ার আলেপ্পোর আল-সালেহিন কবরস্থানে আগুন লাগার ঘটনার, অন্য দৃশ্যটি মুম্বাইয়ের একটি বস্তি উচ্ছেদের।
ফেসবুকে ‘নিউ সাইফুল’ নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। স্ক্রিনে একসঙ্গে তিনটি ফুটেজ চলতে দেখা যায়। উপরের ফুটেজে একটি সমাধিস্থলে আগুন লাগার দৃশ্য দেখা যায়। নিচে বাঁ দিকের ফুটেজে একটি উচ্ছেদ অভিযানে কিছু নারী ও কিশোরীকে কাঁদতে দেখা যায়। আর ডান দিকে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “ভারত একের পর এক কবর স্থানে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, আমাদের কবর স্থান গুলো নষ্ট করতেছে, ধ্বংস করতেছে, পুড়িয়ে দিতেছে।”
এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৬৬ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। পোস্টটিতে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল, এবং শেয়ার হয়েছে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি বার।
ভিডিওর দুটি ফুটেজ থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে সিরিয়ার সংবাদমাধ্যম সিরিয়া টিভির প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ১৪ জুন প্রকাশিত এই ভিডিও প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে প্রথম ফুটেজটির দৃশ্যগত মিল পাওয়া যায়। প্রকাশিত ওই পোস্টে ভিডিওটির বর্ণনায় বলা হয়েছে, “আলেপ্পোর আল-সালিহিন কবরস্থানে হঠাৎ আগুন লেগেছে, কারণ এখনো জানা যায়নি।” অর্থাৎ, ভিডিওর দৃশ্যটি সিরিয়ার আলেপ্পোর। একই ভিডিও চ্যানেলটির ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশিত হয়।

দ্বিতীয় ফুটেজের ওপর ‘বান্দ্রা ইস্ট গরিব নগর’ লেখাটি লক্ষ্য করা যায়। এই শব্দটি নিয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে মুম্বাইভিত্তিক ফেসবুক পেজ এফথ্রি নিউজের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ২৩ মে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের বর্ণনায় লেখা ছিল, “বান্দ্রা গরিব নগর উচ্ছেদ অভিজানের ভাইরাল ভিডিও।” এই ভিডিওটির দৃশ্যের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওর দ্বিতীয় ফুটেজের দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়। শুধু ছড়ানো পোস্টে দৃশ্যের গতি বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক সার্চে বান্দ্রার গরিব নগর বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশনের পূর্ব পাশে গরিব নগরের বস্তিতে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ৫,২০০ থেকে ৫,৩০০ বর্গমিটার জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চার দিনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এতে রেলওয়ের জমিতে থাকা বাড়িঘর ও দোকানসহ ৪০০টিরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ভারতে কবরস্থানে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যগুলো ভিন্ন ঘটনার। একটি ফুটেজ কবরস্থানে আগুন লাগার ঘটনার হলেও তা সিরিয়ার আলেপ্পোর ঘটনা, অন্য দৃশ্যটি মুম্বাইয়ের একটি বস্তি উচ্ছেদ অভিযানের।

