ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে জুমার নামাজ পড়ানো ইমামদের প্রশাসন তুলে নিয়ে গেছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি গুজরাটের। নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার পরবর্তী দৃশ্য এটি।
ফেসবুকে ‘জাতির দুলাভাই ৪২০’ নামের পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। গত ২৩ আগস্ট প্রকাশিত এই পোস্টে একজনকে বলতে দেখা যায়, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে। যারা জুমার নামাজ পড়িয়েছে, সেই ইমামদেরকে তুলে নিয়ে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। আর কত মুসলিমরা নির্যাতন হবে?” এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ১৩ লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে, পোস্টে ৩৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল। শেয়ার করা হয়েছে ২৫ হাজারের বেশিবার।
ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম থেকে স্থিরচিত্র সংগ্রহ করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে গণমাধ্যম ‘ইটিভি তেলেঙ্গানা’র (ETV Telangana) ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ভিডিও প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যগত মিল পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াডের (ATS) একটি অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা গুজরাটে একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, সমন্বিত অভিযানে সাতজনকে গুজরাট থেকে এবং একজনকে প্রতিবেশী রাজ্য মধ্যপ্রদেশ থেকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) পাওয়া গেছে। এএনআইয়ের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাট এটিএসের অভিযানে জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে, পশ্চিমবঙ্গে জুমার নামাজ পড়ানো ইমামদের আটক করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
অতএব, পশ্চিমবঙ্গে জুমার নামাজ পড়ানো ইমামদের তুলে নেওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি মিথ্যা।



