নিজ এলাকায় শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। চাঁদপুরের কচুয়ায় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ২০২২ সালের।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২৪ আগস্ট ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “শিক্ষা ম.ন্ত্রীর গাড়ি ভা/ঙচুর নিজ এলাকায় !” (বানান অপরিবর্তিত) ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা এহছানুল হক মিলনের গাড়ির পেছনের অংশে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। তাকে বলতে শোনা যায়, “রশিদ, হোম মিনিস্টারকে বলো, আমার গাড়ি ভাঙছে কচুয়ায়।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় দুই লাখ বার দেখা হয়েছে এবং ১ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “শিক্ষা মন্ত্রী মুরগি মিলোনের গাড়ি ভাঙচুর নিজ এলাকায় রসিদ হোম মিনিস্টার কে বলো আমার গাড়ি ভাঙ্গতাছে কচুয়ায়… দল ক্ষমতায় তাই কেউ গুনছে না তোদের আর দল ক্ষমতায় না থাকলে তোদের লাশ ও খুজে পাওয়া যাবে না।(বানান অপরিবর্তিত)।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি তিন হাজারের অধিক বার দেখা হয়েছে।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (১, ২, ৩) থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত ভিডিওটির শিরোনাম, “পুলিশের উপস্থিতিতেই এহসানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলার অভিযোগ।” ভিডিওটির ১৮ সেকেন্ড থেকে দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। উভয় ভিডিওতেই এহছানুল হকের পোশাক, হামলার শিকার হওয়া গাড়ি ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের মিল দেখা যায়।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুরের কচুয়ায় এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই সময় তিনি ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। একই স্থানে স্থানীয় আওয়ামী লীগেরও ইফতার মাহফিলের কর্মসূচি থাকায় পুলিশ তাকে অন্য পথ ব্যবহার করার অনুরোধ জানায়। এরপর পুলিশ থাকা অবস্থায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করা হয়।
অর্থাৎ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে হামলার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর দাবিটি মিথ্যা। চাঁদপুরের কচুয়ায় ড. এহসানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের দৃশ্যটি ২০২২ সালের, তখন তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না।

