সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ভারতে মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে মুসলিমরা মন্দিরে ভাঙচুর চালাচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি ভারতের নয়, বাংলাদেশের দিনাজপুরের। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট দিনাজপুরে ‘জীবন মহল’ নামের একটি পার্কে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে লোকজন হামলা চালান। ভিডিওটি সে ঘটনার দৃশ্য।য়া
ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ২০ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, টুপি-পাঞ্জাবি পরা একদল জনতা একটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালাচ্ছে। ‘জীবন মহল’ লেখা সেই স্থাপনার ফটক, দেওয়াল এবং দেওয়ালের পাশে থাকা বাঘের মুখমণ্ডল সদৃশ ভাস্কর্যে হামলা চালানো হচ্ছে। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “ভারতে মসজিদ ভাঙার ফলে মন্দির ভেঙে দিচ্ছে মুসলিমরা মাশা-আল্লাহ।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্ট প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রায় ৯০০ ব্যবহারকারী এবং ভিডিওটি দুইশর অধিক শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ভিডিওটির বিভিন্ন কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ বাংলায় প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। ওই প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওর সাদৃশ্য লক্ষণীয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “দিনাজপুরের ‘জীবন মহল’ ঘিরে কী হয়েছিল ?” প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট বিনোদন পার্ক ও পিকনিক স্পট নামে পরিচিত ‘জীবন মহল’কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে তৌহিদি জনতার ব্যানারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে পার্কের কর্মচারী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাঁধে। যার জের ধরে জীবন মহলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তৌহিদি জনতা। তাদের অভিযোগ সেখানে ইসলাম বিরোধী ও অনৈতিক কর্মকান্ড সংঘটিত হতো।”

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। দৈনিক সমকালে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “দিনাজপুরের বিরলে ‘জীবন মহল’ নামে একটি বিনোদন পার্কের লোকজনের সঙ্গে ‘তৌহিদি জনতা’র দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।”
দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “স্থানীয় লোকজন পার্কে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ করে আসছিলেন। আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে আজ বিকেলে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তাঁর লোকজন। অন্যদিকে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে একই সময়ে সেখানে তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন স্থানীয় লোকজন।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা করে। এ সুযোগে বিনোদন পার্কের ভেতরে ঢুকে মালামাল লুটপাট করেন কিছু লোক। একপর্যায়ে পার্কের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।”
অর্থাৎ, ভারতে মসজিদে হামলার বিরুদ্ধে মুসলিমদের মন্দির ভাঙচুর করছেন, ছড়ানো ভিডিওর এ দাবিটি ভুয়া। মূলত এটি বছরখানেক আগে বাংলাদেশের বিনোদন পার্কে হামলা ও সংঘর্ষের দৃশ্য।

