মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 1 month old
ফ্যাক্টচেক নাইজেরিয়ার নৌকাডুবির প্রতিবেদনে জিম্বাবুয়ের ছবি ব্যবহার করল দৈনিক ইনকিলাব

নাইজেরিয়ার নৌকাডুবির প্রতিবেদনে জিম্বাবুয়ের ছবি ব্যবহার করল দৈনিক ইনকিলাব

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক নৌকাডুবির ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইনকিলাব। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দুটি ছবির একটি নাইজেরিয়ার নয়, বরং জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় পৃথক এক ফেরিডুবির দুর্ঘটনার।

গত ২২ আগস্ট দৈনিক ইনকিলাব তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিও প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। পোস্টের বর্ণনায় লেখা, “নাইজেরিয়ায় যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নি’হ’ত ৫০।” প্রতিবেদনে দুটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়। প্রথম ছবিতে মাটিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা রঙিন কাপড়ে মোড়ানো একাধিক মরদেহ দেখা যায়। দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, পাহাড়ঘেরা একটি জলাশয়ে উল্টে যাওয়া নীল রঙের একটি নৌযান, যার আশপাশে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট পরা মানুষ পানিতে সাঁতরাচ্ছেন এবং একটি ছোট নৌকা থেকে উদ্ধারকারীরা তাদের তুলে আনার চেষ্টা করছেন।

অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব প্রথম ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে রয়টার্সের ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায়। রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক আবুবকর ইমামের তোলা ছবিটির বিবরণে বলা হয়, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যের গোরাউ এলাকায় নৌকাডুবিতে নিহতদের মরদেহ দাফনের আগে একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রতিবেদনের প্রথম ছবিটি নাইজেরিয়ার ওই দুর্ঘটনারই।

ইনকিলাবের (বামে) এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে (ডানে) নাইজেরিয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের ছবি।

দ্বিতীয় ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব জিম সিটিজেন নিউজের ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত “লেক কারিবা ফেরিডুবিতে ৪৪ জন নিহত, নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আহ্বান জিম্বাবুয়ের রিভিল ফর জেনারেশন্স ট্রাস্টের” শীর্ষক প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে হুবহু মিল খুঁজে পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় একটি রাষ্ট্রীয় ফেরি ডুবে তখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিল। 

রয়টার্সের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, উদ্ধার চলাকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৪-এ দাঁড়ায়। জিম্বাবুয়ে সরকারের ভাষ্যমতে, ৯০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার ফেরিটি দুর্ঘটনার সময় প্রায় ১৮০ জন যাত্রী বহন করছিল।

জিম্বাবুয়ের ডেইলি নিউজের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেক কারিবার এই নৌকাডুবিকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা আখ্যা দেওয়া হয়। 

ফ্যাক্টচেক নাইজেরিয়ার নৌকাডুবির প্রতিবেদনে জিম্বাবুয়ের ছবি ব্যবহার করল দৈনিক ইনকিলাব
ইনকিলাবের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ছবিটি (বামে) আসলে নাইজেরিয়ার নয়, জিম্বাবুয়ের পৃথক এক ফেরিডুবির (ডানে)।

অর্থাৎ, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ছবিটি নাইজেরিয়ার নয়, জিম্বাবুয়ের পৃথক এক ফেরিডুবির দুর্ঘটনার, যা নাইজেরিয়ার নৌকাডুবির নয় দিন আগে ঘটেছিল। এর আগে জিম্বাবুয়ের দুর্ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে কঙ্গোর দুর্ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করেছিল আরেকটি সংবাদমাধ্যম। এ নিয়েও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

প্রসঙ্গত, গত ২০ আগস্ট নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে একটি অতিরিক্ত যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটি ধান কাটার শ্রমিক ও কৃষকদের নিয়ে গোরোনিও বাজারের দিকে যাচ্ছিল, এতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নিমা) নিশ্চিত করে, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫২, যাদের অধিকাংশই ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর।

আরো কিছু লেখা