মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
factcheck durga temple hindu house fire

দুর্গামন্দিরে আগুনের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি একটি বিদ্যালয়ের দৃশ্য

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

দুর্গামন্দিরসহ কয়েকটি হিন্দুবাড়িতে সরকারি দলের নেতারা আগুন দিয়েছেন, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি মন্দির বা হিন্দু সম্প্রদায়ের কারও বাড়ির ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, সুনামগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুন লাগার দৃশ্য এটি।

ফেসবুকের “সনাতন ধর্ম” নামের একটি প্রোফাইল থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “দূর্গামন্দীর সহও(৭/৮)টি হিন্দু বাড়ীতে,ভোররাতে আগুন ধরীয়ে দীয়ে পালীয়ে গেছে দলীয়নেতারা-!” (বানান অপরিবর্তিত)। ভিডিওতে একটি ভবনে আগুন লাগতে ও ধোঁয়া ছড়াতে দেখা যায়। ভিডিওতে এক ব্যক্তি ধারাবিবরণীর ভঙ্গিতে সরকারি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আগুন লাগানোর অভিযোগ তোলেন। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “এই সরকার ইউনুইচ্চার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ কে নর্দমায় নিক্ষেপ করতেছে” (বানান অপরিবর্তিত)। আরেকজনের মন্তব্য, “এইযে সাত আটটা ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে এটাই হচ্ছে ইসলামের ধর্মীয় আচরণ তাহলে এটা কেমন ধর্ম।” প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৭৫ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং ১ হাজার ৭০০ বার শেয়ার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে কিওয়ার্ড সার্চ করে মো. শাকির আলম (Mdshakir Alom) নামের ফেসবুক প্রোফাইলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “নুরনগর, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুব ভয়ংকর আগুন লেগেছে।” ভিডিওটির আগুনের দৃশ্য ও ভবনের অবকাঠামোর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর আগুন ও অবকাঠামোর মিল রয়েছে।

একই ঘটনার আরেকটি ভিডিও মো. কামরান আহমেদ (Md Kamran Ahmed) নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা হয়েছিল। শিরোনামে লেখা, “২ নং ভাটি পারা ইউনিয়ন গ্রাম নুরনগর হঠাৎ করে প্রাইমারি স্কুলে আগুন আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য সতা সতী গ্রামবাসীর উদ্যোগ।” (বানান অপরিবর্তিত)। ভবনটির ভেতরে ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মুক্ত পিলারযুক্ত নিচতলা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।

মো. শাকির আলম ও মো. কামরান আহমেদ-এর ফেসবুক প্রোফাইলে প্রচারিত ভিডিওর স্ক্রিনশট

বিস্তারিত জানতে ডিসমিসল্যাব সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতির্ময় তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করে। তিনি জানান ভিডিওটি তার বিদ্যালয়ের। এছাড়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈকত তালুকদার ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভবনের নিচতলায় স্তূপ করে রাখা পাটকাঠি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

সুতরাং, সুনামগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ে আগুন লাগার দৃশ্যকে দুর্গামন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, “সনাতন ধর্ম” নামের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দাবিতে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ডিসমিসল্যাব সম্প্রতি এমন দুটি দাবি (, ) খণ্ডন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আরো কিছু লেখা