
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে গত ৪ মার্চ একটি ভিডিও প্রকাশিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, এনটিভির ফেসবুক পেজে, যেখানে হাসনাত দেখাচ্ছিলেন যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন কনটেন্ট থেকে কীভাবে অর্থ আয় করছে।
সেখানে তিনি একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, সেটি থেকে তার ৩৩০ ডলার আয় হয়েছে। আরেকটি ভিডিও থেকে ৪০ ডলার আয় হয়েছে বলেও দেখান তিনি এবং বলেন যে মার্চের প্রথম দুই দিনেই তার অ্যাকাউন্ট ১২৯ ডলার আয় করেছে।
হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভ অনুযায়ী, হাসনাতের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয় এবং ৫ এপ্রিল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে হাসনাতের এই ফেসবুক থেকে অর্থ আয়ের সুযোগটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকা বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব দেখেছে, সেখানে এমন আরও অন্তত ১৩ জন রাজনীতিবিদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম আছে, যারা গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের প্রার্থী বা নির্বাচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল মেটার কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ আয়ের সুযোগ পাবেন না– এমনটি মেটার নীতিমালায় বলা থাকলেও এই সংসদ সদস্যরা মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছেন।
এদের মধ্যে আছে বাংলাদেশের ৩জন মন্ত্রীর ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল। ১৩টির মধ্যে ১২টিতে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিওতে বিজ্ঞাপনও চলতে দেখেছে ডিসমিসল্যাব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর অন্তত দুটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের আরও অন্তত ২২ জন সংসদ সদস্যদের নামে খোলা ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলও আছে মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়, যেগুলো ভেরিফায়েড না। এর মধ্যে ১০টি অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনের প্রচারণায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও চালানো হয়েছে ফেসবুকে।
মেটার নীতিমালায় নির্বাচনের প্রার্থী বা নির্বাচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মনেটাইজেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশের অন্তত ১৩ জন সংসদ সদস্যের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হচ্ছে না। যেখান থেকে প্রশ্ন ওঠে যে, মেটা মনেটাইজেশনের জন্য অ্যাকাউন্টগুলো কীভাবে যাচাই করে, নিয়মগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করে কিনা, এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন একটি প্ল্যাটফর্মের সাথে আর্থিক সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত কিনা যেটি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের হাতে থাকতে পারে।
মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটর্ম থেকে কারা মনেটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থ আয়ের জন্য বিবেচিত হয়েছেন– তা লিপিবদ্ধ করা হয় পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়। মেটা এর বিবরণে বলেছে, পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় সেসব পাবলিশারদের দেখানো হয় যারা মনেটাইজেশনের জন্য আবেদন করেছে এবং তাদের পার্টনার মনেটাইজেশন নীতিমালা অনুসরণ করে। এই তালিকা প্রতিদিন হালনাগাদ করা হয় বলেও জানায় মেটা। তালিকাটি মেটার ব্র্যান্ড সেফটি অ্যান্ড সুইটেবিলিটি সেন্টারের মাধ্যমে সবাই ডাউনলোড করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মনেটাইজেশন নীতিমালা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করা নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক সংগঠন হোয়াট টু ফিক্স মেটার এই তালিকা ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষণ করে এবং প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করে। ডিসমিসল্যাব হোয়াট টু ফিক্সের এই আর্কাইভও ব্যবহার করেছে, যেখানে দেখা যায় কোন অ্যাকাউন্ট কবে মেটার কোন মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছিল এবং সেগুলো এখনও সক্রিয় আছে নাকি মেটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াট টু ফিক্সের ব্যাখা অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্ট মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় আছে মানে সেটি একটি নির্দিষ্ট দিন থেকে মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে এবং সফলভাবে মেটার কয়েক ধাপের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

মেটার পার্টনার মনেটাইজেশন নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত ও নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা
নির্বাচনের প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নিবন্ধিত রাজনৈতিক কমিটি, সরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান মনেটাইজেশনের জন্য বিবেচিত হবে না।
২০১৭ সাল থেকে ইন-স্ট্রিম অ্যাডস এবং অ্যাডস অন রিলস প্রোগ্রামের মাধ্যমে ফেসবুকে ভিডিও কনটেন্ট নির্মাতাদের অর্থ আয়ের সুযোগ করে দিয়েছিল ফেসবুক। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তারা ঘোষণা দেয় যে, ভিডিওর পাশাপাশি ছবি, টেক্সটের মাধ্যমেও অর্থ আয়ের সুযোগ পাওয়া যাবে। মেটা নতুন এই প্রোগ্রামের নাম দেয় কনটেন্ট মনেটাইজেশন। ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন-স্ট্রিম অ্যাডস এবং অ্যাডস অন রিলস নামের মনেটাইজেশন প্রোগ্রামগুলো। এবং সব কিছু অন্তর্ভূক্ত হয়েছে কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে।
মেটার নতুন এই মনেটাইজেশন প্রোগ্রামটিতে কারা অংশ নিতে পারবে– সেই সিদ্ধান্ত শুধু মেটাই নেয় এবং যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তারা এই প্রোগ্রামের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। কেউ চাইলে এই প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমন্ত্রণ জানানো হয় মেটার পক্ষ থেকেই। ফলে বাংলাদেশের যেসব সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, তাদের কাছে এই মনেটাইজেশনের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে মেটার পক্ষ থেকেই।
তবে মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় থাকা মানেই যে কোনো অ্যাকাউন্ট সক্রিয়ভাবে অর্থ আয় করছে তা নিশ্চিত নয়, তবে এটি ইঙ্গিত করে যে মেটা অ্যাকাউন্টটিকে তার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের জন্য অনুমোদন দিয়েছে এবং অ্যাকাউন্টটির আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিসমিসল্যাব বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী অন্তত ১৩ জন রাজনীতিবিদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় খুঁজে পেয়েছে। ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনার সময় এই অ্যাকাউন্টগুলো মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে সক্রিয় ছিল।
এদের মধ্যে ৭ জন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ৫ জন প্রধান বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রীসভার সদস্য। শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ মেটার পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই। এবং এখনো এটি সচল আছে। সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি ফলোয়ারের এই পেজ থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী প্রচারণাসহ নানা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও চালানো হয়েছে। পেজটির ক্যাটাগরি হিসেবে আছে রাজনীতিবিদ এবং বায়োতে লেখা আছে যে তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ভেরিফায়েড পেজগুলোও আছে মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে। এসব পেজ মনেটাইজেশনের আওতায় এসেছে ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। দুইটি পেজেই আছে দুই লাখের বেশি ফলোয়ার। দুইটি অ্যাকাউন্টেরই বায়োতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয় গত ২২ জানুয়ারি। এর পরে মেটার পার্টনার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজীব প্রধানের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল মনেটাইজেশন চালু হয়েছে গত ৪ ফেব্রুয়ারি এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসকে ফরিদ আহমেদ মানিকের ভেরিফায়েড প্রোফাইলের মনেটাইজেশন চালু হয়েছে নির্বাচনের ঠিক আগের দিন, ১১ ফেব্রুয়ারি।
এই ১৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার দেখা যায় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে, যেখানে আছে ১৭ লাখের বেশি ফলোয়ার। পেজটিতে ক্যাটাগরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাজনীতিবিদ। পেজটির ট্রান্সপারেন্সি অংশে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই পেজটির জন্য দায়বদ্ধ।” পেজটি থেকে ২০২৫-২৬ সালে যে ৮টি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে তার অর্থও পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পেজটির বায়োতেও শুরুতে লেখা আছে “সংসদ সদস্য (পটুয়াখালি-২)”।
হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভ থেকে দেখা যায়, শফিকুল ইসলাম মাসুদের পেজটি মেটার ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে। পেজটিতে অ্যাডস অন রিলস চালু হয় ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে এটি হয় ফেসবুক কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ, যা এখনও কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সচল আছে।

ডিসমিসল্যাব শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চায় তার ভেরিফায়েড পেজে মনেটাইজেশন সক্রিয় আছে কিনা। তিনি বলেন, তাকে এটি যাচাই করে দেখতে হবে কারণ অ্যাকাউন্টটি তার আইটি টিম পরিচালনা করে। তিনি আরও বলেন, তার জানামতে তিনি ফেসবুক থেকে কোনো আয় করেন না।
হোয়াট টু ফিক্সের আর্কাইভ অনুযায়ী, হাসনাত আবদুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয় এবং ৫ এপ্রিল তালিকা থেকে বাদ পড়ে। ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনার সময় অ্যাকাউন্টটি মেটার বর্তমান পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় আর দেখা যায়নি, যা ইঙ্গিত করে যে এটি আর সক্রিয়ভাবে মনেটাইজেশনে যুক্ত নেই।
তবে হাসনাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইটি পেজ পাওয়া যায় মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়।
হাসনাত ফর কুমিল্লা-৪ নামের ১.২ মিলিয়ন ফলোয়ারের নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত পেজ পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল। এই পেজ থেকে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও প্রচারিত হয়েছে।
হাসনাতের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত আরেকটি ভেরিফায়েড পেজ, জবাবদিহিতা-ও আছে পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়। এটি সেখানে যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল। এই পেজটিতে আছে ৩ লাখেরও বেশি ফলোয়ার। এখান থেকে হাসনাতের নির্বাচনী এলাকায় আর্থিক বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট করা হয়।
এই তথ্য-উপাত্ত দেখায় যে হাসনাতের ফেসবুক আয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মেটা তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে মনেটাইজেশন সরিয়ে নিয়েছে, তবে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেজগুলো মনেটাইজেশনের জন্য যোগ্য হিসেবে রয়ে গেছে।
ডিসমিসল্যাব হাসনাত আবদুল্লাহর একজন সহযোগীর মাধ্যমে এবং সরাসরি তার ফোনে প্রশ্ন পাঠিয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল। প্রকাশনার আগে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
যে ১৩ জন সংসদ সদস্যের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে দেখা গেছে, সেসব অ্যাকাউন্টের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখা যায় কিনা– সেটিও যাচাই করে দেখেছে ডিসমিসল্যাব। দেখা গেছে, ১৩টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১২টিতেই বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে।
ডিসমিসল্যাব অ্যাকাউন্টগুলোর ভিডিও দেখেছে এবং ভিডিওর আগে, মাঝে বা নিচে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হওয়ার ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করেছে। যেহেতু বিজ্ঞাপন প্রদর্শন দর্শক, ডিভাইস, অবস্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই গবেষণা দল এই বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রতিটি অ্যাকাউন্ট কত অর্থ আয় করেছে তার প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এই মনেটাইজড অ্যাকাউন্টগুলোর কনটেন্টে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন পরিবেশন করছে তার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বিজ্ঞাপনগুলো দেখা গেছে বিভিন্ন ফরম্যাটে। কখনো ভিডিও চলতে চলতে বিজ্ঞাপন শুরু হয়েছে, যেটিকে মেটা মিড-রোল অ্যাডস হিসেবে বর্ণনা করে। আবার কখনো ভিডিওর নিচে ছবি আকারে কিছু বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে, যেটিকে বলা হয় সিঙ্গেল ইমেজ অ্যাডস।
যেমন, গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস. এম. জিলানীর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে সিঙ্গেল ইমেজ অ্যাড আকারে দেখা গেছে হরলিক্সের বিজ্ঞাপন। একইভাবে যশোর-৬ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে রুচি সসের বিজ্ঞাপন।

নীলফামারি-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে মিড-রোল অ্যাডস আকারে দেখা গেছে সেনসোডাইন টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন। আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের একটি ভিডিও চলার সময় দেখা গেছে সানসিল্ক শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন।
নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো দর্শকের অবস্থান বা ব্রাউজিং আচরণের উপর ভিত্তি করে মেটার অ্যালগরিদম দ্বারা নির্ধারিত হয়, অর্থাৎ একই ভিডিওতে ভিন্ন দর্শকদের কাছে ভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হতে পারে।
নির্বাচনের প্রার্থীদের অ্যাকাউন্ট মনেটাইজেশন নিয়ে মেটার নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়নি।
ডিসমিসল্যাব এমন একটি ঘটনা খুঁজে পেয়েছে যেখানে মেটা একজন বাংলাদেশি নির্বাচনী প্রার্থীকে শনাক্ত করার পর মনেটাইজেশন বাতিল করেছে। হোয়াট টু ফিক্সের আর্কাইভ অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেঘনা আলম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি তার মনেটাইজেশন বাতিল করা হয়।
আলম ডিসমিসল্যাবকে জানান যে মেটা তাকে একটি নোটিফিকেশন পাঠিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য মনেটাইজেশন সীমিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মনেটাইজেশন পুনরায় চালু করা হয় এবং ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনার সময় এটি সক্রিয় ছিল।
কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে মনেটাইজেশন বাতিল করা হয়নি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা তাসনিম জারার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের। ৭.৬ মিলিয়ন ফলোয়ারের এই ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিতে মনেটাইজেশন চালু আছে ২০২০ সালের জুলাই থেকে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেটি কোনো বিঘ্ন বা বিরতি ছাড়াই সচল আছে।
একই চিত্র দেখা গেছে সংসদ সদস্য হওয়া রাজনীতিবিদদের ১৩টি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও। ডিসমিসল্যাব এমন কোনো রেকর্ড খুঁজে পায়নি যা দেখায় যে মেটা নির্বাচনী প্রচারণার সময় বা তাদের নির্বাচিত হওয়ার পরে এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মনেটাইজেশন বাতিল করেছে।
ফেসবুকে ভেরিফায়েড নয়, কিন্তু আরও অন্তত ২২ জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নাম পাওয়া গেছে মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়।
যেহেতু এই অ্যাকাউন্টগুলো ভেরিফায়েড নয়, তাই ডিসমিসল্যাব এগুলোকে ১৩টি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেছে। তবে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে এমন নির্দেশক ছিল যা ইঙ্গিত করে যে এগুলো রাজনীতিবিদদের বা তাদের প্রতিনিধিত্ব করে: নয়টি অ্যাকাউন্টের ক্যাটাগরি “রাজনীতিবিদ” বা “রাজনৈতিক দল” হিসেবে তালিকাভুক্ত, সবগুলো নিয়মিত সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের কার্যক্রম সম্পর্কিত কনটেন্ট পোস্ট করে এবং ১০টি ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে, যার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার বিজ্ঞাপনও রয়েছে।
এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৩টি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল, বিএনপির সংসদ সদস্যদের। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামে খোলা একটি প্রোফাইলও আছে এই তালিকায়। প্রোফাইলটিতে আছে ৪৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলমের কোনো ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল পাওয়া যায়নি। তবে তার নামে চলতে দেখা যায় একটি পেজ ও একটি প্রোফাইল। দুইটিই খোলা হয়ছে ২০১৮ সালের এপ্রিলে। প্রোফাইলটির ফলোয়ার ৪৬ হাজার এবং পেজের ৫৭ হাজার। দুইটিই ফেসবুকের পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের অংশ।
গাজীপুর-৩ ও নঁওগা-৫ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও জাহিদুল ইসলাম ধলুর ফেসবুক পেজ মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে গত ১২ মার্চ ও ২০ এপ্রিল। এই দুই প্রোফাইল ভেরিফায়েড না হলেও রফিকুল ইসলামের পেজ থেকে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রচারণায় ২৩টি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে। দুইজনেরই প্রোফাইলের বায়োতে লেখা আছে যে তারা সংসদ সদস্য।
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ৮ জন সংসদ সদস্যের নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায়। চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ইলিয়াস মোল্লা এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনের প্রচারণায় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালাতে দেখা গেছে। এছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার ৮ লাখের বেশি ফলোয়ারযুক্ত ফেসবুক অ্যাকাউন্টও মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা তাদের পক্ষে প্রচারণাকারীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে ডিজিটাল প্রচারণা শুরু করার আগে প্ল্যাটফর্মের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ইমেইল ঠিকানাসহ শনাক্তকরণ তথ্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। একই বিধিমালা অনুযায়ী, কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পনসরশিপসহ সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণার সকল ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
হোয়াট টু ফিক্সের নির্বাহী পরিচালক ভিক্টর রিও বলেন, মেটার উচিত মনেটাইজেশনের জন্য অ্যাকাউন্ট অনুমোদনের আগে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা, বিশেষ করে যখন অ্যাকাউন্টগুলোতে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল বা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার লক্ষণ দেখা যায়।
“মেটার পার্টনার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে উন্নত করা উচিৎ,” ডিসমিসল্যাবকে বলেছেন রিও। তাঁর মতে, মেটার উচিৎ নো ইওর বিজনেস পার্টনার (কেওয়াইবিসি)-এর চর্চা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা।
রিও বলেন, এই কঠোর যাচাই-বাছাই শুধু রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, বরং অনেক ফলোয়ার আছে– এমন অ্যাকাউন্ট, নীতিমালা লঙ্ঘনের ইতিহাস আছে– এমন অ্যাকাউন্ট বা ইনঅথেনটিক বিহেভিয়রের লক্ষণ আছে– এমন অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের নামে খোলা আনভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো মনেটাইজেশনের জন্য যোগ্য হওয়া উচিত কিনা জানতে চাইলে রিও বলেন, মেটার উচিত একটি অ্যাকাউন্টকে ঘিরে যত রকমের তথ্য আছে– সব কিছু বিবেচনা করা।
“একই নামে একাধিক ব্যক্তির প্রোফাইল থাকতে পারে। কিন্তু যদি এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকে যে একটি অ্যাকাউন্ট কোনো প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে সেসব অ্যাকাউন্ট মেটার অনবোর্ডিং পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা উচিৎ না,” বলেন তিনি।
ডিসমিসল্যাব এই নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মেটার সাথে যোগাযোগ করেছে। মেটার জবাব পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।
সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আয়ের সুযোগ একটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত উদ্বেগও তৈরি করে। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা প্রযুক্তি নীতি, কর, প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ বা বিজ্ঞাপন বিধিমালা প্রণয়ন বা পর্যালোচনায় জড়িত থাকতে পারেন। তারা যে কোম্পানিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইন প্রণয়ন করবেন, সেই কোম্পানির সঙ্গেই আবার তাদের একটি আর্থিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কোনো কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ আয় করতে করতে সেই কোম্পানিকে জবাবদিহি করতে নিরপেক্ষ থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রশ্নটির কোনো জবাব দেননি।
তিনি বলেন, নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের তাদের কনটেন্ট মনেটাইজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। “একজন রাজনীতিবিদও দেশের একজন নাগরিক,” তিনি বলেন। “একজন নাগরিক হিসেবে অন্যরা যে সুযোগ পান, সেই সুযোগ সমানভাবে পাওয়া উচিত।”
তবে শফিকুল বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফেসবুক থেকে আয় করতে চান না এবং সেই অনুযায়ী তার আইটি টিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। “আমার জানামতে ফেসবুক থেকে আমার কোনো আয় নেই,” তিনি বলেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর মাধ্যমে মেটা সম্ভাব্য আইন ও জননীতি প্রণয়নকে কলুষিত করছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দিয়ে এবং দূরে সরাচ্ছে সমান অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতি।
“অন্যদিকে এটি মেটার মতো অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার গুরুত্ব যে ক্রমাগত বাড়ছে– তাও তুলে ধরে,” তিনি যোগ করেন।
ডিসমিসল্যাব ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের সাথে মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকা মিলিয়ে দেখে বাংলাদেশি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে।
মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় পেজের নাম বা আইডি দিয়ে সবাই খুঁজতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে কোন অ্যাকাউন্টগুলো এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত ছিল, কবে সেটি কোন মনেটাইজেশন প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে– তা দেখার জন্য ডিসমিসল্যাব হোয়াট টু ফিক্স পরিচালিত মনেটাইজেশন আর্কাইভ ব্যবহার করেছে, যা মেটার তালিকায় থাকা অ্যাকাউন্টগুলো, তাদের তালিকাভুক্তির তারিখ, প্রোগ্রামের ধরন ও স্ট্যাটাস পরিবর্তন ট্র্যাক করে।
ডিসমিসল্যাব ভেরিফায়েড ও আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলো আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেছে। আনভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ডিসমিসল্যাব প্রচারণার সময় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট তথ্যে অ্যাকাউন্টগুলো আছে কিনা যাচাই করেছে, তারপর সেগুলো মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকা ও হোয়াট টু ফিক্সের আর্কাইভের সাথে মিলিয়ে দেখেছে।
বিজ্ঞাপন প্রদর্শন যাচাই করতে ডিসমিসল্যাব ১৩টি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ভিডিও দেখেছে এবং ভিডিওর আগে, মাঝে বা নিচে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হওয়ার উদাহরণ নথিভুক্ত করেছে। যেহেতু বিজ্ঞাপন প্রদর্শন দর্শক, ডিভাইস, অবস্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই উদাহরণগুলো আয় হিসাব করতে নয়, বরং কনটেন্টে বিজ্ঞাপন পরিবেশিত হচ্ছে তা নথিভুক্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছে।
মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকায় কোনো অ্যাকাউন্টের যোগ হওয়ার তারিখগুলো ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার তারিখের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যাতে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার পর কোন অ্যাকাউন্টগুলো মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছে তা শনাক্ত করা যায়।