অপরিচিতের পাঠানো মেসেজ যেভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধের হাতিয়ার হচ্ছে

অপরিচিতের পাঠানো মেসেজ যেভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধের হাতিয়ার হচ্ছে

অচেনা কারও কাছ থেকে একটি মেসেজ এল। পড়ার আগেই সেটি মুছে গেল। কিছুক্ষণ পর মেটা নির্দিষ্ট প্রমাণ উল্লেখ না করে জানালো, ‘হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন’ বা ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ নীতি ভঙ্গের অভিযোগে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের লক্ষ্য করে মেটার নীতি প্রয়োগ ব্যবস্থার একটি সম্ভাব্য দুর্বলতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

গত ২১ মে চট্টগ্রামের অ্যাক্টিভিস্ট জায়ান আহমেদ রনির কাছে ফেসবুকে একটি মেসেজ আসে। পড়ার আগেই প্রেরক মেসেজটি মুছে ফেলে এবং বেশ কয়েকবার এর পুনরাবৃত্তি হয়। বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি তিনি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মেটা থেকে ইমেইল দিয়ে তাকে জানানো হয়, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ নীতি ভঙ্গের কথা বলা হয়। আপিল করে কিছুক্ষণের জন্য অ্যাকাউন্ট ফেরত পেলেও, আবার তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। এখনো অ্যাকাউন্ট ফেরত পাননি তিনি।

এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। ডিসমিসল্যাব রনিসহ মোট পাঁচটি ঘটনাকে পর্যালোচনা করেছে। ২১ ও ২২ মে-র মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে, এমন পাঁচ সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জানান, মেসেঞ্জারে অচেনা অ্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনক মেসেজ পাঠিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তা মুছে ফেলা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্ট বন্ধের এই কৌশলে অভিনব মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

‘ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ সাইবারফোর্স’ নামে একটি ফেসবুক নেটওয়ার্ক প্রকাশ্যে একটি ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। ২৫ মে এক ফেসবুক পোস্টে গ্রুপটি দাবি করে, তারা মাত্র তিন দিনে , যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল “বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে কটু কথা বলা”র। যদিও ডিসমিসল্যাব এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সাংবাদিক, সমালোচক ও অ্যাক্টিভিস্টদের লক্ষ্য করে সংগঠিত ক্যাম্পেইনে এর আগেও এই নেটওয়ার্কের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি রিভিউ-বোম্বিং ক্যাম্পেইন নিয়ে ডিসমিসল্যাব পূর্বে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল।

ডিসমিসল্যাবের পর্যালোচনা করা পাঁচটি ঘটনা থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মেসেঞ্জার ও মেটার প্রয়োগ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে শক্ত ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মেসেঞ্জারে এমন সব মেসেজ পাঠানো হচ্ছে, যেগুলো মেটার নিয়মে ‘হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন’ অথবা ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ হিসেবে ধরা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে তারা ব্যবস্থা নেওয়ায় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

একই ধরনের কৌশল শেখানো ডজনখানেক টিউটোরিয়াল ভিডিও আমরা অনলাইনে পেয়েছি। ভিডিওগুলোতে দেখানো হচ্ছে, কীভাবে মেসেঞ্জার ব্যবহার করে এবং মেটার প্রয়োগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে কারও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া যায়।

মেসেঞ্জারের এমন অপব্যবহার, প্রয়োগ ব্যবস্থার অপব্যবহারকে কীভাবে তারা শনাক্ত করে এবং এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না— মেটার কাছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি কোনো উত্তর দেয়নি।

ডিসমিসল্যাবের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগীরা বলেছেন, অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে রিপোর্টিং, জনমত গঠন এবং যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাদের মতে, এ ধরনের আক্রমণ মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভীতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

পাঁচটি অ্যাকাউন্ট, একই কৌশল

ডিসমিসল্যাবের নেওয়া পাঁচজন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। প্রক্রিয়ার শুরু একটি অপরিচিত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে যোগাযোগের মাধ্যমে, কখনো পোস্টে মন্তব্য, কখনো মেসেঞ্জারে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীকে সেই মেসেজটি ‘দেখানো’। মেসেজ খুলতেই একটি দীর্ঘ লেখাযুক্ত মেসেজ পাঠানো হয় ভুক্তভোগীকে। মেসেজটি দেখা মাত্রই মুছে ফেলা হয়। একাধিক ক্ষেত্রে এই মেসেজ পাঠানো এবং মুছে ফেলার ঘটনা বারবার ঘটতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী প্রাপক কিছু বুঝে ওঠার আগেই আবিষ্কার করে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিচে আমরা দেখব পাঁচ ভুক্তভোগীর সঙ্গে কী হয়েছিল। প্রত্যেক ঘটনা পড়তে স্ক্রল করুন।

০১ / ০৫ — ২১ মে

জায়ান আহমেদ রনি

চট্টগ্রামের অ্যাক্টিভিস্ট · মেটা-ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট

গত ২১ মে রনির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি মেসেজ আসে। মেসেজটি আসতে আবার দ্রুত মুছে ফেলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এভাবে মেসেজ পাঠিয়ে মুছে ফেলার ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটে। রনি কিছুটা পড়েই বুঝতে পারেন, এই মেসেজে যৌনতা সম্পর্কিত কিছু কথা লেখা। তিনি কোনো জবাব দেননি। একটু পরেই মেটা থেকে ইমেইল পাঠিয়ে তাকে জানানো হয়, অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশনের কারণে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপিল করার পর তিনি কিছুক্ষণের জন্য অ্যাকাউন্ট ফিরে পান। তবে আবার সেটি বন্ধ হয়ে যায় — বছরের পর বছরের স্মৃতিসহ। এখনো সেই অ্যাকাউন্ট তিনি ফিরে পাননি।

বন্ধের কারণ: অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন
জায়ান আহমেদ রনির বন্ধ হওয়া ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট
০২ / ০৫ — ২১ মে

কদরুদ্দিন শিশির

সাংবাদিক

শিশিরের একাধিক পোস্টের কমেন্টে এক অচেনা আইডি বারবার সাহায্য চাইছিল। এরপর ২১ মে ওই প্রোফাইল থেকেই মেসেঞ্জারে একাধিক মেসেজ আসে। তবে উত্তর দেওয়ার মাঝপথেই তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়ে যায়। মেসেজগুলোর মধ্যে একটি অংশ তিনি শেষ পর্যন্ত পড়ে উঠতে পারেননি, কারণ সেটি পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলা হয়। মেটা তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার কারণ হিসেবে ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ নীতি ভঙ্গের কথা বললেও ঠিক কোন ঘটনার কারণে এই পদক্ষেপ, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।

বন্ধের কারণ: হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন
কদরুদ্দিন শিশিরের বন্ধ হওয়া ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট
০৩ / ০৫ — ২২ মে ও ৩০ জুন

জাইমা ইসলাম

সাংবাদিক

নারীর নামযুক্ত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২২ মে জাইমার কাছে সাহায্য চেয়ে মেসেজ পাঠানো হয়। একই প্রোফাইল থেকে দুইবার কলও দেওয়া হয় তাকে। জাইমা প্রথমবার না ধরলেও দ্বিতীয়বার কল রিসিভ করেন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর তাকে আবার একই অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ পাঠানো হয় ৩০ জুনে। এর কিছুক্ষণ পরেই মেটা আবার তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। তবে গত ১০ জুলাই তিনি তার অ্যাকাউন্ট ফিরে পান।

বন্ধের কারণ: অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন
জাইমা ইসলামের বন্ধ হওয়া ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট
০৪ / ০৫ — ২২ মে

মোঃ সাইফুল্লাহ

অ্যাক্টিভিস্ট

নারীর নামযুক্ত একটি প্রোফাইল থেকে কিছু মেসেজ বা কোডের মতো দেখতে একটি দীর্ঘ লেখা তাকে পাঠানো হয় গত ২২ মে। মেসেজগুলো তাকে পাঠিয়ে আবার মুছে ফেলা হয়। বারবার একই ঘটনা ঘটায়, তিনি আর জবাব দেননি। পরক্ষণেই আবিষ্কার করেন তার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানেন না কেন তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

বন্ধের কারণ: কারণ জানানো হয়নি
মোঃ সাইফুল্লাহর বন্ধ হওয়া ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট
০৫ / ০৫ — ২২ মে

কাজী মাজহারুল ইসলাম

অ্যাক্টিভিস্ট

গত ২২ মে তিনি একটি মেসেজ পান যেখানে তার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছিল। এরপর বারবার একটি দীর্ঘ মেসেজ পাঠিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছিল। এরপর প্রেরক বলেন, আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে মেসেজ করা হয়েছে সেটি চেক করতে। তিনি আরেকটি প্রোফাইল থেকে আসা মেসেজগুলো খুললে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তিনিও মেটার কাছে আপিল করেছেন, তবে এখনো অ্যাকাউন্ট ফিরে পাননি।

বন্ধের কারণ: অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন
কাজী মাজহারুল ইসলামের বন্ধ হওয়া ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট
০১ / ০৫

কীভাবে হচ্ছে এই রিপোর্টিং

পাঁচজন ভুক্তভোগীই ডিসমিসল্যাবকে জানায় তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে অপরিচিত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে তারা মেসেজ পান।

এই সুনির্দিষ্ট আক্রমণগুলো কীভাবে চালানো হয় তা বুঝতে ডিসমিসল্যাব অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করা এবং ফেসবুকের অ্যাকশন ট্রিগার করার উপায় সম্পর্কিত বিভিন্ন ওপেন-সোর্স কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। ফেসবুকে অনুসন্ধান করে এমন কয়েকটি ভিডিও ও পোস্টের খোঁজ পাওয়া যায়, যেখানে বর্ণিত প্রক্রিয়ার সাথে ভুক্তভোগীদের সাথে ঘটা ঘটনার হুবহু মিল রয়েছে।

‘সাব্বির সাইবারল্যাব’, ‘বাংলাদেশ সাইবার স্কোয়াড’, ‘শ্যাডো কোর রিকভারি ইউনিট’ এবং ‘আরডিসিএস সাইবার’-এর মতো নামধারী কিছু পেজ ও গ্রুপে ভিডিওগুলো পাওয়া যায়। মেসেজ হিসেবে ‘হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন’ অথবা ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ বিষয়ক সংবেদনশীল শব্দ পাঠানো, পরক্ষণেই তা মুছে ফেলা এবং শেষে চ্যাটটি মেটার কাছে রিপোর্ট করার পুরো ধাপগুলো সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।

শুধু ফেসবুকেই নয়, একই ধরনের নির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায় অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও। বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করার টিপস, ইউটিউবে একই কৌশলের একটি টিউটোরিয়াল এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘ভোয’-এ শেয়ার করা একটি নোট খুঁজে পেয়েছে ডিসমিসল্যাব। উক্ত ইউটিউব ভিডিওটির ভিয়েতনামী শিরোনামের অর্থ দাঁড়ায়—‘সর্বশেষ মেসেজ রিপোর্টিং/নিষিদ্ধ করার টিউটোরিয়াল।’

একাধিক প্ল্যাটফর্মে এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় একই ধরনের নির্দেশাবলী পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এই কৌশলটি কেবল বাংলাদেশের ভেতরেই সীমিত নয়; বরং এটি মেটার প্রয়োগ ব্যবস্থাকে টেক্কা দিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার একটি বৈশ্বিক বা বড় ধরনের কৌশলের অংশ।

পাঁচটি ধাপ, একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ — ভুক্তভোগীদের বয়ান ও অনলাইন টিউটোরিয়াল থেকে যা জানা গেছে।

০১ / ০৫
০১ / ০৫

যোগাযোগের শুরু

একটি অপরিচিত প্রোফাইল থেকে প্রাথমিক যোগাযোগ— হতে পারে একটি মন্তব্য, ফলো বা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টের মাধ্যমে— কখনো কখনো সাহায্য চেয়ে অথবা কোনো আলাপ শুরুর চেষ্টা।

01

যোগাযোগের শুরু

একটি অপরিচিত প্রোফাইল থেকে প্রাথমিক যোগাযোগ— হতে পারে একটি মন্তব্য, ফলো বা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টের মাধ্যমে— কখনো কখনো সাহায্য চেয়ে অথবা কোনো আলাপ শুরুর চেষ্টা।

02

মেসেজ রিকুয়েস্ট

একটি মেসেজ রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে আলাপের থ্রেড তৈরি করা, যা পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট রিপোর্টিং-এর প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। মেসেজ রিকুয়েস্ট মূলত মেসেঞ্জারের একটি অংশ, যেখানে ফ্রেন্ড লিস্টের বাইরের কেউ মেসেজ পাঠালে তা জমা করে রাখা হয়।

03

নির্দিষ্ট বার্তা

‘হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন’ অথবা ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’-এর ইঙ্গিত দেয়, এমন একটি মেসেজ আলাপের মধ্যে পাঠানো হবে অপরিচিত সেই প্রোফাইল থেকে, যা মেটার নীতিকে ভঙ্গ করে।

04

পাঠাও, মুছে ফেল

মেসেজটি পাঠিয়েই দ্রুত মুছে ফেলা হয়। এভাবে বারবার পাঠিয়ে মুছে ফেলার কাজটি করা হয়। সবই ঘটবে প্রাপক কোনো প্রমাণ রাখার আগেই। কিছু ক্ষেত্রে যদি প্রথমবার কোনো কাজ না হয়, দ্বিতীয় একটি অপরিচিত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

05

অ্যাকাউন্ট বন্ধ

মিনিট খানেকের মধ্যে নোটিশ আসে যে, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ঠিক কোন মেসেজ বা কাজের কারণে মেটা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে তাদের কখনোই জানানো হয়নি।

মেটার নীতিমালা, এআই নীতি প্রয়োগ এবং উত্তর না পাওয়া কিছু প্রশ্ন

ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে যে ধরনের মেসেজ পাঠানো হয়েছে, তা মূলত মেটার দুটি কমিউনিটি নীতিমালার শর্ত ব্যবহার করে সাজানো—অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন ও হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন। মেটার অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, “যেসব ভাষা পরোক্ষভাবে যৌন প্ররোচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, সেগুলোর প্রকাশও আমরা সীমাবদ্ধ করি; কারণ বিশ্বজুড়ে আমাদের কমিউনিটির অনেকেই এই ধরনের কনটেন্ট পছন্দ নাও করতে পারেন।” আবার হিউম্যান এক্সপ্লয়টেশন নীতির বিষয়ে মেটা স্পষ্ট করেছে যে, “নীতিমালা অমান্যকারী অ্যাকাউন্টের সাথে যোগাযোগ রাখা, ক্ষতিকর কনটেন্ট সার্চ করা বা তাতে ক্লিক করা, অথবা নীতি ভঙ্গের কারণে বন্ধ হওয়া কোনো গ্রুপের সদস্য থাকার প্রমাণ মিললেও আমরা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারি।”

ভুক্তভোগীদের আইডি রিপোর্ট করতে যেসব মেসেজ পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোও আসলে ফেসবুকের এসব নীতির খেলাপ। যেমন, দেহব্যবসা বা যৌন সেবা দেওয়ার প্রস্তাবসংক্রান্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। ডিসমিসল্যাবের সাথে কথা বলা পাঁচ ভুক্তভোগীর মধ্যে তিনজনই জানিয়েছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পেছনে ‘অ্যাডাল্ট সেক্সুয়াল সলিসিটেশন’ নীতি ভঙ্গের কথা জানিয়েছে মেটা।

নীতি ভঙ্গের বিষয় আরও সহজে শনাক্ত করতে চলতি বছরের মার্চেই এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় নীতি প্রয়োগ বাড়িয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তাদের এআই সিস্টেম “মানুষ পরিচালিত রিভিউ টিমের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত যৌন আবেদনমূলক কনটেন্ট ধরে ফেলতে পারে এবং একই সাথে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার হার ৬০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে আনে।”

নীতিমালা লঙ্ঘনকারী মেসেজগুলো পাঠানো ও পরবর্তীতে তা রিপোর্ট করার কারণেই সুনির্দিষ্টভাবে ভুক্তভোগীদের অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিত করা হয়েছে, নাকি এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এআই-চালিত মডারেশনের কোনো ভূমিকা ছিল—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব। তবে ভুক্তভোগীদের পাওয়া মেসেজগুলো, অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্যে মেটার দেওয়া কারণসমূহ এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে থাকা টিউটোরিয়ালগুলোতে দেখানো রিপোর্টিং প্রক্রিয়া থেকে ধারণা করা যায়, এতে মেটার নীতিমালার লঙ্ঘন এবং স্বয়ংক্রিয় নীতি প্রয়োগ ব্যবস্থা জড়িত ছিল।

ভারতের সাম্প্রতিক একটি ঘটনা থেকেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেটা সক্রিয়ভাবে এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় নীতি প্রয়োগ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক পোস্ট সরিয়ে ফেলেছিল মেটা। পরবর্তীতে তারা ভারত সরকারকে জানায়, একটি এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভুলেই পোস্টটি মুছে গিয়েছিল।

মেসেঞ্জারে রিপোর্ট করার মাধ্যমটি অপব্যবহার করে কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা সম্ভব কি না, এবং তা সত্য হলে এই সমস্যাটি সমাধানে তাদের কী পরিকল্পনা রয়েছে— তা মেটার কাছে জানতে চেয়েছিল ডিসমিসল্যাব। তবে মেটা কোনো সাড়া দেয়নি।

আইডি বন্ধের এই ক্যাম্পেইনের পেছনের নেটওয়ার্ক

মেটার নীতি প্রয়োগ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিক এবং অ্যাক্টিভিস্টদের লক্ষ্য করে আইডি বন্ধ করানোর এই ক্যাম্পেইনের পেছনে কারা যুক্ত, সেটি খতিয়ে দেখেছে ডিসমিসল্যাব। ঘুরেফিরে সামনে আসে ‘ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ’-এর নাম।

এই নেটওয়ার্কের উৎপত্তি খুঁজতে গেলে যেতে হবে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়টিতে। ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবরে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলটির কিছু সমর্থক ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে। পেজটির কর্মকাণ্ড ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা। তখন থেকে পেজটি নিয়মিতভাবে দলটির সমর্থনে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে কনটেন্ট তৈরি করছে।

২০২৫ সালের ৩ মার্চ আরেকটি ফেসবুক পেজ হাজির হয়, যার নাম ক্র্যাক প্লাটুন-বাংলাদেশ সাইবার ফোর্স। পেজটির সঙ্গে মূল ক্র্যাক প্লাটুন পেজের সম্পর্ক দেখা যায়। শুরু থেকেই পেজটি বারবার রাজনৈতিক বিরোধীদের ফেসবুক প্রোফাইল এবং পেজ স্থগিত করে দিয়েছে বলে দাবি করতে থাকে। এছাড়া, তাদের পক্ষের/সমর্থকদের স্থগিত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে আনা নিয়ে উদযাপনও করতে দেখা গেছে।

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এদের মধ্যে একাধিক অ্যাকাউন্ট ক্র্যাক প্লাটুন-বাংলাদেশ সাইবার ফোর্স নামের একটি প্রাইভেট ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গেও যুক্ত। একই গ্রুপ রিভিউ বোম্বিং ক্যাম্পেইনেও অংশ নেয়। এই কর্মসূচিতে সংবাদ মাধ্যম, রাজনৈতিক বিরোধী এবং সমালোচকদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অসংখ্য নেগেটিভ রিভিউ দেওয়া হয়।

রিভিউ বোম্বিং-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক অ্যাকাউন্টকে ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের পক্ষে প্রচার করতে দেখা গেছে। নিচে পেজ, প্রোফাইল এবং গ্রুপগুলো কীভাবে জড়িত সেটি নেটওয়ার্ক ম্যাপের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

রায়ান ড্র্যাপার লোন ওয়াকার ২২ মে, রাত ১:৫৩ অ্যাপ্রোএক্সকেএস আরাশ জুলিয়ান হান্টার ক্র্যাক প্লাটুন-বাংলাদেশ সাইবারফোর্স চারজনই কর্মস্থল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ক্র্যাক প্লাটুন-বাংলাদেশ সাইবার ফোর্স (গ্রুপ) প্রাইভেট গ্রুপ অরণ্য আবির নিলয় রহমান নাজমুল হাসান একই তিন অ্যাডমিন পূর্বে যুক্ত ছিলেন সংঘবদ্ধ রিভিউ-বম্বিং ক্যাম্পেইনে

অ্যাকাউন্ট হারানোর ক্ষতি

কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে তার খেসারত দিতে হয় ব্যক্তিগত ও পেশাগত—উভয় জীবনেই। এর প্রভাব শুধু ফেসবুক ব্যবহারে বাধা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ভুক্তভোগীই তাদের জীবনের স্মৃতি জড়ানো বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা ছবি, ভিডিও ও দরকারি নথি হারিয়েছেন, যা অন্য কোথাও সেভ করা ছিল না। অন্যদিকে, বহু কষ্টে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা অনুসারী হারিয়ে ফেলায় অনেকেরই মতামত ও বক্তব্য নির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে সাংবাদিকদের কাজও। বন্ধ হয়ে যায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘটনা তাদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সাংবাদিক ও ভিন্নমত দমন করতেই এই ধরনের সুপরিকল্পিত আইডি বন্ধের ক্যাম্পেইন চালানো হতে পারে। এটি ডিজিটাল সেন্সরশিপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কারিগরি ‘লুপহোল’ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মত প্রকাশকে রুদ্ধ করার বিষয়েও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যা গণতান্ত্রিক বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করবে।

জায়ান আহমেদ রনি
জায়ান আহমেদ রনি
হারানো স্মৃতি

জুলাই আন্দোলনের সময় অনেক ভিডিও ও ছবি ফেসবুক আপলোড করছিলাম। সেগুলো তো আর ফেরত পাব না।

ব্যক্তিগত আর্কাইভ হারিয়েছে
কাজী মাজহারুল ইসলাম
কাজী মাজহারুল ইসলাম
হারানো পাঠক

আগে যখন কিছু লিখতাম, মানুষ পড়ত। এখন আবার সেই ফলোয়ার তৈরি করার মতো সময় দিতে পারব না।

ফলোয়ার হারিয়েছে
কদরুদ্দিন শিশির
কদরুদ্দিন শিশির
সাংবাদিকতায় ব্যাঘাত

(অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া) আমার সাংবাদিকতার কাজে গুরুতরভাবে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

রিপোর্টিং বিঘ্নিত
জাইমা ইসলাম
জাইমা ইসলাম
ভীতিকর নজির

যদি এটি আমার সঙ্গে হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও এটি হতে পারে।

সেন্সরশিপের ভয়

অ্যাকাউন্ট বন্ধেই শেষ নয়

এ সমস্যা কেবল অ্যাকাউন্ট হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নিউ ইয়র্কভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠান রিশট ল ফার্ম-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মেটার জটিল ও স্বয়ংক্রিয় আপিল প্রক্রিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেসবুক আইডি ফিরে পেতে ব্যবহারকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি এবং গুরুতর নীতিভঙ্গের তকমায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সদুত্তর ছাড়াই যখন একের পর এক স্বয়ংক্রিয় প্রত্যাখ্যান আসতে থাকে, তখন ব্যবহারকারীদের মানসিক যন্ত্রণার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

মেটার ওভারসাইট বোর্ড নিয়ে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের রিপোর্ট দেখিয়েছে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানিটির প্রতিক্রিয়া ঠিক কতটা দায়সারা ও অপর্যাপ্ত। পুরো অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল এক সাংবাদিককে দেওয়া সহিংসতার হুমকির সত্যতা যাচাইয়ের একটি ঘটনা দিয়ে। রিভিউতে মেটার শাস্তি দেওয়ার দ্বিমুখী নিয়মে বড় ধরনের সমস্যা ধরা পড়ে যাকে টেকক্রাঞ্চ বলছে “পদ্ধতিগত মানবাধিকার ঝুঁকি।” মেটা মূলত দুইভাবে সাজা দেয়—এক, অ্যাকাউন্টে একের পর এক স্ট্রাইক যোগ হওয়া, আর দুই, ‘গুরুতর অপরাধের’ অজুহাতে আইডি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ কোন অপরাধের জন্য কোন শাস্তি প্রযোজ্য, তার সুস্পষ্ট কোনো লিখিত নিয়মনীতিই নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা মূলত সার্বক্ষণিক সহায়তা বা ২৪/৭ সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ‘ভেরিফায়েড’ স্ট্যাটাসের জন্য ফি আদায় করে। কিন্তু ওভারসাইট বোর্ড দেখিয়েছে, অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকরাও অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে মেটার পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সাহায্য পাননি। উল্লেখ্য, ডিসমিসল্যাবকে সাক্ষাৎকার দেওয়া জায়ান আহমেদ রনির অ্যাকাউন্টটিও ভেরিফায়েড ছিল।

টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওভারসাইট বোর্ড এখন মেটাকে বেশ কয়েকটি দাবির বিষয়ে চাপ দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীদের নীতি লঙ্ঘনের ইতিহাস দেখার একটি ড্যাশবোর্ড প্রদান করা, ঠিক কোন নিয়মটি কখন ভাঙা হয়েছিল তা সুস্পষ্টভাবে নোটিশে উল্লেখ করা, এবং মানবিক পর্যালোচনার বদলে পুরো নীতি প্রয়োগ প্রক্রিয়ার ঠিক কতটুকু অংশ এআই দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে তা সরাসরি জানানো।