মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

পার্থ প্রতীম দাস

ম্যানেজার, রিসার্চার (ডেটা অ্যান্ড টেক)
meta violates own policy on content monetization

নীতিমালা মানেনি মেটা, মনেটাইজেশনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৯ ফেসবুক পেজ

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

পার্থ প্রতীম দাস

ম্যানেজার, রিসার্চার (ডেটা অ্যান্ড টেক)

“গত বছরে মনে হয় ১০ ডলার মতো দিয়েছিল, সেটা ফেসবুকেই পড়ে আছে। উইথড্র করি নাই,” ফেসবুক পেজ থেকে আয় প্রসঙ্গে বলছিলেন পেজটি পরিচালনা করা কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা। মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ মনেটাইজেশনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ১৯টি ফেসবুক পেজ পাওয়া গেছে, যেগুলো পাচ্ছে ফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগ।

এসব পেজের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভেরিফায়েড পেজ যেমন আছে, তেমনটি আছে অন্তত ১৪টি জেলা পর্যায়ের পুলিশ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ। সবগুলো পেজই বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে লিংক আকারে যুক্ত আছে। ফেসবুকে বেশিরভাগ পেজই নিজেদের ক্যাটাগরি হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠান, পুলিশ স্টেশন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বলে উল্লেখ করেছে। এরপরও মেটা তাদের নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসব পেজকে তাদের কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মেটার পার্টনার-পাবলিশার তালিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনেটাইজেশন নীতিমালা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক সংগঠন হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভ ব্যবহার করে এসব পেজ শনাক্ত করেছে ডিসমিসল্যাব।

মেটা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ফেসবুক পেজ আয়ের সুযোগ পাচ্ছে অন্তত ২০২০ সাল থেকে। ডিসমিসল্যাব এমন দুইটি পেজ পেয়েছে যেগুলো ওই বছর মেটার ইন-স্ট্রিম অ্যাড প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও ১৭টি ফেসবুক পেজ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের আগস্টেও মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে একেবারে নতুন করে যুক্ত হতে দেখা গেছে একটি পেজকে।

এই বিশ্লেষণটি ডিসমিসল্যাবের মেটা মনেটাইজেশন সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, তিনজন মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বাংলাদেশের অন্তত ১৩ জন আইনপ্রণেতার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইন-স্ট্রিম অ্যাডস থেকে কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে

মেটার কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হওয়া বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেসবুক পেজগুলো জাতীয় পর্যায়ের সংস্থা থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ কার্যালয় এবং বিশেষায়িত ইউনিট পর্যন্ত বিস্তৃত। এগুলোর মধ্যে আছে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। আরও রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, একাধিক জেলা পুলিশ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ (১,২,৩,৪,৫)। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেসবুক পেজগুলোর মধ্যে মনেটাইজেশনের সুযোগ পাওয়ার সবচেয়ে পুরোনো রেকর্ডটি পাওয়া যায় ২০২০ সালের ৬ জুন। সেসময় শেরপুর জেলা পুলিশ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ যুক্ত হয় ফেসবুকের ‘ইন-স্ট্রিম অ্যাডস’ প্রোগ্রামে।

বাংলাদেশ পুলিশের মূল ভেরিফায়েড পেজটি প্রথমবারের মতো মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয় ২০২২ সালের মার্চে। এরপর ২০২৩ সালে যুক্ত হয় একাধিক জেলা পুলিশ কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মেটা তাদের পুরোনো ইন-স্ট্রিম অ্যাডস, অ্যাডস অন রিলস ও পারফরম্যান্স বোনাস প্রোগ্রাম বন্ধ করে এগুলোকে নতুন ‘কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নিয়ে আসে। নতুন এই প্রোগ্রামে শুধু ভিডিও নয়, ছবি ও টেক্সট পোস্ট থেকেও আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়।

হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বরে একসঙ্গে মেটা কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১টি ফেসবুক পেজ। বাংলাদেশ পুলিশের মূল ভেরিফায়েড পেজটি যুক্ত হয় ওই বছরেরই ৭ সেপ্টেম্বর।

মেটার নতুন কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সরাসরি যুক্ত হয়েছে ৭টি ফেসবুক পেজ। এদের মধ্যে সর্বশেষ এ বছরের ২২ আগস্ট যুক্ত হয় নড়াইল জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজ।

কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে ঢোকার সুযোগ মেটার আমন্ত্রণেই

ফেসবুক কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রাম চালুর ঘোষণা দিয়ে মেটা তাদের একটি হেল্প পেজে লিখেছিল, “ফেসবুক কনটেন্ট মনেটাইজেশন বর্তমানে শুধু আমন্ত্রণের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ক্রিয়েটররা এই আমন্ত্রণ পাবেন আনুষ্ঠানিক ইন-প্রোডাক্ট ফেসবুক বা মেটা চ্যানেলের মাধ্যমে, যার মধ্যে আছে ফেসবুক অ্যাপ, ইমেইল, মেটা বিজনেস স্যুট ও প্রোফেশনাল ড্যাশবোর্ড।” এই পেজে আরও বলা হয়েছে, ক্রিয়েটররা কোনো আমন্ত্রণ না পেলে এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ জানাতে পারেন। কিন্তু এর মাধ্যমে যে এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৯টি ফেসবুক পেজও মেটার কাছ থেকে আসা আমন্ত্রণের মাধ্যমেই এই কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছে।

মেটার পার্টনার-পাবলিশার নীতিমালায় খুব স্পষ্টভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে মনেটাইজেশনের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলা হলেও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব পেজকে কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব পেজের মধ্যে মাত্র দুইটি পেজ নিজেদের ক্যাটাগরি হিসেবে উল্লেখ করেছে ‘পাবলিক ফিগার’ ও ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’। বাকি ১৭টি পেজ তাদের ক্যাটাগরি হিসেবে লিখেছে ‘পুলিশ স্টেশন’, ‘ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি’, ‘গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন’, ‘গভর্নমেন্ট অফিসিয়াল’ অথবা ‘আর্মড ফোর্সেস’। পেজগুলো নিজেদের স্পষ্টভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করলেও মেটা তাদের নিজস্ব পলিসি লঙ্ঘন করে এসব পেজকে তাদের কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বন্ধ হয়েছে, আবারও ফিরেছে মনেটাইজেশন

বাংলাদেশ পুলিশের ২৭ লাখেরও বেশি ফলোয়ারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি ২০২২ সালের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মেটার ৩টি মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পেজটি কয়েক দফায় মনেটাইজেশন প্রোগ্রাম থেকে বাদ পড়েছে এবং আবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পেজটি প্রথমবারের মতো মেটার ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছিল ২০২২ সালের ২০ মার্চ। তবে ১০ দিন পরই, ১ এপ্রিল পেজটি এই প্রোগ্রাম থেকে বাদ পড়ে। এরপর আরও চারবার ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে কিছু দিন পর বাদ পড়ে পেজটি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই এটি আবার যুক্ত হয় ইন-স্ট্রিম অ্যাড প্রোগ্রামে। সেটি সক্রিয় ছিল ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পেজটি অন্তর্ভুক্ত হয় মেটার নতুন কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে এবং এখনও সেটি এটির আওতায় আছে।

বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ইন-স্ট্রিম অ্যাডস, অ্যাডস অন রিলস এবং বর্তমানে কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত থাকার রেকর্ড। ২০২২ সালের মার্চ থেকে পেজটি কয়েক দফায় মনেটাইজেশন প্রোগ্রাম থেকে বাদ পড়েছে এবং আবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূত্র: হোয়াট টু ফিক্স-এর মনেটাইজেশন আর্কাইভ।

কাছাকাছি রকমের চিত্র দেখা যায় চুয়াডাঙা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রে। এটি মেটার ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামে যুক্ত হয় ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল। এরপর ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পেজটি বাদ পড়ে। একই প্রোগ্রামে পেজটি আবার যুক্ত হয় ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই। ২ সেপ্টেম্বর পেজটি যুক্ত হয় মেটার নতুন কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে এবং বাদ পড়ে ২০ অক্টোবর।

পেজটি পরিচালনাকারী একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, “এটি মনেটাইজেশন করা হয়েছিল ২০২২/২৩ সালের দিকে কিন্তু পরবর্তীতে এটি ব্লক হয়ে গেছে।” এখন পেজটিতে কোনো মনেটাইজেশন নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মেটার পার্টনার-পাবলিশার লিস্ট এবং হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভ থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর পেজটি আবারও কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয় এবং এখন পর্যন্ত এটি সক্রিয় আছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজের ইন-স্ট্রিম অ্যাডস, অ্যাডস অন রিলস এবং বর্তমানে কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত থাকার রেকর্ড। ২০২৩ সাল থেকে পেজটি একাধিকবার মেটার বিভিন্ন মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে যুক্ত হয় এবং বাদ পড়ে যায়। সূত্র: হোয়াট টু ফিক্স-এর মনেটাইজেশন আর্কাইভ।

২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট অ্যাডস অন রিলস ও ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছিল কুমিল্লা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজ। অ্যাডস অন রিলস প্রোগ্রামটি এক দিন পরে স্থগিত হয়ে গেলেও ইন-স্ট্রিম অ্যাডস প্রোগ্রামটি সক্রিয় ছিল। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর পেজটি অন্তর্ভুক্ত হয় কনটেন্ট মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে। সেটি এখন পর্যন্ত সক্রিয় আছে। এই পেজ থেকে কিছু অর্থও আয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেজটির পুলিশ কর্মকর্তা অ্যাডমিন। তিনি বলেন, “ডলার আমাদের পেজে আছে, কিন্তু আমরা উইথড্র করতে পারি নাই।” মেটা থেকে আয় করা অর্থ উত্তোলনের জন্য যে পেমেন্ট গেটওয়ে সক্রিয় করতে হয় – সেটি তারা করেননি বলে জানান তিনি। পেজটিতে ১০ ডলারের মতো জমা হলেও সেটা ওঠানো যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশের বাইরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেজে মনেটাইজেশন

বাংলাদেশের বাইরে ভারত, ফিলিপাইন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেজও মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে হোয়াট টু ফিক্স। এসব পেজের মনেটাইজেশন মেটার নীতিমালার সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্নও তাদের অনুসন্ধানে তোলা হয়েছে।  

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেসবুক পেজ মনেটাইজ করলে তা তাদের যোগাযোগের ধরনকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে হোয়াট টু ফিক্সের সেই অনুসন্ধান। সেখানে বলা হয়েছে, “ক্লিকের পেছনে দৌড়ানো নয়, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এনগেজমেন্ট-ভিত্তিক আর্থিক প্রণোদনা চালু হলে এমন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মনেটাইজেশন সেই সীমারেখাকে ঝাপসা করে দিতে পারে এবং মানুষের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার চেয়ে আর্থিক লাভকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।” 

ডিসমিসল্যাব এই নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মেটার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মেটার জবাব পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। 

গবেষণা পদ্ধতি

২০২৬ সালে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী।

ডিসমিসল্যাব এসব আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সরকারি ওয়েবসাইটে (.gov.bd) থাকা ফেসবুক লিংক সংগ্রহ করেছে। এখানে পেজটি ভেরিফায়েড কিনা তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকা সব পেজের লিংক তালিকায় রাখা হয়েছে। যেসব আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মূল সরকারি ওয়েবসাইটে বিভাগ ও জেলা-ভিত্তিক আলাদা ওয়েবপেজ পাওয়া গেছে সেসব ওয়েবপেজে যুক্ত থাকা ফেসবুক পেজও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। 

পেজ/প্রোফাইলগুলো মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ কিনা – তা যাচাইয়ের জন্য মেটার পার্টনার-পাবলিশার লিস্টে সার্চ করে দেখা হয়েছে যে, সেগুলো সেই লিস্টে আছে কিনা। পাশাপাশি হোয়াট টু ফিক্সের মনেটাইজেশন আর্কাইভেও দেখা হয়েছে সেই পেজগুলো কবে থেকে মেটার মনেটাইজেশন প্রোগ্রামের অংশ হয়েছে।

আরো কিছু লেখা