আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব
ফেসবুকের নীতিমালা ভেঙে বাংলাদেশে চলছে জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন 
This article is more than 1 month old

ফেসবুকের নীতিমালা ভেঙে বাংলাদেশে চলছে জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন 

আবরার ইফাজ

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব

বাংলাদেশের আইনে জুয়া নিষিদ্ধ, কিন্তু তাই বলে অনলাইনে জুয়া বা বেটিং (বাজি ধরা) অ্যাপের দৌরাত্ম কম নয়। মাত্র এক দিনেই সামাজিক মাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে চার হাজারের বেশি সক্রিয় জুয়ার বিজ্ঞাপন পেয়েছে ডিসমিসল্যাব এবং বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার হচ্ছে বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে। এই প্রচারণার পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। 

এসব বিজ্ঞাপন নানা কারণে প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, বিজ্ঞাপনদাতারা মেটার নীতিমালা ভঙ্গ করে এবং নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে প্লাটফর্মটিতে সফলভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে এবং এখান থেকে মেটাও মুনাফা করছে। দ্বিতীয়ত, দর্শকদের প্রলুব্ধ করতে ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের তারকাদের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে বিকৃত করে এসব বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবং কখনো কখনো প্রতিষ্ঠিত সম্প্রচারমাধ্যমের খবরকে নকল বা বিকৃত করে বিজ্ঞাপন তৈরি হচ্ছে। তৃতীয়ত, বিজ্ঞাপনে যেসব অ্যাপের লিংক দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো গুগল প্লে স্টোরে সাধারণ গেইম বা খেলার অ্যাপ হিসেবে নিবন্ধিত হলেও, ডাউনলোডের পর সেই অ্যাপ জুয়ার সাইটে নিয়ে যাচ্ছে। 

বাংলাদেশে জুয়া বা বেটিং অ্যাপে টাকা দিয়ে অনেক ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর যেসব অ্যাপের নাম গণমাধ্যমে বারবার এসেছে তাদের অনেকগুলোর বিজ্ঞাপনও ফেসবুকে সক্রিয় অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।

জুয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যাপকতা 

ডিসমিসল্যাব গবেষকেরা “জ্যাকপট” এবং “অনলাইন ক্যাসিনো” কীওয়ার্ড ব্যবহার করে মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে প্রাথমিক সার্চ পরিচালনা করেন এবং “বাংলাদেশ” দিয়ে ফলাফলকে ফিল্টার করেন৷ এই প্রাথমিক অনুসন্ধানটি স্লট, ক্যাসিনো, ফরচুন হুইল এবং স্পোর্টস বেটিংসহ বিভিন্ন রকমের জুয়ার শত শত সক্রিয় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে।

গবেষকেরা প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া বিজ্ঞাপন থেকে ১৩টি মূল বাক্যাংশ শনাক্ত করেন, যার প্রতিটি ছিল নির্দিষ্ট ঘরানার বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনের প্রথম বাক্য। বাক্যাংশগুলোর মধ্যে রয়েছে: “BDবাংলাদেশের সেরা অ্যাপBD”, “আইপিএল ২০২৪, “BDআপনি কি বাংলাদেশে থাকেন?BD “, “বাংলাদেশের সেরা প্লাটফর্মে সাইন আপ করুন”, “BD বাংলাদেশের জন্য অনন্য এপ!, BD”, “BD বাংলাদেশের পক্ষে অফিসিয়াল! BD”, “খেলুন এবং জ্যাকপট জিতে নিন”, “BDবাংলাদেশের জন্য বিশেষBD”, “অনেক টাকা জেতার বড় সুযোগ”, “BDবাংলাদেশের জন্য এক্সক্লুসিভBD”, “BD আজই জীবন পরিবর্তন করুন BD”, “RashidWin ২৬ ৭৮৮ টাকা জিতেছে!!!!” এবং “200 ৳ দিয়ে শুরু করুন”।

গত ৩০ মার্চ, অ্যাড লাইব্রেরিতে প্রতিটি বাক্যাংশ আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা হয়, যার ফলাফল ছিল অপ্রত্যাশিত। ডিসমিসল্যাব সার্চে চার হাজারের বেশি জুয়ার বিজ্ঞাপন খুঁজে পায়। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় “BDবাংলাদেশের জন্য বিশেষBD” দিয়ে সার্চ করে (১৫০০) এবং এর পরেই ছিল “অনেক টাকা জেতার দারুণ সুযোগ” (১২০০), এবং “বাংলাদেশের সেরা অ্যাপ” (৫৫০)। “আইপিএল ২০২৪” কীওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধান করার সময় ফলাফলে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন আসে। গবেষণা দল তাদের মধ্যে ৪০টি সক্রিয় বেটিং বিজ্ঞাপন আলাদা করে।

এটি বলা গুরুত্বপূর্ণ যে সার্চগুলো শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় পরিচালিত হয়েছিল, এবং ইংরেজি কীওয়ার্ড দিয়ে যেসব জুয়ার বিজ্ঞাপন চলছে সেগুলোর বিবেচনায় নিলে সংখ্যা অনেক বেশি হত। তাছাড়া, কোন লিখিত ক্যাপশন ছাড়াই বেশ কিছু বিজ্ঞাপন রয়েছে; সেগুলোও হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে সক্রিয় বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, তবে রাজনৈতিক না হলে নিষ্ক্রিয় বা প্রচার শেষ হওয়া বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না৷ জুয়ার বিজ্ঞাপনের মধ্যে অনেকগুলো কয়েক মাস এমনকি এক বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের বড় জয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। যে পেজগুলো (এমন পেজের কয়েকটি উদাহরণ: , , ) থেকে এসব বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো সন্দেহজনক এবং সেগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লাইক, ফলোয়ার বা কোনো পোস্ট দেখা যায় না। দেখে মনে হয়, শুধুমাত্র জুয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য এগুলো খোলা হয়েছে৷

বিজ্ঞাপনগুলো কীভাবে উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে আকর্ষণীয় মিল রয়েছে। উপরের বাক্যাংশগুলোর তালিকা দেখলেই বুঝতে পারবেন বেশিরভাগই শুরু ও শেষ হয় “BD” দিয়ে; ক্যাপশনের বাংলা লেখাটি কোথাও কোথাও অসম্পূর্ণ এবং পড়ে মনে হয় কোনো অনলাইন টুল ব্যবহার করে ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। অনেক পেজ একই টেক্সট ও ভিডিও ব্যবহার করে জুয়ার অ্যাপ এবং সাইটের প্রচার চালাচ্ছে। যদিও এই গবেষণাটি চার হাজার বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পেজের উৎস আলাদাভাবে খোঁজেনি, তবে ৫০টি পেজের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের অ্যাডমিনদের অবস্থান ইউক্রেন, জার্মানি, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে৷

বেশ কয়েকটি পেজে বাংলাদেশী অ্যাডমিনও রয়েছেন। তারা বেশিরভাগই স্পোর্টস বেটিং এবং জুয়ার দুটি প্ল্যাটফর্ম “গ্লোরি ক্যাসিনো” ও “ক্রেজি টাইম” এর প্রচারণা চালান। অ্যাড লাইব্রেরিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া স্পোর্টস বেটিং সাইট বা অ্যাপগুলো জুয়ার অ্যাপের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় বলে দেখা গেছে, যেখানে একটি বাংলাদেশভিত্তিক নেটওয়ার্ক সক্রিয়।

জুয়ার বিজ্ঞাপনে কত টাকার? একটি অনুমিত হিসাব

বাংলাদেশে ফেসবুক বা অন্যান্য মেটা প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারে কত টাকা ব্যয় করা হয় তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলা কঠিন। তবে হাতে থাকা তথ্যগুলো থেকে মোটামুটি একটি হিসাব দাঁড় করানো যায়।

মেটার তথ্যানুসারে, ইমপ্রেশনের অনুপাতে অর্থ খরচ করে– এমন অধিকাংশ বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিদিন কমপক্ষে এক মার্কিন ডলার বাজেট বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সুতরাং, বিজ্ঞাপন ব্যয় প্রতিদিন ন্যূনতম এক মার্কিন ডলার ধরা হলেও, প্রতিদিন বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে মেটা প্ল্যাটফর্মে প্রায় চার হাজার ডলার সমমানের জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। যদি আমরা ধরে নিই যে এই বিজ্ঞাপনগুলো সারা বছর ধরে একইভাবে চলে, তবে শুধুমাত্র মেটা প্ল্যাটফর্মগুলোতেই বছরে আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা বা দেড় মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়।

তবে অনুমানকৃত এই হিসাবের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জুয়ার বিজ্ঞাপনের প্রকৃত সংখ্যা সারা বছর বিভিন্ন ছুটির দিন, উৎসব, বা বড় ক্রীড়া ইভেন্টের কারণে ওঠানামা করতে পারে। তাছাড়া, অনুমিত হিসাবটি প্রকৃত বিজ্ঞাপন ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম হতে পারে, কারণ এখানে বিজ্ঞাপনগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু বাংলা কীওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে শনাক্ত করা হয়েছে। 

যেমন, ৩০ ও ৩১শে মার্চ শুধুমাত্র “গ্লোরি ক্যাসিনো” কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে প্রতিদিন ২৮০০টি বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে অনেক বিজ্ঞাপনের সঙ্গেই কোনো টেক্সট ক্যাপশন ছিল না, যেগুলো এই গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। ক্যাপশন ছাড়া অন্যান্য আরও কিছু জুয়ার অ্যাপ ও সাইটের প্রচারণা চালানো হয়েছে– এমন আরও শত শত বিজ্ঞাপনও এই বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর ক্যাপশন ইংরেজিতে দেওয়া ছিল– এমন বিজ্ঞাপনও এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। যেমন, ইংরেজিতে “অনলাইন ক্যাসিনো” ও “স্পোর্টস বেটিং” সার্চ করে প্রায় ৫০০টি বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে, যেগুলো এই গবেষণার অন্তর্ভূক্ত হয়নি। 

এছাড়া, সব বিজ্ঞাপনদাতাই যে বিজ্ঞাপন প্রতি ন্যূনতম দৈনিক এক ডলার ব্যয় করেন, তা নয়। ইমপ্রেশন, বিজ্ঞাপন কৌশল এবং প্লেসমেন্টের কারণে একটি বিজ্ঞাপনের প্রকৃত দৈনিক খরচ এই ন্যূনতম সীমাকে অতিক্রম করতে পারে। যার অর্থ দাঁড়ায়, জুয়ার বিজ্ঞাপনের প্রকৃত সংখ্যা এবং বিজ্ঞাপনের খরচ আমাদের প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

আরও একবার বলা ভালো যে, এই অনুমানটি কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নয়। বরং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে জুয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যাপকতার একটি চিত্র তুলে ধরার প্রচেষ্টা মাত্র। এটিও মনে রাখা জরুরী যে, এই বিজ্ঞাপনের পেছনে ব্যয়ের সবটাই বাংলাদেশ থেকে হয় না। নমুনায় পাওয়া বিজ্ঞাপনগুলোর সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ ফেসবুক পেজই দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের অনলাইন জুয়ার বাজারের ব্যাপকতা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। ২০২২ সালের অক্টোবরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিদেশে ২০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। দৈনিক আজকের পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে বছরে ২০০০ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়।

বাজির জগতের ভাইবৃন্দ

ভারতের বার্ষিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লিগ, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল খ্যাতি কুড়িয়েছে তারকা ক্রিকেটারদের সমারোহ, চাকচিক্য এবং ব্যয়বহুল আয়োজনের জন্য। ভারতের সীমানা ছাড়িয়েও এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে। তবে বিগত বছরগুলোতে আইপিএল ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। উঠেছে ম্যাচ ফিক্সিং ও অবৈধ জুয়া সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের মতো কেলেঙ্কারির অভিযোগ।

মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে এই আইপিএল সংক্রান্ত জুয়ার বিজ্ঞাপনও খুঁজে পাওয়া গেছে “আইপিএল ২০২৪” কীওয়ার্ড সার্চ করে। এই বিজ্ঞাপনগুলো আইপিএল সংক্রান্ত বেটিংসহ, সহজ বেটিং লেনদেন, ম্যাচের পূর্বাভাস, ম্যাচের প্রতিবেদন, অর্থ জমা ও উত্তোলন বিষয়ক নানা কৌশল এবং বিভিন্ন বেটিং সাইটে ইউজার অ্যাকাউন্ট খোলার মতো বিভিন্ন পরিষেবা অফার করে। 

উদাহরণস্বরূপ, “অ্যাডমিন আকাশ ভাই” নামের একটি পেজ থেকে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে: “জনপ্রিয় প্রিমিয়ার লিগ আইপিএল ২০২৪ উপলক্ষে দেশজুড়ে বেশ কয়েকজন অ্যাডমিন//সাব-অ্যাডমিন//সুপার এজেন্ট//মাস্টার এজেন্ট নিয়োগ করা হচ্ছে”। বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, “সততা এবং বিশ্বস্ততা আমাদের প্রধান শক্তি। নিরাপদ থাকুন। প্রতিটি ব্যবহারকারীর টাকা আমাদের কাছে ব্যাংকে থাকার মতোই নিরাপদ।” বিজ্ঞাপনের শেষে একটি সবুজ টিক চিহ্নও দিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাস্তি ২৪৭, বাজি ৩৬৫, ভেল্কি এবং বেটবাজসহ বেশ কয়েকটি বেটিং সাইটের উল্লেখও করা হয়।

অনলাইন বেটিং ১১ নামের একটি পেজ জয়া৯ নামের বেটিং সাইটের প্রচারে “বড় পুরস্কার অপেক্ষা করছে”– এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে, “যাদের আজকের ম্যাচের রিপোর্ট দরকার, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন… আপনি আপনার জীবনে অনেক লোকের সঙ্গে কাজ করেছেন…আমার সঙ্গে একবার কাজ করে দেখুন…ভালো কিছু পাবেন।”

একইভাবে, “খান ভাই” নামের আরেক বিজ্ঞাপনদাতা তার বিজ্ঞাপনে বলছে, “সর্বোচ্চ গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য আমি ২৪ ঘণ্টা আপনার পাশে আছি। নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হোয়াটস অ্যাপ বা ইনবক্সে নক করুন!!” খান ভাইয়ের নাম “আইপিএল ২০২৪” নামের আরেকটি পেজের বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়। পেজটিতে ভেলকি, ৯ উইকেট এবং প্লেবাজসহ বেশ কয়েকটি বেটিং সাইটের প্রচারণা চালানো হয়। একইসঙ্গে দেশব্যাপী এজেন্ট নিয়োগ ও নতুন ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট খোলার উপর ১০০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়।

এই প্রতিবেদনটি লেখার সময়ই বেশ কিছু বিজ্ঞাপন বন্ধ হলেও, বাদশা ভাই, বাবু ভাইয়ের মতো অন্যান্য ভাইদের থেকে এখনও কয়েক ডজন আইপিএল সংক্রান্ত বেটিং বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপনগুলোতেও শতভাগ জয়ের নিশ্চয়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন পুরস্কার, উপহারসহ প্রায়ই বিভিন্ন সাইট, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জুয়ার বিজ্ঞাপনে তারকাদের ভুয়া ছবি-ভিডিও

শুধু যে নীতিমালা ভেঙে বাংলাদেশে জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে— তা-ই নয়। কখনো কখনো এসব বিজ্ঞাপনে যুক্ত করা হচ্ছে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটারদের ভুয়া ছবি ও ভিডিও। ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরিতে জ্যাকপট, বোনাস, নতুন খেলোয়াড় এ সকল কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে তারকাদের ছবি-ভিডিও বা গণমাধ্যমের লোগো সম্বলিত ভুয়া ভিডিও-র অন্তত ৫০টি বিজ্ঞাপন খুঁজে পেয়েছে ডিসমিসল্যাব। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ভুয়া ছবি-ভিডিও।

যেমন, ২০২২ সালের নভেম্বরে সাকিবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি আপলোড করা হয়েছিল ব্লুচিজ নামের একটি পোশাক কোম্পানির লোগো সম্বলিত টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায়। কিন্তু এই ছবিটি সম্পাদনা করে ব্লুচিজের লোগোর জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘গ্লোরি ক্যাসিনো’ এর লোগো। সেই লোগোর দিকে ইশারাও করতে দেখা যাচ্ছে সাকিবকে।

সাকিবের এমন আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে তিনি একটি আসবাব কোম্পানির প্রচারণা সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন নিজের ফেসবুক পেজে। সেই ভিডিওটি সম্পাদনা করে নতুন অডিও ও বেটিং সাইটের লোগো যুক্ত করা হয়েছে এবং বেটিং সাইটের কর্মকাণ্ডের কথা প্রচার করা হয়েছে। 

ফ্যাক্টওয়াচ ও নিউজচেকারের মতো মেটার থার্ড পার্টি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটারদের ছবি-ভিডিও সম্পাদনা করে বেটিং সাইটের প্রচার চালানো কনটেন্টকে ফ্ল্যাগ করেছে এবং যাচাই করেছে। যেখানে দেখা গেছে কোথাও সাকিবের ছবি দিয়ে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে, কখনো বা তার সাক্ষাৎকারের ভিডিওর সঙ্গে নতুন ভয়েস যুক্ত করে এসব বেটিং সাইটের প্রচারণার বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে। কখনো কখনো মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমানতামিম ইকবালের ছবি-ভিডিও সম্পাদনা করা হয়েছে। যদিও ফেসবুকের ম্যানিপুলেটেড মিডিয়া পলিসিতে বলা হয়েছে যে, দর্শকদের বিভ্রান্ত করে এমন সম্পাদনা করা ভিডিও মুছে দেওয়া হবে। 

এছাড়াও বেটিং অ্যাপের প্রচারে বাংলাদেশের অন্তত তিনটি গণমাধ্যমের – সময় টিভি, চ্যানেল ২৪, ও এনটিভি– কনটেন্ট সম্পাদনা বা লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও একটি সত্যিকারের সংবাদের ভিডিওকে সম্পাদনা করে সেখানে নতুন অডিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা চালানো ভিডিওর সঙ্গে চ্যানেলের লোগো যুক্ত করা হয়েছে।

চ্যানেল ২৪-এর সংবাদ উপস্থাপক ফারাবি হাফিজকে জড়িয়ে এ ধরনের প্রচার চলেছিল ২০২৩ সালের মার্চ মাসে। পরে তিনিও এক ফেসবুক পোস্টে জানান যে, তার একটি বাস্তব খবরকে সম্পাদনা করে ভুয়া ভিডিও বানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞাপনগুলো যেখানে টেনে নিয়ে যায়

এসব বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের কোথায় নিয়ে যায় তা দেখতে গিয়ে প্রতিটি কী ফ্রেজ সার্চ করে পাওয়া ছয়টি অ্যাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের দুইটি চ্যাট গ্রুপ খতিয়ে দেখেছে ডিসমিসল্যাব। চ্যাট গ্রুপগুলো বেটিং সাইটের জন্য এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছে। পাঁচটি অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করা হয়েছে এবং একটি অ্যাপ ইনস্টলের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেটি ইনস্টল করতে দেয়নি সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে।

যে পাঁচটি অ্যাপ ইন্সটল করা হয়েছে, গুগল প্লে স্টোরের বিবরণে বলা হয়েছিল যে, সেগুলো স্মরণশক্তি ও ভাগ্য পরীক্ষা, অথবা প্রথাগত ক্যান্ডি ক্রাশ ধরনের গেম। কিন্তু গেমগুলো ওপেন করলে তা ব্যবহারকারীদের নিয়ে যায় গ্লোরি ক্যাসিনো, ১এক্স বেট ও পিন আপ-এর মতো জুয়ার অ্যাপে। গুগল সার্চে দেখা যায় প্রতিটি অ্যাপের জন্যই একাধিক ওয়েবসাইট আছে, যেখানে নিবন্ধন ও অর্থ লগ্নি করে বিভিন্ন জুয়া সংক্রান্ত গেমে অংশ নেওয়া যায়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় এমন দুইটি অ্যাপ মুছে ফেলা হয়েছে প্লে স্টোর থেকে। একটি অ্যাপে একজন ব্যবহারকারী রিভিউয়ে লিখেছেন, “এটি আমার টাকা নিয়েছে এবং এখন বলছে, ‘পেজটি পাওয়া যাচ্ছে না।’”

সাইবার নিরাপত্তা সফটওয়্যার কোম্পানি, ট্রেন্ড মাইক্রো ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছিল যে, কীভাবে অ্যাপল ও গুগলের অ্যাপ স্টোরে শত শত ভুয়া অ্যাপ ইন্সটল করার পর জুয়ার অ্যাপে বদলে যায়। এবং এসব অ্যাপ হয়তো স্থানীয় সরকারী নিয়মনীতি এবং অ্যাপ স্টোরের নীতিমালা ভঙ্গের জন্য নিষিদ্ধ করা হতো। 

লিংক ছাড়া চালানো বিজ্ঞাপনগুলোর এতো জটিলতা নেই। এখানে, বিজ্ঞাপনে থাকা ভিডিও বা ছবিতে বিভিন্ন জুয়ার সাইট বা অ্যাপের কথা বলা হয়, যেগুলো ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে পুরস্কার বা বোনাস জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তবে বিজ্ঞাপনের ক্যাপশনে এমন কিছু লেখা হয় না যা থেকে বোঝা যায় যে এগুলো জুয়ার সাইট বা বিজ্ঞাপন। এভাবেই এসব বিজ্ঞাপন কোনো অনুমতি না নিয়েই চলতে পারছে। মেটার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি এসব বিজ্ঞাপনকে জুয়া-সংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করতে পারছে না। 

বেটিং সাইটের প্রতারণা খোঁজ করে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বেশ কিছু জেলার মানুষের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, বিডিনিউজ২৪-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার প্রভাবের চিত্র। এখানে গ্লোরি ক্যাসিনোর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ডিবিসির খবর অনুযায়ী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা অনলাইনে জুয়া খেলে প্রায় ৩ কোটি টাকা হারিয়েছিলেন। সমকালের ২০২২ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কীভাবে অনলাইন জুয়ার প্রলোভনে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবহারকারীরা। সমকালের প্রতিবেদনে যেসব জুয়ার সাইটের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলো হলো ওয়ানএক্সবিট, বেট ৩৬৫ ডটকম, প্লেবেট ৩৬৫ ডটকম, বিডিটি ১০ ডটকম, উইনস ৬৫ ডটকম ও বেটস্কোর২৪ ডটকম। এদের মধ্যে অন্তত তিনটির বিজ্ঞাপন এখনো ফেসবুকে চলতে দেখা যাচ্ছে। 

ফ্রিল্যান্সারের সঙ্গে প্রতারণা

বাংলাদেশের একজন ফ্রিল্যান্সারের সঙ্গে প্রতারণা করে বেটিং সাইটের প্রচারণা চালানোর মতো ঘটনাও খুঁজে পেয়েছে ডিসমিসল্যাব। আলোচ্য এই ফ্রিল্যান্সারের নাম রাসেল আহমেদ। ফ্রিল্যান্সিং সাইট, ফাইভারে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় ‘এ রাসেল’ নামে। ডিসমিসল্যাব মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে এমন ছয়টি ভিডিও খুঁজে পেয়েছিল— যেখানে এই ফ্রিল্যান্সারকে দেখা যায় বেটিং সাইটের প্রচারণা চালাতে। ভিডিওটি বিভিন্ন উপায়ে সার্চ করে ফাইভারে পাওয়া যায় তার প্রোফাইল। পরবর্তীতে তার ফেসবুক প্রোফাইলও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। সেখানে গত বছরের মার্চ মাসের একটি পিন পোষ্ট পাওয়া যায় যেখানে তিনি লিখেছেন, তার ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। তিনি কোনো বেটিং সাইটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

তার ভিডিও কিভাবে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে তিনি লেখেছেন, ইউক্রেন থেকে ফাইভারে একজন ক্লায়েন্ট তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি গেমের স্ক্রিপ্টে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য। এই ফ্রিল্যান্সার নিউজ প্রেজেন্টারের বক্তব্যমতে, ইউক্রেনের ক্লায়েন্ট তাকে বলেছেন, এই ভিডিওটি কখনোই উন্মুক্তভাবে ইন্টারনেটে শেয়ার করা হবে না। এটি শুধুমাত্র তার কোম্পানিকে দেখানোর উদ্দেশ্যেই বানানো হচ্ছে এবং তারা একটি মোবাইল গেমিং কোম্পানি। সেই মতো তিনি ভিডিও বানিয়ে দেওয়ার কিছুদিন পর জানতে পারেন যে, ফেসবুকে এই ভিডিও-র মাধ্যমে জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপের প্রচার চালানো হচ্ছে। 

আহমেদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য, ফাইভারে রোমান ডিভোরাক নামে এক ইউক্রেনীয় ব্যক্তির সঙ্গে তার আলাপের স্ক্রিনশটগুলোর খতিয়ে দেখেছে ডিসমিসল্যাব। ২০২৩ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব আলাপচারিতা আহমেদের বক্তব্যকে সত্য প্রমাণ করে। এছাড়া, ফাইভারে সার্চ করেও এই নামে ইউক্রেনের পতাকা সম্বলিত একটি প্রোফাইল পাওয়া যায়, যা আহমেদের বক্তব্যের পক্ষে আরও প্রমাণ হাজির করে। 

তাদের আলাপের তথ্যমতে, এই ইউক্রেনীয় নাগরিক জনৈক মুকেশ নামের একজন ভারতীয় ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই কাজটি নিয়েছিলেন। তিনিও এই বেটিং কোম্পানির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছিলেন রোমান।

নীতিমালা ভাঙলেও চলছে প্রচারণা

মেটার অনলাইন গ্যাম্বলিং অ্যান্ড গেমিং অ্যাডভ্যার্টাইজিং নীতিমালায় বলা হয়েছে যে, জুয়া সংক্রান্ত কোনো কনটেন্টের বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য অবশ্যই মেটার একটি ফর্ম পূরণ করে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। বিজ্ঞাপন চালানোও যাবে মেটার নির্ধারণ করে দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু দেশকে লক্ষ্য করে। এবং কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে, যেমন কোনো জুয়া সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, সরকারী লটারি, রিটেইল ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত পুরস্কারের প্রচার বা পুরোপুরি বিনামূল্যে খেলা যাবে– এমন গেম। 

মেটার নীতিমালায় যে দেশগুলোতে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে— সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। অনুমতি নেওয়ার ফর্মেও বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের টার্গেট করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তা সত্ত্বেও, অ্যাড লাইব্রেরিতে পাওয়া ৪০০০ সক্রিয় বিজ্ঞাপন মেটার সংজ্ঞা অনুসারে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের আওতায় পড়ে। মেটা এ ধরনের বিজ্ঞাপনের সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে: “এমন পণ্য বা সেবা যেখানে প্রবেশ বা পুরস্কারের পদ্ধতি হিসেবে আর্থিক মূল্য আছে– এমন যেকোনো কিছু যুক্ত করা হয়েছে।” ধারণা করা যায় যে, বিজ্ঞাপনদাতারা এই নীতিমালাকে পাশ কাটাচ্ছে তাদের বিজ্ঞাপনের ধরন অস্পষ্ট রেখে অথবা তারা ফাঁকি দিচ্ছে মেটার শনাক্তকরণ পদ্ধতিকে। 

বাংলাদেশের সংবিধানে জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বাংলাদেশের বর্তমান আইনি কাঠামো জুয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭, এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স-এর মতো অন্যান্য আইন অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়া খেলাকে অপরাধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া লটারি পরিচালনা করা অবৈধ। 

“কোনো আইনই অনলাইন জুয়া বা বেটিং সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় নেয় না। এবং বিদ্যমান আইন দিয়ে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রতিষ্ঠিত আইনি ব্যাখ্যার নিয়মের বিরুদ্ধে যায়। যে কারণে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে নির্ভর করে আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত আইনকানুনের ওপর,” বলেছেন অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক বাংলাদেশের আইনি বিশেষজ্ঞ শাহজেব মাহমুদ। 

সম্প্রতি, সব ধরনের অনলাইন বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট ডিভিশন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অনলাইন জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিল কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও, জুয়া সংক্রান্ত চলছে যা আদালতের রায়ের স্পষ্ট লঙ্ঘন। 

আরো কিছু লেখা