গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত হয়েছেন, সম্প্রতি এমন দাবিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে সংবাদমাধ্যম যুগান্তর। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তিনটি ফুটেজ পুরোনো ঘটনার দৃশ্য। তবে যুগান্তর ভিডিওর দৃশ্যগুলোকে পুরোনো ফুটেজ হিসেবে কোনো লেবেল দেয়নি।
যুগান্তরের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ আগস্ট ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্ব’স্ত, সব আরোহী নি’হত।” ভিডিওটির শুরুতে একটি হেলিকপ্টারকে সাগরের পানিতে আছড়ে পড়তে দেখা যায়। একই দৃশ্য পুরো ভিডিওর একাধিক অংশে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
যুগান্তরের ফেসবুক পেজেও একই শিরোনামে একই ভিডিও পোস্ট করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখ ৪৬ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় ১০০ বার শেয়ার হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও একই ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিএনএন ইউএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। “পার্ল হারবারে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু” শীর্ষক ওই সংবাদের সঙ্গে যুক্ত ভিডিওটির ৯ সেকেন্ডের দৃশ্যের সাথে যুগান্তরের ভিডিওতে হেলিকপ্টার পানিতে আছড়ে পড়ার দৃশ্যটির হুবহু মিল রয়েছে। একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের পার্ল হারবারের। পাঁচজন আরোহী নিয়ে হেলিকপ্টারটি সাগরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোর পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ভিডিওটির আরেকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সিএসবি নিউজে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত।” ভিডিওর ৪৮ সেকেন্ড থেকে অংশের সঙ্গে যুগান্তরের প্রকাশিত ভিডিওর ৪০ সেকেন্ডের হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের দৃশ্য মিলে যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয় এবং দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায়।

যুগান্তরের প্রকাশিত ভিডিওর ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আকাশে হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, তা এনবিসি নিউজে ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ভিডিও দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রিসে দাবানল নেভানোর সময় আকাশে দুটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে এবং এতে দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান।

তবে যুগান্তরের ভিডিওটির ৩৫ ও ৫২ সেকেন্ডে গ্রিসের সাম্প্রতিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ২২ আগস্ট “গ্রিসে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ নবদম্পতির মৃত্যু” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য মিরর ইউএস। প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে যুগান্তরের প্রকাশিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ইজিয়ান সাগরের সিফনস দ্বীপে এক ব্রিটিশ নবদম্পতিকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং চালকসহ ওই দম্পতির মৃত্যু হয়।

সুতরাং, গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী মারা গেছেন, এমন ক্যাপশনে প্রচারিত যুগান্তরের ভিডিওটি সম্পাদিত। একাধিক ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য কেটে সম্পাদনার মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

