ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশি তরুণ রাজন হোসেনের দেশে ফেরার সংবাদ করেছে বাংলাদেশের অনেক সংবাদ মাধ্যম। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও ডেইলি সানের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে যাওয়া ভিন্ন এক রাজন হোসেনের ছবি।
গত ২২ আগস্ট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানো এক বাংলাদেশি দেশের পথে।” প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল এক তরুণকে। পরবর্তীতে তাকে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর এখন তিনি দেশে ফিরছেন। বলা হয়েছে, রাজন হোসেন নামের সেই তরুণ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবা হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন।
প্রতিবেদনের একটি অংশে লেখা হয়, “রাজন ফেইসবুকে ‘রাজন অন দ্য গো-বাংলা’ নামে একটি পেইজ চালান। সেখানে তিনি যুদ্ধের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও শেয়ার করেন। যুদ্ধে নেমে তিনি আহতও হয়েছেন। অনেকদিন ধরেই তিনি যুদ্ধের ময়দান থেকে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।”
“রাজন অন দ্য গো – বাংলা” পেজটি ঘুরে দেখা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া একজন বাংলাদেশি ব্যক্তির। পেজে দেওয়া ইমেইল অনুযায়ী, তার নাম মো. রাজন হোসেন। পেজটি থেকে তিনি নিয়মিত সৈনিকবেশে ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন।

পেজটি থেকে গত ২৩ আগস্ট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করে এটিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাইয়ের পরামর্শও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে “রাজন অন দ্য গো – বাংলা” পেজের অ্যাডমিন রাজন হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে তিনটি ছবি ব্যবহার করা হয়। ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, এই তিনটি ছবির মধ্যে দ্বিতীয় ছবির ব্যক্তি এবং প্রথম ও শেষ ছবির ব্যক্তি এক নন। দ্বিতীয় ছবিটি দেশে ফিরে আসা রাজন হোসেনের হলেও, অন্য দুটি ছবি “রাজন অন দ্য গো – বাংলা” পেজের রাজনের।
দ্বিতীয় ছবিতে রাজন হোসেনকে তিনি রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। একাধিক গণমাধ্যমে (১, ২, ৩) এই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা অন্য দুটি ছবি “রাজন অন দ্য গো – বাংলা” পেজের রাজন হোসেনের। এর মধ্যে প্রথম ছবিটি তার পেজেই পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ছবিটি সূত্র পাওয়া না গেলেও পেজটি থেকে পোস্ট হওয়া একাধিক ভিডিওতে তাকে একইরকম দাড়িতে দেখতে পাওয়া যায় (১, ২, ৩)।
বিডিনিউজে ব্যবহার করা ‘রাজন অন দ্য গো – বাংলা’ পেজের অ্যাডমিন রাজন হোসেন এবং দেশে ফেরত আসা রাজন হোসেনের চেহারার মধ্যেও মিল পাওয়া যায় না। ফেইস কম্পারিজন টুলের সহায়তা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দুজনের চেহারার মধ্যে ৩৯ শতাংশ মিল আছে। টুলটির বর্ণনা অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ মিল পাওয়া না গেলে দুজনকে একই ব্যক্তি বলা যায় না।

ভিন্ন রাজনের ছবি ব্যবহার করেছে ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দ্য ডেইলি সানও। ২২ আগস্টে প্রকাশিত ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শিরোনামে লেখা, “ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশি ফিরলে ঘরে।” (Bangladeshi man returns home after being forced to fight in Ukraine)। একই দিনে প্রকাশিত দ্য ডেইলি সানের প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরছেন” (Bangladeshi duped into Russia-Ukraine war to return home today)। দুটি প্রতিবেদনের ব্যবহার করা হয়েছে রাজন অন দ্য গো – বাংলা পেজের রাজন হোসেনের ছবি।




