মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
media watch jamalpur case verdict feature

জামালপুরে ধর্ষণের ঘটনার সাল ভুল দিল একাধিক সংবাদমাধ্যম

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

জামালপুরে ২০ বছর আগে ধর্ষণের ঘটনায় সম্প্রতি তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে দৈনিক সংবাদ তাদের অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সারাবাংলা ও যুগান্তরের অনলাইন প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি ২০০৪ সালের। তবে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং মামলার এজাহার যাচাই করে দেখা গেছে, এটি ঘটেছে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর।  

এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ৩১ আগস্ট একজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। সেদিনই সংবাদ “২০ বছর পর ধর্ষক ইউপি সদস্যের ফাঁসি” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, “জামালপুরের রশিদপুরে প্রায় ২০ বছর আগে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের দায়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।” ২০০৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “দীর্ঘ দুই দশক পর পাওয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর পরিবার।”

সংবাদের ফেসবুক পেজেও একই শিরোনামে প্রতিবেদনটি পোস্ট করা হয়। 

‘২০ বছর পর ধর্ষক ইউপি সদস্যের ফাঁসি’ শিরোনামে সংবাদের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট (বামে); ‘ধর্ষণের দায়ে ২২ বছর পর ইউপি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড’ দাবিতে আলোকিত প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট (ডানে)

এছাড়া ‘আলোকিত প্রতিদিন’-এর ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনাটিকে ২২ বছর আগের বলে দাবি করা হয়।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (, ) থেকেও একই দাবিতে পোস্ট হতে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম সারাবাংলাযুগান্তরের প্রতিবেদনেও ঘটনাটি ২০০৪ সালের বলে উল্লেখ করতে দেখা গেছে।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে খুঁজে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন (, , , , , , , ) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর। 

গত ৩১ আগস্ট দেশ রূপান্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড” শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদরের রশিদপুর ইউনিয়নে ওই নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে জামালপুর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার রায়ে ইউপি সদস্য মো. ছাত্তার আলীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারের কপি

অধিকতর যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জামালপুর প্রতিনিধি সাইমুম সাব্বির শোভনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার কাছ থেকে মামলার এজাহারের কপি পাওয়া যায়। এজাহারে ঘটনার তারিখ ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো কিছু লেখা