জান্নাতুল ফিরদাউস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
iran israel war misinformation factcheck

‘ইসরায়েলে ইরানের হামলা’ বলে পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য প্রচার

জান্নাতুল ফিরদাউস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি প্রভাব ফেলেছে সামাজিক মাধ্যমে। সংঘাত চলাকালে যুদ্ধের নানা দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এসব ভিডিওর উৎস, ধারণের সময় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাই করা কঠিন। সংবাদমাধ্যমই এমন ক্ষেত্রে আস্থার জায়গা।

নিজেদের সংবাদমাধ্যম হিসেবে দাবি করা নাগরিক আইপি টিভি (Nagorik ip Tv) নামের একটি পেজ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ভিডিও হিসেবে বেশ কিছু ভিডিও প্রচার করেছিল। ডিসমিসল্যাব এমন চারটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে, গত মার্চে সংঘাতের তৎকালীন পরিস্থিতির দাবিতে প্রচার করা হলেও, সেগুলো ভিন্ন সময় ও ঘটনার দৃশ্য ছিল।

প্রথম ভিডিও

২০ মার্চ প্রকাশিত এই পোস্টের বর্ণনায় লেখা ছিল, “ইরা‌নের হা/মলায় লণ্ড/ভণ্ড ই/রা‌য়েল পা/গলপ্রায়!” ভিডিওটির প্রথম ১৫ সেকেন্ডের দৃশ্য মূলত লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের। দৃশ্যগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণে অন্তত ২১৫ জন নিহত, হাজার হাজার মানুষ আহত এবং রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া, জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গেও নাগরিক আইপি টিভির প্রকাশিত ভিডিওর প্রথম ১৫ সেকেন্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২০২০ সালের বৈরুত বিস্ফোরণের পুরানো ভিডিওকে ‘ইরানের হামলায় লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল’ হিসেবে ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে।

Zannatul - factcheck iran israel war misinformation
ইসরায়েলের দৃশ্য বলে ভুয়া দাবি করা ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন (ডানে)।

ভিডিওর ১৬ থেকে ৩০ সেকেন্ড অংশে ব্যবহৃত ফুটেজগুলো অনুসন্ধান করে ২০২৪ সালের ২১ মার্চ তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘টিআরটি ওয়ার্ল্ড’(TRT World)-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে গাজার জাবালিয়া রিফিউজি ক্যাম্পের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে লেখা, ইফতারের ঠিক আগে, একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি পুরো আবাসিক ব্লক ধ্বংস করে দিয়েছে।

ইসরায়েলের দৃশ্য বলে ভুয়া দাবি করা ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং গাজার জাবালিয়া রিফিউজি ক্যাম্পে হামলা নিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিবেদন (ডানে)।

ভিডিওটির ৩১ থেকে ৪৫ সেকেন্ডের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম AlHadath-এর ইউটিউব চ্যানেলে ১৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলির বিভিন্ন অবকাঠামো বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। AlHadath-এর প্রতিবেদনে ব্যবহৃত দৃশ্যের সঙ্গে নাগরিক আইপি টিভির ভিডিওতে ব্যবহৃত ফুটেজের হুবহু মিল পাওয়া যায়।হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে লেবাননে ইসরায়েল একাধিক হামলা চালিয়েছিল।

ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওর (ডানে) স্ক্রিনশট।

দ্বিতীয় ভিডিও

এই পোস্টে লেখা ছিল, “ইরান ভয়ঙ্কর শ‌ক্তিশালী হ‌য়ে উঠ‌ছে! একের পর এক হামলায় গু‌*ড়ি‌য়ে দি‌চ্ছে ইউরোপ, মধ‌্যপ্রা‌চ্যের দেশগু‌লোকে!” ভিডিওটিতে অন-স্ক্রিন টেক্সট হিসেবে লেখা ছিল, “শেষ পর্যন্ত দেখুন; কতটা শক্তিশালী ইরান, ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ইরান, বিস্মিত বিশ্ব একাই লড়ছে পরাশক্তি দেশগুলোর সাথে।” ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটিতে মূলত লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পুরোনো ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটের দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে। 

ভিডিওর ২৩ সেকেন্ড থেকে ৩৯ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের দৃশ্যের কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। লেবাননভিত্তিক স্বাধীন নিউজ পোর্টাল ‘লেবানন ডিবেট’ এর অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২৬ সালের ৭ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। মূল ভিডিওর সঙ্গে এই ফুটেজের হুবহু মিল রয়েছে।

অধিকতর অনুসন্ধানে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’ এবং লেবাননের সংবাদমাধ্যম ‘আল লুবনানিয়া’-এর প্রতিবেদনেও একই ফুটেজ পাওয়া যায়। লুবনানিয়ার এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে নাগরিক আইপি টিভির ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সতর্কতা জারি করেছিল। এটি ইরানের কোনো হামলার দৃশ্য নয়, বরং লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফুটেজ।

ভিডিওটি (বামে) ইরানের কোনো হামলার দৃশ্য নয়, বরং লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফুটেজ (ডানে)।

ভিডিওটির ৩৮ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের দৃশ্যগুলো যাচাই করে দেখা যায়, এগুলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের গাজা উপত্যকার দৃশ্য। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত একটি ছবির সাথে ভিডিওর এই অংশের মিল পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক অভিযানের জবাবে সেদিন অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,৬০০ জনের বেশি আহত হন।

এছাড়া, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর ইউটিউব চ্যানেলে ৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনের সঙ্গেও আলোচ্য অংশের মিল রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ক্যাপশনে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার বহুতল ভবন ‘প্যালেস্টাইন টাওয়ার’ ধসে পড়ার দৃশ্য এটি।

তৃতীয় ভিডিও 

লেবাননের সদর দপ্তরে ইরানের হামলা দাবিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি ভবনে বিস্ফোরণের দৃশ্য। যাচাইয়ে দেখা গেছে, এতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আল-কারদ আল-হাসান নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলার পুরোনো দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

ভিডিওর বিভিন্ন কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এমটিভি লেবানন নিউজে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে লেবাননের আল-কারদ আল-হাসানের একটি শাখায় হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনটির দৃশ্যের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

লেবাননের সদর দপ্তরে ইরানের হামলা বলে ভুয়া দাবি (বামে) এবং বৈরুতে আল-কারদ আল-হাসান আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন (ডানে)।

এ বিষয়ে আল জাজিরায় ৯ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ‘আল-কারদ আল-হাসান’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর আগে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট এই দাতব্য সংস্থার শাখাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আল-কারদ আল-হাসান আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলার দৃশ্য। এটি লেবাননে ইরানের হামলার দৃশ্য নয়।

চতুর্থ ভিডিও

গত ১২ মার্চ প্রকাশিত এই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, “ই.রা‌.নে.র হা*মলায় ই.স.রা‌.য়ে.ল এক ধ্বং*স নগরী‌তে প‌.রি.ণ.ত হ‌য়ে‌ছে। দেখুন কী প‌/রি/ন‌/তি হ‌য়ে‌ছে।” তবে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫২ সেকেন্ডের এই ভিডিওর প্রথমাংশে ছিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলার দৃশ্য। শেষাংশে ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রকৃত দৃশ্য থাকলেও, সেগুলো ২০২৬ সালের কোনো ঘটনার নয়, ২০২৫ সালের।

ভিডিওটির প্রথম ৩২ সেকেন্ডের দৃশ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটা ইসরায়েলের ওপর ইরানের কোনো হামলার দৃশ্য নয়। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ছবির সঙ্গে এই অংশের মিল পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আয়েশা বাক্কার এলাকার একটি বিধ্বস্ত ভবনের দৃশ্য। প্রতিবেদনে বলা হয় লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মধ্য বৈরুতের আয়েশা বাক্কার এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টকে “শত্রুরা লক্ষ্যবস্তু করেছে।” আল জাজিরার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও একই দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্য বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত হন। অর্থাৎ, ভিডিওটির প্রথমাংশটি মূলত লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার দৃশ্য।

ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ভিডিও (বামে) এবং দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রতিবেদনের (ডানে) স্ক্রিনশট।

অন্যদিকে, ভিডিওটির ৩৩ সেকেন্ড থেকে ৫২ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যগুলোর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেগুলো বাস্তবেই ইসরায়েলে ইরানি হামলার, তবে সেগুলো পুরোনো ঘটনার। ২০২৫ সালের ২০ জুন সিএনএন-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তেল আবিবের রামাত গানে ইরানের মিসাইল স্ট্রাইকের পর উদ্ধার কার্যক্রমের দৃশ্য দেখানো হয়, যার সঙ্গে ভিডিওটির শেষাংশের হুবহু মিল রয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে ২০২৫ সালে ১৯ জুন প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, রামাত গানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত হানা একটি স্থান পরিদর্শন করছেন উদ্ধারকর্মী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া স্পেনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম ইএফই-তে একই দিন প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবি ভিডিওর কয়েকটি ফ্রেমের সাথে সাথে হুবহু মিলে যায়। এই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বীরশেবা অঞ্চলে অবস্থিত একটি হাসপাতালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। 

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত একটি বাস্তব ঘটনা এবং এর মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব গভীর। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝাতে ভিন্ন দৃশ্য বা ঘটনার ভিডিও প্রচার সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিরোধী। আবার এ ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে মূল যুদ্ধের ভয়াবহতাকে অস্বীকার না করে ভুয়া খবরের সত্যতা উন্মোচন করাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং।

বিবিসি ভেরিফাই-এর মতে, যুদ্ধের সময় কোনো ভিডিও বা ছবির সত্যতা খণ্ডন করার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, সাধারণ মানুষ ভাবতে পারে ফ্যাক্টচেকাররা বোঝাতে চাইছেন “ওখানে খারাপ কিছুই ঘটছে না।” এই ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সংঘাতের কঠিন বাস্তবতার কাঠামোর ভেতরে রেখেই ফ্যাক্টচেকটি পরিবেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাঠকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়: “মাঠের পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ, কিন্তু এই নির্দিষ্ট ভিডিওটি তার প্রমাণ নয়।”

একইভাবে, আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান যুদ্ধের সময় কোনো কনটেন্টকে সরাসরি ‘ভুয়া’ বলাটা ভুক্তভোগীদের প্রতি অসংবেদনশীল মনে হতে পারে। এর পরিবর্তে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ লেবেলটি ব্যবহার করা অধিক যৌক্তিক। এতে বর্তমান যুদ্ধের শিকার এবং পুরোনো ঘটনার ভুক্তভোগী—উভয় পক্ষের প্রতিই সম্মান বজায় থাকে।

এএফপি তাদের নীতিতে উল্লেখ করেছে, তাদের লক্ষ্য কোনো যুদ্ধ বা হামলা ঘটছে না—এমন দাবি করা নয়; বরং নির্দিষ্ট কোনো মিডিয়া বা ভিডিও ওই ঘটনার সঠিক প্রতিনিধিত্ব করছে কি না, তা নিশ্চিত করা। এছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের (IFCN) ‘প্রেক্ষাপটের মানদণ্ড’-এ বলা হয়েছে, সংঘাতময় পরিস্থিতির তথ্য যাচাইয়ে মূল সত্য ঘটনা বা প্রেক্ষাপট বাদ দিলে তা পাঠককে ‘ভুল সংকেত’ প্রদান করে। তাই বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মূল যুদ্ধ এবং পুরোনো ট্র্যাজেডি—উভয় পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিকতা ও সংবেদনশীলতা বহাল রাখা বাধ্যতামূলক।

আরো কিছু লেখা