নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি, এআই ভিডিও

শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানির নামে যুগান্তরে এআই ভিডিও প্রচার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

দৈনিক যুগান্তরের ফেসবুক পেজে একটি শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানির ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি; এটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও নয়।

দৈনিক যুগান্তর গত ১২ আগস্ট তাদের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করে। পোস্টের বর্ণনায় লেখা, “শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি, অতঃপর।” ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে একজন মেয়ে শিশুকে দেখা যায়, যে কাঁচের অপর পাশে থাকা একটি গরিলা এবং তার সন্তানের সঙ্গে দড়ি ধরে টানাটানি করছে। 

একাধিক (,,,,) ফেসবুক পেজ থেকেও একই ক্যাপশনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। 

ফ্যাক্টচেক শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি, এআই ভিডিও
এআই ভিডিওটি কোনো ডিসক্লেইমার ছাড়া প্রকাশ করে যুগান্তর এবং অন্যান্য ফেসবুক পেজ।

ভিডিওর উৎস যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ফেসবুকে “ইউইরা” নামের একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভেরিফায়েড পেজ পাওয়া যায়। এ পেজে গত ৮ আগস্টে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। যুগান্তরে পোস্ট করা ভিডিওর সঙ্গে এ ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এ পেজ থেকে গরিলা ও শিশু নিয়ে নিয়মিত(,,,) ভিডিও পোস্ট করা হয়। এ ছাড়া,  ওই নির্দিষ্ট ভিডিও পোস্টে এআই লেবেল যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। 

ফ্যাক্টচেক শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি, এআই ভিডিও
কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পেজ থেকে প্রকাশিত এআই ভিডিও।

এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৯৯.৮%। অধিকতর যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে পরীক্ষা করে। গুগল সিন্থআইডি ফলাফলে জানায়, “ভিডিওটির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, এর দৃশ্যগুলো (ভিজ্যুয়াল) গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে। তবে, ভিডিওটির অডিও অংশে কোনো এআই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা যায়নি।”

ফ্যাক্টচেক শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি, এআই ভিডিও
এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন এবং সিন্থ-আইডির ফলাফলের স্ক্রিনশট

রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস (RSF) থেকে প্রকাশিত একটি নীতিমালায় (প্যারিস চার্টার অন এআই অ্যান্ড জার্নালিজম) সাংবাদিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় সাংবাদিকদের এআই কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মৌলিক নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একটি মানদণ্ডে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রকাশিত কনটেন্টের সত্যতা এবং উৎসের নিশ্চয়তা দিতে হবে। যেসব কনটেন্ট এই প্রকৃত উৎস বা প্রামাণিক মানদণ্ড পূরণ করে না, সেগুলোকে সম্ভাব্য ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রকাশের আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে।

আরো কিছু লেখা