সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার নতুন তথ্য মিলেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ফটোকার্ডটি ভুয়া।
গত ২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। জিয়াউর রহমানের ছবিযুক্ত কার্ডের শিরোনাম, “৫৪ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত খালেদা জিয়া মিললো নতুন তথ্য” (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টে লেখা, “কেঁচো খুড়লেই বেরিয়ে আসবে বিষধর সাপ।”

ফটোকার্ডটিতে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের লোগো দেখা যায়। কার্ডের নিচে তারিখ হিসেবে “০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬” এবং সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা উল্লেখ করা আছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ১ হাজার ১০০ এর বেশি, মন্তব্য ছিল প্রায় দুইশটি এবং পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ২৫০ বারের বেশি।
যাচাই করতে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ১ সেপ্টেম্বরের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। দ্বিতীয় ধাপে ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনগুলো যাচাই করা হয়।
যাচাইয়ে দেখা যায় একই ছবি ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ থেকে গত ১ সেপ্টেম্বরে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছিল। তবে ওই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, “৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যায় মিলল নতুন তথ্য।” এই ফটোকার্ডে খালেদা জিয়ার নাম বা তার সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ নেই। মন্তব্যে থাকা লিংকের প্রতিবেদনেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুটি ফটোকার্ড পাশাপাশি যাচাই করে দেখা যায়, ছবি, লোগো ও নকশা অভিন্ন হলেও শিরোনামে তথ্যগত পার্থক্য রয়েছে। মূল ফটোকার্ডের “৪৫ বছর” থাকলেও ছড়ানো ফটোকার্ডে তা “৫৪ বছর”। এছাড়া ছড়ানো কার্ডে করা হয়েছে “৫৪ বছর পর” ও “মিললো নতুন তথ্য”- এই দুটি অংশের ফন্টের রং হলুদ। সংবাদমাধ্যমটির ফটোকার্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, কিছু কার্ডে হলুদ ফন্ট ব্যবহার হলেও, সেসব ক্ষেত্রে ফন্টের আকার মূল শিরোনামের চেয়ে ছোট থাকে। কিন্তু ছড়ানো কার্ডে হলুদ ও সাদা ফন্টের আকার একই।
অধিকতর যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনলাইন ইনচার্জ মাজহার খন্দকার নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড তারা প্রকাশ করেননি।
এর আগেও সংবাদমাধ্যমের নামে সম্পাদিত ভুয়া ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনা অভ্যুত্থানের সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তে নতুন তথ্যের সন্ধান মিলেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।

