সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Women rescued from Mumbai bar basement misrepresented as temple scene.

ইসকন মন্দির নয়, নারীদের উদ্ধারের দৃশ্যটি ভারতের একটি বারের

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইসকন মন্দিরের তলদেশে থাকা পতিতালয় থেকে শত শত নারীদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভারতের মুম্বাইয়ের একটি বারের বেজমেন্ট থেকে নারীদের উদ্ধারের দৃশ্য এটি।

ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ইসকন দের মন্দিরে তলদেশে পতি তালয় শত শত মেয়ে উদ্ধার হয়েছে।এটা হলো একটা মন্দি#র থেকে পুলিশ উদ্ধার করতেছে,ভিডিওটা আমাদের আবাল ভাইদের কাছে পৌছাতে পারেন।” ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বেজমেন্টের ভেতর থেকে মুখ ঢেকে বেরিয়ে আসছেন কিছু নারী। ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু মানুষের কথা ও হাসাহাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। 

Women rescued from Mumbai bar basement misrepresented as temple scene.
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত একাধিক ফেসবুক ভিডিওর স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ২ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৬ হাজার ৩০০-এর বেশি শেয়ার করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ব্যবহারকারী পোস্টে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ (, , , , , ) থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে ঘটনার স্থান উল্লেখ করা হয়নি, তবে কিছু পোস্টে ঘটনাটি ভারতের ইসকন মন্দিরের বলে দাবি করা হয়েছে।

ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর একই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “মাজারের ভিতরে সুরঙ্গ থেকে শত শত মেয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক।” পোস্টে ওই ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মাজারের ভেতরের সুরঙ্গে থেকে বেরিয়ে এলো পরীর ড্রেস পরা শত শত মেয়ে।”

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে নিজেদের সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া “নেশন টুডে”র ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিও ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে। এই ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যের মিল লক্ষ্য করা যায়। পোস্টে বর্ণনায় লেখা, “মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমের ‘দীপা ড্যান্স বার’-এ অভিযান। ১৭ জন বার ড্যান্সারসহ ২২ জন কর্মী গ্রেপ্তার।…”

Women rescued from Mumbai bar basement misrepresented as temple scene.
প্রকৃত ঘটনা নিয়ে প্রাপ্ত ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিনশট (ডানে)।

ডিসমিসল্যাব একটি মারাঠি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ভিডিওটি খুঁজে পায়। শিরোনামের অনুবাদ হলো, “দীপা ড্যান্স বারে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচের গোপন ঘর থেকে ১৭ জন বারবালাকে উদ্ধার করা হয়েছে।”

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (, , ) পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আন্ধেরির দীপা ড্যান্স বারে অভিযান চালানো হয়। ভেতরে একটি গোপন বেজমেন্টে ১৭ জন ড্যান্সারকে পাওয়া যায়। এই ঘটনায় বার ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারসহ কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

Women rescued from Mumbai bar basement misrepresented as temple scene.
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, ইসকন মন্দির বা মাজার থেকে নারীদের উদ্ধারের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি প্রায় ৪ বছর আগে, মুম্বাইয়ের একটি ড্যান্স বার থেকে নারীদের উদ্ধারের দৃশ্য এটি।

আরো কিছু লেখা