সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির দৃশ্য, এই দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি হাইতিতে এল সালভাদরের সেনাদের একটি অভিযানের দৃশ্য।
গত ২৫ অক্টোবর “বিচিত্রা নিউজ” নামের একটি ফেসবুক পেজ ভিডিওটি পোস্ট করে। ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে সেনা পোশাক পরা কিছু ব্যক্তিকে একটি পাহাড়ি স্থানে গোলাগুলি করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, “সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি!”
এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভিডিওটি ২৫০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে এবং ৪ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।
একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক পেজ (১, ২) ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১,২) থেকেও ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
অনুসন্ধানে ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে এক্সে “হেকতর এরেরা কাবরাল” (Héctor Herrera Cabral) নামের একটি অ্যাকাউন্টে গত ২৪ অক্টোবরের একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সে পোস্টে দাবি করা হয়, হাইতির পোর্ট-অব-প্রিন্সের উপকণ্ঠে এল সালভাদরের অন্তত একজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
একই ভিডিও ইউটিউবে “জার্মান রেয়েস” (Germán Reyes) নামের একটি চ্যানেলেও পাওয়া যায়। গত ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিওটিতে “হেকতর এরেরা টিভি” (@Hectorherreratv) নামের একটি ওয়াটারমার্ক দেখা যায়। ভিডিওর ওপর স্প্যানিশ ভাষায় লেখা বার্তা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “এল সালভাদরের সেনা ও হাইতির গ্যাংয়ের মধ্যে পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে প্রথম সংঘর্ষ।”

ফেসবুকে “ল্যাটিন সিটি” (Latin City) পেজের একটি ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া যায়। ক্যাপশনে বলা হয়, নিখোঁজ চার সেনাসদস্যকে খুঁজতে পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠে প্লেইন দু কুল-দে-সাক এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে এল সালভাদরের বিশেষ বাহিনী। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ওই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ডোমিনিকান রিপাবলিকের সংবাদমাধ্যম আলমোমেন্টো গত ২৪ অক্টোবর এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের ছবির ক্যাপশনে লেখা, শনিবার সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় আহত সহকর্মীকে সাহায্য করছেন এল সালভাদরের এক সেনাসদস্য। একই দিনে দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম ফোতুতো ভিডিওটিকে “এল সালভাদরের কথিত এক সেনাসদস্যের আহত হওয়ার ভিডিও” শিরোনামে প্রকাশ করে।

রয়টার্সে ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, তাদের চার সৈন্যকে একটি গ্যাং আটক করে রেখেছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরাতে অভিযান চালাবে দেশটি।
অন্যদিকে, চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এমন গোলাগুলির খবরও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ছড়ানো ভিডিওটি চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যকার গোলাগুলির নয়, হাইতিতে এল সালভাদরের সেনাদের একটি অভিযানের দৃশ্য।

