সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Old Myanmar clash video falsely shared as a Bangladesh Army conflict in Sajek.

মিয়ানমারের দুই বছরের বেশি পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা বলে প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, দৃশ্যটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয় বরং মিয়ানমারের। মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটিতে ২০২৪ সালে রাখাইন রাজ্যের মংডুতে আরাকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

‘ঋষভ ভাট’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং সেনা পোশাকে একদল মানুষকে দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশন বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশের সাজেকের সাম্প্রতিক ফুটেজ। বাংলাদেশের পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।” ভিডিওতে হ্যাশট্যাগ হিসেবে সিএইচটিহিল, বাংলাদেশ, ফ্রন্টালফোর্স এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়, “সম্প্রতি আরকান সেনাবাহিনী (এএ) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের সৈন্যরা উত্তর রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।”

৭ মিনিট ০৮ সেকেন্ডের প্রতিবেদনের ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ড থেকে ৪ মিনিট ০৮ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

Old Myanmar clash video falsely shared as a Bangladesh Army conflict in Sajek.
মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাবতী’তে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে মায়ানমারের দৃশ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

ভিডিও প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মংডু শহরে এই ঘটনাটি ঘটে। শহরটি দখলের জন্য সংঘর্ষ চলাকালে আরাকান আর্মি সামরিক জান্তার একাধিক সেনার পাশাপাশি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির (এআরএ) একাধিক সৈন্যকে বন্দি করেছে, যারা সামরিক জান্তার পক্ষে লড়াই করেছে। এই প্রতিবেদনে তথ্যসূত্র হিসেবে আরাকান আর্মির ইনফো ডেস্কের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, আয়েয়ারওয়াদ্দি টাইমস (Ayeyarwaddy Times) এবং নারিনজারা টিভি নিউজ (Narinjara TV News) নামের দুটি ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা ভিডিওতে একই দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওর শিরোনামে লেমেকনাতে আরাকান আর্মির সঙ্গে সামরিক জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভিডিও দুটি যথাক্রমে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই এবং ১১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছিল। 

অর্থাৎ, সাজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের। ভিডিওটি ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল, অর্থাৎ দুই বছরেরও বেশি পুরোনো।

আরো কিছু লেখা