সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সশস্ত্র ব্যক্তিদের অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি সাজেকের বর্তমান অবস্থা। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের ‘শান্তি বাহিনী’ বলা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি সাজেকের নয়। এটি মিয়ানমারের তানিনথারী অঞ্চলে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (কেএনএলএ) একটি অভিযানের ভিডিও।
গত ২৪ অক্টোবর ফেসবুক পেজ “হাতিয়ার নিউজ” একটি ভিডিও পোস্ট করে। ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে বন ও লোকালয়ের মধ্যে গুলি করতে করতে এগোনোর দৃশ্য দেখা যায়। ক্যাপশনে দাবি করা হয়, “এই হচ্ছে সাজেকের অবস্থা এরা হচ্ছে শান্তি বাহিনী।” (বানান অপরিবর্তিত)
এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটিতে ৪ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া এসেছে। এটি ৩৭০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে এবং ২ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।
ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে ইউটিউবে গত ১২ অক্টোবর আপলোড করা পিপলস স্প্রিং (People’s Spring) চ্যানেলের একটি ভিডিওর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম “KNLA Special Forces say 10 soldiers killed in ambush near 285th Battalion”।
মূল ভিডিওর ওপরের দুই কোণে একটি গোলাকার লোগো রয়েছে। হাতিয়ার নিউজের ভিডিওতে ওই দুই জায়গায় তাদের পেজের লোগো বসানো দেখা যায়। মূল ভিডিওতে বার্মিজ ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘ভিডিও: কেএনএলএ ব্রিগেড-৪ বিশেষ বাহিনী’।
ভিডিওর বিবরণে (ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা) বলা হয়েছে, কেএনএলএ ও মিত্র বাহিনী ১২ অক্টোবর সকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি ফাঁড়িতে হামলা চালায়। স্থান তানিনথারী অঞ্চলের পালাও টাউনশিপ। বিবরণে সাজেক বা শান্তি বাহিনীর কোনো উল্লেখ নেই। শিরোনামে হতাহতের যে সংখ্যা বলা হয়েছে, তা কেএনএলএর দাবি। ডিসমিসল্যাব এটি যাচাই করতে পারেনি।

একই লোগোযুক্ত ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ১৩ অক্টোবর এক্সে পোস্ট করে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ‘ওয়ার নুয়ার’ (War Noir, @war_noir)। পোস্টে (ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা) বলা হয়, কেএনএলএ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
কেএনএলএর রাজনৈতিক সংগঠন কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) ১৩ অক্টোবর তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ১২ অক্টোবর সকালে পালাওয়ের মা গি গন (Ma Gyi Gone) গ্রামের কাছে সেনাবাহিনীর একটি ফাঁড়িতে যৌথ হামলা চালানো হয়েছে। একই দিন ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া গ্রুপ (ডিএমজি)-এর ইংরেজি সংস্করণ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কেএনইউর বিবৃতির বরাতে ঘটনাটি প্রকাশ করে। ডিএমজির পোস্টে ফাঁড়িটিকে একটি প্যাগোডার কাছে বলা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও এমন একটি স্থাপনা দেখা যায়।
মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নিউজলেটার বার্মা কুপ রেজিস্ট্যান্স নোটস (Burma Coup Resistance Notes)-এর ১৭ অক্টোবরের সংস্করণেও ঘটনাটির উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়, ১২ অক্টোবর কেএনএলএ মেরগুই-তাভয় জেলার পালাওয়ের কাছে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালায়।
অর্থাৎ, ভিডিওটি সাজেকের নয়, মিয়ানমারে কেএনএলএর একটি অভিযানের।

