মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Saudi Beheaded Parents Daughter Crying Fact check

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ‘দম্পতির’ মেয়ের কান্নার দাবিতে ভিন্ন ভিডিও ছড়াল বিদেশি সংবাদমাধ্যম

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি ‘দম্পতি’র মেয়ে তার বাবা-মায়ের কবরে মাটি দিচ্ছে, এমন দাবিতে এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে নাইজেরিয়ান সংবাদমাধ্যম। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ভিডিওতে দৃশ্যমান শিশুটি সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত সজল হাওলাদারের কন্যা, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

নাইজেরিয়ান সংবাদমাধ্যম দ্য ইউরুবা টাইমসের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৯ অক্টোবর ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি দম্পতির মেয়েকে তার বাবা-মায়ের কবরে মাটি দিতে দেখা গেছে। এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য পরিবারটির ট্র্যাজেডি সবার সামনে নিয়ে এসেছে। ভিডিওতে মৃতদেহ দাফনের সময় একটি কন্যাশিশুকে কাঁদতে ও কবরে মাটি দিতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গত ২৬ মে ‘‘সাউন্ড নিউজ ২৪’’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। “মোর বাপরে মাটি দিমু কেমনে, মেয়ের কান্না দেখে, সবাই কেঁদে দিলেন” শিরোনামের ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

একই দিনে ওই পেজে “রেমিটেন্স যোদ্ধা দুর্ঘটনায় নিহত সজল বাবার একমাত্র ছেলে, আবার সজলেরও একমাত্র কন্যা রয়েছে, আল্লাহ তাআলা সজলকে জান্নাতবাসী করুক” শিরোনামে প্রকাশিত ৩ মিনিট ২ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে শিশুর কান্নার দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা কান্নারত শিশুর দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে গত ২৭ মে ভোরের কাগজের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ সজল হাওলাদার সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। গত ২ মে মাথার ওপর গাছ ভেঙে পড়লে মারা যান তিনি। গত ২৫ মে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং ২৬ মে জন্মস্থান শরণখোলায় দাফন করা হয়।

‘সাউন্ড নিউজ ২৪’ নামের ফেসবুক পেজ ও ভোরের কাগজের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

নিশ্চিত হতে প্রতিবেদনটির লেখক মোঃ শামীম হাসান সুজনের সঙ্গে কথা বলেছে ডিসমিসল্যাব। তিনি নিশ্চিত করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তারই ধারণ করা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সিতি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে তাদের নবদম্পতি বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে নজরুলের মা রহিমা বেগম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন, এই খবর ভিত্তিহীন। নজরুল সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন, তবে সিতি তার স্ত্রী নয়। 

অর্থাৎ, সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী সজল হাওলাদারের দাফনের সময় তার শিশুর কান্নার পুরোনো ভিডিওকে ‘সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতির কবরে মেয়ের মাটি দেওয়ার দৃশ্য’ দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

আরো কিছু লেখা