সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি রাজ্যের মালদহ জেলায় একটি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে ওই স্কুলের এক কর্মকর্তার হাতাহাতির দৃশ্য।
ফেসবুকে একটি প্রোফাইল থেকে গত ২৪ আগস্ট ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক নারীর সাথে স্কুলের পোশাক পরা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতাহাতি ও মারামারি চলছে। আরেক ব্যক্তি এসে থামানোর চেষ্টা করছেন। পোস্টে লেখা ছিল, “সুশীল সমাজ কই,,সুদখোর ইউনুস থেকে তারেক রহমান পর্যন্ত ২৪ এর সাদ দারুন ভাবে উপভোগ করছে বাংলাদেশ,,,!! জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের মধ্যে হাতাহাতি, আহা,,,,বাংলা দেশ,,,”।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটি এক শতাধিকবার শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “সুশীল সমাজ কই জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের হাতাহাতি, ঘিরে চাঞ্চল্য আহ বাংলাদেশ।”
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে (১, ২, ৩, ৪) ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ভিডিওটির বিভিন্ন কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে। এতে গত ২২ আগস্ট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কলকাতা নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ওই প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “স্কুল শংসাপত্র নিয়ে মহিলা অশিক্ষক কর্মী -ছাত্রদের হাতাহাতি।”
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার। মালদহের বামনগোলার জগদলা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ২১ আগস্ট ট্রান্সফার সার্টিফিকেটে নাম সংশোধন নিয়ে বিদ্যালয়ের করণিক প্রতিমা মন্ডলের সাথে ছাত্রছাত্রীদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জগদলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এক প্রাক্তন ছাত্র তার বর্তমান সংশোধিত নাম অনুযায়ী সার্টিফিকেট দাবি করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, স্কুলের সরকারি নথিতে যে নাম রয়েছে, সেই নাম অনুযায়ীই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এতে করণিকের সাথে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর কথা কাটাকাটি হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওতে বাংলাদেশে শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মারামারির দাবিটি সত্য নয়। ভারতের মালদহে এক স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য এটি।
ইতঃপূর্বে ভারতের একাধিক ভিডিও বাংলাদেশের ভুয়া দাবিতে প্রচারিত হলে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিসমিসল্যাব।

